বড়দের পাতা
কদম ফুল
আবুল হোসেন আজাদ
বৃষ্টি ভেজা সবুজ পাতা
দুলছে বায়ে দুল,
বর্ষা এলো তাই ফুটেছে
গাছে কদম ফুল।
দেখে যে তার হলুদ রূপের
যায় জুড়িয়ে চোখ,
ভালোবাসে বৃষ্টি দিনে
তাকে প্রতি লোক।
মৌমাছিরা ভিড় করে যে
কদম ফুলের কাছে,
ঝাঁকড়া মাথায় নুয়ে থাকা
লম্বা কদম গাছে।
বৃষ্টি ঝরে টাপুর টুপুর
বৃষ্টি তোলে ছন্দ,
থোকা থোকা কদম ফুলে
লাগে নাতো মন্দ!
মিষ্টি-বিষ্টি
সরদার আবদুর রহমান
বিষ্টি নিয়ে
মিষ্টি ছড়া
সিষ্টি হবে
লিস্টি ছাড়া।
মিষ্টি নিয়ে
সিষ্টি ছাড়া
কাণ্ড কতো
করছে তারা।
বিষ্টি দিনে
মিষ্টি খায়
বিজলি দেখে
চমকে যায়।
সময়গুলো
কামাল হোসাইন
দূরের বনে ডাহুক যখন আমায় ডাকে
তখন কি আর মনটা বলো মনে থাকে
মনটা তখন বাইরে যাবার আহ্বানে
কেমন করে বুকের মাঝে হৃদয় জানে!
উথালপাতাল ঢেউ টলমল মনটা আমার
ইচ্ছে করে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামার
দশতলার ওই পূর্বপাশের জান্লাটাকে
ঠিক মনে হয় সেই আমাকে আটকে রাখে।
দোয়েল যখন মিষ্টি সুরে শিস দিয়ে যায়
বাগান জুড়ে ফুলরা ফুটে ডাক পাড়ে, আয়
রঙিন ডানার প্রজাপতি দেয় ইশারা
আয়রে খোকা ওই এসেছে মুন-তিশারা'।
তবু আমি বন্দি হয়ে ঘরের মাঝে
সময়গুলো যায় গড়িয়ে সকাল-সাঁঝে
তাহলে কও কেমন করে বড়ো হবো
বড়ো হলেও মনের কাছে ছোটই রবো
অথচ সব বড় হবার স্বপ্ন দেখাও
আটক থেকে কে বড় হয়; কে বড় হয়?
বন্দি থেকে কে করেছে বিশ্ব জয়?
এই মন
মঈন মুরসালিন
এই মন কখনও বা আকাশের নীল
কখনও বা ছুটে চলা ডানা মেলা চিল
এই মন কখনও বা সূর্যের টিপ
কখনও বা ঝলমলে জোসনার দ্বীপ।
এই মন কখনও বা তিতাসের কূল
কখনও বা বাগানের সুরভিত ফুল
এই মন কখনও বা রাখালের বাঁশি
কখনও বা শিশুদের নির্মল হাসি।
এই মন কখনও বা পাখিদের গান
কখনও বা সাগরের ঢেউ কলতান
এই মন কখনও বা সবুজের বন
এই মনে খুঁজে পাই সুখের কাঁপন।
বর্ষাকালে
নজরম্নল ইসলাম শানত্দু
বর্ষাকালে মেঘলাকাশে
মেঘ পরীদের হানা,
এই ঋতুতে ঝরতে থাকে
বৃষ্টি দানায়-দানা।
গজিয়ে ওঠে লতাপাতা
থোকায় থোকায় ব্যাঙের ছাতা
কলমি ফুল ও শাপলা হাসে
বিলের চারিধারে!
বিজলি দেখে চমকে উঠি
মেঘের ডাকে থমকে উঠি
মায়ের অাঁচল নেই জড়িয়ে
কোমল অধিকারে।
বৃষ্টি
সিদ্দিক আবু বকর
বৃষ্টি বৃষ্টি, কি দারম্নণ কৃষ্টি
আকাশের দূত হয়ে
মেঘেদের সুর হয়ে
আজ বুঝি সারাদিন ঝরবে!
বৃষ্টি বৃষ্টি, টক ঝাল মিষ্টি
বর্ষার কাল ধেয়ে
কদমের গাল বেয়ে
বুক ভরা আদরে, সবুজাভ চাদরে
কচুপাতা পালকিতে বোন বুঝি চড়বে।
কলকল বাঁশিতে
ছলছল হাসিতে
নয়া পানি চারপাশে টলমল করবে
বৃষ্টিতে সবটাই আজ বুঝি ভরবে
পৃথিবীটা পলে পলে গড়বে
তাই বুঝি টুপটাপ সারাদিন ঝরবে!
বর্ষা
সোহেল মলিস্নক
বর্ষাকালে বৃষ্টি আসে
টাপুর টুপুর ছন্দ
তাতেই আমি পাই যে খুঁজে
হৃদয় ভরা নন্দ।
মেঘের ভয়ে কেউ যদি ভাই
জানলা রাখে বন্ধ
তা হলে কি পাওয়া যাবে
বর্ষার রূপ-গন্ধ!
শ্রাবণের ঢল
সামুয়েল মলিস্নক
দামাল ছেলের দল
আছে দেখো চেয়ে
ফিরবে ঘরে তারা যে
বৃষ্টিতে আজ নেয়ে।
ফেরেশতা বুঝি ওই
খুলে দিল কল
আকাশটা ফেটে নামে
শ্রাবণের ঢল।
একটানা শুনা যায়
রিমঝিম সুর
জানালায় বসে খোকা
ভাবনায় চুর।
কাশবন বাঁশবন
কানাকানি করে
সবুজতা বাঁচাতেই
বৃষ্টিরা ঝরে।
রিমঝিম বৃষ্টিতে
শৃঙ্খলা ছন্দ
কোন্দল নেই কোনো
কোলাহল দ্বন্দ্ব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



