ডা. আশিক আহমেদ গাজী
যুদ্ধটা বুঝি এড়ানো গেল না। বিশেস্নষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, পানি নিয়েই হবে আগামী দিনের রাজনীতি, আগামীর সংঘাত, আগামী যুদ্ধ। অভিন্ন নদীর হিস্যা ভাগাভাগি নিয়ে অসহিষ্ণু জাতিগুলো ক্রমশই সরে যাচ্ছে আলোচনার টেবিল থেকে, দর কষাকষির এক পর্যায়ে বাড়ছে হুমকি, ধামকি। চারপাশ থেকে টুটি চেপে ধরছে চিরচেনা প্রেসার গ্রম্নপ।
কি গুণ আছে তোমার
পানি....। শারীরবৃত্তীয় অধিকাংশ রাসায়নিক বিক্রিয়ার অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম, হোক না সেটা প্রত্যৰ কিংবা পরোৰ। মানব শরীরের গঠনগত উপাদানের 50-70% পানি। সরল হিসাবে যা দাঁড়ায় প্রায় চলিস্নশ লিটারে।
বেঁচে থাকা হলো দায়
শরীরে সঞ্চিত স্নেহ পদার্থ ভাঙতে শুরম্ন করে যখন একটা উলেস্নখযোগ্য সময় কোন ধরনের খাবারই গ্রহণ করছে না। অবাক হলেও সত্যি এটি আট সপ্তাহ পর্যনত্দ বাঁচিয়ে রাখতে পারে। পানির ৰেত্রে বড়জোর দুই থেকে তিন দিন। কেননা পানি জমিয়ে রাখা যায় না। ভারসাম্য রৰা করে শরীরে আছে বিভিন্ন ধরনের আপেৰিক প্রকোষ্ঠ বা কম্পার্টমেন্ট, যেখানে তরল পদার্থ আর ইলেকট্রোলাইট ভেসে বেড়ায়। এরা সব সময় নিজেদের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো আদানপ্রদান করে শরীরের অভ্যনত্দরীণ পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন অন্যতম কাজ রেচনতন্দ্র নিপাকের ফলে উৎপন্ন অনাকাঙ্তি ও বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। প্রোটিন ভেঙে উপজাত হিসেবে তৈরি ইউরিয়া এদের মধ্যে অন্যতম। কখনও শীতল কখনও উষ্ণ পানি ধীরে ধীরে তাপমাত্র পরিবর্তনের ৰমতা রাখে। কেননা এর আছে তাপ ধরে রাখার আশ্চর্যরকম ৰমতা। খাদ্যের রাসায়নিক শক্তির শতকরা ষাটভাগ সরাসরি শরীরের তাপে পরিবর্তিত হয়। বাকি চলিস্নশ ভাগ শক্তির ভিন্ন ভিন্নরূপে আত্মপ্রকাশ করে। যদি তাপ শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বের হতে না পারত, সেৰেত্রে শরীরের এনজামি সিস্টেমগুলো ঠিকমত কাজ করতে ব্যর্থ হতো। ভেবে দেখুন, আপনি সত্যিই কতটা ভাগ্যবান।
কতটা পানির প্রয়োজন
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতি এক কিলোক্যালরির শক্তির জন্য এক মিলিলিটার পানি পান করতে হয়। সারাদিন চবি্বশ ঘণ্টায় নির্ভেজাল পানি অথবা বিভিন্ন তরল যেমন ফলের রস, চা, কফি, কোমল পানীয় যোগান দেয় এক লিটার পানি। বিভিন্ন ধরনের খাবার থেকে আসে আরও এক লিটার। বিপাকের মাধ্যমে উপজাত হিসেবে আনুমানিক তিনশত পঞ্চাশ মিলিলিটার পানি আসে। সব মিলিয়ে এই হলো আড়াই হাজার কিলোক্যালরি খাদ্যের জন্য আড়াই লিটার পানির সহজ হিসাব।
কৌশলগত ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান, প্রতিবেশী বৃহৎ শক্তির চোখ রাঙানি আর আক্রমণাত্মক ভূমিকা আমাদের অস্থিত্বের ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় এক জাতি। চোখের সামনে বদলে গেছে চিরায়ত বাংলা, বদলে গেছে পরিবেশ প্রতিবেশ, থমকে গেছে প্রাণের জোয়ার। আবার দেখুন, গ্রিনহাউজ ইফেক্টের মাধ্যমে বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমশ বেড়ে চলছে। 'আরও আছে সুনামির ভয় হয়তো বা মানুষ করবে জয়।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



