
ছেলেটি পাহাড় হতে চেয়েছিল,
নিষ্পাপ পাথরের-সুউচ্চ জঠরের মতো।
শুভ্র সাদা-তুষারের আচ্ছাদনে পাহাড়ের
বুকে লেপটে থাকার স্বপ্ন দেখে মেয়েটি।
যৌবন দীপ্ত সূর্যের উষ্ণতায় জেগে উঠতেই
জলের স্নিগ্ধ ধারায় গড়িয়ে যাবে সে,
পাহাড়ের সমস্ত শরীর জুড়ে-রাতের আকাশের জোছনারা
পূর্ণিমার ঢেউয়েরা আছরে পড়বে তার কলিজায়।
ছেলেটি মেঘ হয়ে দূরত্ব খুঁজেছিল। তবুও,-
লক্ষ-কোটি জলের বাষ্পকণা হয়ে-
তার বুকেই আশ্রয় নিয়েছিল মেয়েটি।
বিমূর্ত আকাশের স্পর্ধিত প্রান্তরে
ঘুরে উড়ে কাটছিলো তাদের যুগল সন্ধিক্ষণে,
ঘাস-ফড়িঙয়ের মাতামাতি প্রহরেরা।
বৈরি প্রকৃতির অমোঘ নিয়তি
সূর্যকে লেলিয়ে দিলো তাদের পিছে-হাবিয়ার উত্তাপে !
মেঘের বুকে লুকিয়ে থাকা মেয়েটি
তখন বৃষ্টির ধারায় ঝরে পড়ে সমুদ্রের বুকে।
সেই থেকে ছেলেটি,জলের তৃষ্ণায় ছিন্ন মেঘের ভেলায়
ভেসে বেড়ায় আকাশে আকাশে,
জলহীন মেঘের তৃষ্ণার্ত তটরেখার মতো…।
কখনও উন্মত্ত বিনাশে ফিরে আসে ছেলেটি,
ক্ষোভে-দ্রোহে কাল-বৈশাখী ঝড় হয়ে,
ছিন্ন-ভিন্ন করে দিতে চায় পৃথিবীর মানচিত্র।
সমুদ্রের সীমাহীন প্রান্তরে মিশে থাকা বৃষ্টির জল-মেয়েটি,
প্রতি পূর্ণিমায় অপেক্ষা করে মেঘেদের সওয়ার হতে,
জোছনারা প্রতিবার ফিরে ফিরে যায়-
মেয়েটির তবু ছোঁয়া হয়না-মেঘের শরীর।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



