
ছোট ছোট সাধ ছিল, ছোট ছোট প্রাণে
হৃদয়টা বড় তাঁর, সকলেই জানে।
আমাদের গ্রাম ছিল শান্তির নীড়
মধুমতি ধানসিঁড়ি ঝিনায়ের তীর ।
এক চাওয়া সকলের, এক আকাশ আশা
হৃদয়ের খাল বিল, ভরা- ভালোবাসা।
ফুটত রবির হাসি- সকালের রোদে,
রাত হেসে গড়াগড়ি- জোছনার ফাঁদে।
ধর্মের ভাগ আর রাজনীতি ভেদ
কেউ হেথা খুঁজতোনা- হিংসের ক্লেদ,
রুপবান বেহুলারা বনবাস ছেড়ে
ঘর বেঁধেছিল হেথা, এইগ্রাম- তীরে।
প্রকৃতিও মিশে ছিল, মানুষের মত
আম জাম জামরুল- গাছ ছিল যত,
রাম জন রহিমেরা সেথা ভাই ভাই
একসাথে মন্দিরে- ঈদগাহে যাই।
মুক্তির সংগ্রামে গ্রামবাসী মিলে
আশ্রয় নিয়েছিল, মায়ের আঁচলে,
গড়েছিল প্রতিরোধ, কাঁধে কাঁধ একতা
শত্রুরা পরাভূত –উড়েছিল পতাকা।
আমাদের গ্রাম আজি, মস্ত শহর...
এক ছাদ তলে থেকে- সকলেই পর,
পাড়ার বিপদে কারো, কেউ ছুটে না
শান্তিরা গৃহত্যাগী- সুখ জুটে না।
আমাদের ছেলেরা সে গ্রাম দেখেনি
মিলেমিশে থাকা কি-তা, তারা শিখেনি,
আমলীগ বিম্পি দুই দলে ভাগ,
ক্ষমতার মোহে ছুটে, ভুলে সব ত্যাগ।
এখানে রমণীগুলো নদীর বদলে
জীবনের স্বাদ খুঁজে- শাওয়ারের জলে,
যমুনার বুক চীরে ব্যস্ত সড়ক
যন্ত্রের দাপাদাপি- অচেনা নরক।
সবক’টা জনালা কেউ খোলে না
ওরা এসেছিলো কি তা, কেউ জানে না।
সে খবর বেচাকেনা পণ্যের দর
চেতনায় হাওয়া পায়- শাসনের বর।
সালাম আর রফিকের আত্মার দান
লাখো কোটি স্রোত ধারা- রক্তের বান,
সেই সুর প্রেরণায়, আর বাজে না-
সেই গ্রামে স্বপ্নটা, আর সাঁজে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

