somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অহেতুক অবরোধের বদলে.....

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল আমার বেশ আশ্চর্য লেগেছিল, এত দিনের আন্দোলনের ধারার বিপরীতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহনের যৌক্তিকতা নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। এটাকে আমার বড় ধরনের একটা রাজনৈতিক ভূল মনে হয়েছে। চার দলীয় জোটের রাজনৈতিক কুটচালে ভোটার তালিকা সংশোধনের মূল কাজটা সম্পন্ন হলো না। বিভিন্ন অপ্রধান ইস্যু নিয়ে কালক্ষেপন করে অবশেষে যখন নির্বাচনের তফশীল ঘোষিত হলো তখন ভোটার লিষ্টে অবৈধ ভোটারের সংখ্যা কমে নি বরং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রহেলিকাময় পদক্ষেপ গ্রহন করা হলো।
২৬শে ডিসেম্বর কিংবা ২৭শে ডিসেম্বর দৈনিকে নির্বাচন কমিশনের একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়েছে ৮ই ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এজেন্ট যাবে বাড়ী বাড়ী, সকল নাগরিককে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে। এমন নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দিহান হতে হয়। এর মাঝেই এরশাদ সম্পর্কিত নাটক প্রচারিত হলো পল্টন ময়দানে, তার নিরুদ্দেশ থাকা এবং ১৪ দলীয় জোটের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষ্মা চাওয়ার পর আকস্মিক ঘোষনা নির্বাচনে যাবে মহা ঐক্য জোট। এটা কোনও রকম রাজনৈতিক বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয় নি আমার।
ঈদের সময় আবার শেরাটনে সংবাদ স্মমেলন করে শেখ হাসিনা ঘোষনা দিলেন মহা ঐক্য জোট নির্বাচনে যাবে না। সংবিধান নিয়ে অসাংবিধানিক দলের উল্লাস এবং কূম্ভীরাশ্রু বিসর্জন যতই জঘন্য দৃশ্য হোক না কেনো বাংলাদেশের পঙ্কিল রাজনীতিতে এটাই শোভন দৃশ্য। যদিও বিভিন্ন দেশ বারংবার নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতার শর্ত হিসেবে সবগুলো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনকে মাপকাঠি বিবেচনা করছেন এর পর নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে আওয়ামী লীগের অহেতুক অবরোধ চাপিয়ে দেওয়ার কার্যকরণ বোধগম্য হলো না আমার।
নির্বাচন হওয়া কিংবা না হওয়া এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে না। সচেতন ভাবে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো রাজনীতি আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সস্তা করে ফেলে।নির্বাচন যদি মহা ঐক্য জোট বয়কট করে তাহলে যে নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হবে না এ সত্য জানার পরও নির্বাচন বানচাল করার আগ্রহ ঠিক সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের উচিত ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন কোনো রকম বাধা বিপত্তি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা। বরং তাদের মনযোগ দেওয়া উচিত ভোটার তালিকা সংশোধন করার কাজে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দিয়ে একটা ভোটার তালিকা তৈরি করার কাজে মনযোগ দেওয়া উচিত লীগের। কাজটা তেমন কঠিন কিছু না, প্রতিটা ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করে কারা কারা বাদ পড়েছে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা, ভূয়া ভোটারদের নাম-তালিকা লিপিবদ্ধ করা এবং এই তালিকা সম্পূর্ণ করে তা নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার কাজটা হবে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এতে তাদের হাতে সাম্ভাব্য ভোটারদের একটা তালিকা থাকবে। তারা এই তালিকা সংগ্রহ করে সবগুলো ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিতে পারে।

আপাতত তাদের এর বেশী কিছু করার নেই। আরো কিছু দাবী নিয়ে তারা একটা আন্দোলন শুরু করতে পারে যেখানে ভোটারদের ছবি সম্বলিত কার্ডের দাবী থাকবে। যেনো কোনো ভাবেই জাল ভোটার নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে না পারে। যদি আওয়ামী লীগ ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচনে কোনো বাধা না দেয় তাহলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং তাদের ষোলো আনা লাভ। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে একটা পরিচিতি আসবে মহা ঐক্য জোটের। এবং যেহেতু অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন করে নি এমন একটা নির্বাচন কোনো মতেই গনতান্ত্রিক বিবেচিত হবে না তাই খুব তাড়াতাড়ি আবার একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং তখন সংশোধিত একটা প্রাথমিক ভোটার তালিকা থাকবে লীগের হাতে। এবং যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে চার দলীয় জোট নির্বাচনে পরাজিত হবে।
এর বদলে যদি এখনকার ঘোষিত ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকে তবে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল ভোটার কমবে সময়ের সাথে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×