somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপ বাক
বাউন্ডুলে কথন

পঠিত সংবাদের প্রতিক্রিয়া - এদের আসলে কি নামে অভিহিত করা যায়?

০৩ রা মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজেদের নীচতায়, নিজেদের হিংস্রতায় বিষন্ন বিমুঢ় নির্বাক হয়ে যাই সময় সময়, কখনও নির্মম আক্রোশ অনুভব করি।কখনও নৃশংস অমানবিক বর্বর আচরণ করতে ইচ্ছা করে।
গুয়ানতামো বেতে বন্দী নির্যাতন হচ্ছে এইসব বন্দী নির্যাতনের বিষয়ে পড়তে গিয়ে বন্দী অপরাধী ও রাষ্ট্র বিরোধীদের নির্যাতনের অতীত বর্তমান নিয়ে পড়েছিলাম মাঝে বেশ কয়েক দিন। আফ্রিকার আদিবাসীরা যুদ্ধবন্দীদের ধরে কেটে খেয়ে ফেলে- তবে এর পেছনেও একটা কুসংস্কার ভিত্তিক ব্যাখ্যা আছে-
মধ্যযুগে ইউরোপের বন্দী ও রাষ্ট্র দ্রোহীদের নির্যাতনের যান্ত্রিক কৌশল কিংবা সভ্যতায় অগ্রসর- অবধারিত ভাবে অসভ্য বর্বরতায় অগ্রসর চীনের অনুসৃত বন্দীদের নির্যাতন কৌশলের বর্ণনা পড়ে হতবাক, শিউরে উঠেছি।
আধুনিক যুগে বন্দী আর অপরাধীদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা যখন পড়া শেষ হলো তখন মানুষ কতটা নির্মম নৃশংস হয়ে উঠতে পারে তার একটা দলিল পেয়ে আশ্বস্ত হলাম অন্তত আত্মঘাতীরা সে পরিমাণ বর্বর না- তারা শরীরে বোমা বেঁধে অনেক লোককে নিয়ে মরলেও সেটা ওয়ান শট প্রসেস- সুইচ চাপো ইতিহাস হয়ে যাও।
বন্দী নির্যাতনে প্রথম ১০টা দেশের ভেতরে ২টো বাদে সবগুলোই মুসলিম অধ্যুষিত দেশ- কাতার সৈদি আরব সিরিয়া পাকিস্তান উপরের দিকে জ্বলজ্বল করছে-এটা কি প্রমাণ করে মুসলিমরা অধিক আইনী নির্যাতন করে, তারাই অধিক নৃশংস? তারা এমন কাজ করে যেতে পারে এর অনুপ্রেরণা কি তারা সুন্নাহ কোরান থেকে পায়? না কি তারা দোযেখের কল্পিত বর্ণনাকে বাস্তবায়ন করতে চায় পৃথিবীর বুকে?

তবে আইন বহির্ভুত বিচার বিভাগীয় হত্যার তালিকা তৈরি করলে বাংলাদেশ অনায়াসেই সেখানে প্রথম ৫ জনের একজন হতে পারবে।
তবে আজকে মনে হচ্ছে সবগুলো বর্বর নির্যাতন ব্যবস্থাও আসলে যথেষ্ঠ না, আরও নির্মম আরও নৃশংস আরও যন্ত্রনাদায়ক হত্যা প্রক্রিয়া আবিস্কার করা প্রয়োজন, অনেক সময় ফাঁসী কিংবা মৃত্যুদন্ড অনেক হালকা শাস্তি হয়ে যায়।

বাংলাদেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর নারী লোলুপতা, অর্থ লোলুপতা এবং আইন ভঙ্গে পারদর্শীতা নিয়ে অনেক বার আলোচনা হয়েছে- আমার মনে হয় এই সব বিচার বহির্ভুট ক্রাস ফায়ার আর এনকাউন্টারে মৃত্যু ঠেকাতে আরও কঠোর বিধি জারি করা দরকার- যেসব ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এসব কাজে যুক্ত থাকবে তাদের সরাসরি ফাঁসী-
যেদিনই ক্রস ফায়ারের ঘটনা ঘটবে- সেদিনই যে সকল পোকজন সেই বন্দীকে নিয়ে বের হয়েছিলো তাদের ক্লোজ করে হত্যার চার্জশীট দাখিল করো- তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দাও- তারা যদি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে পারে যে বন্দী পাগল ছিলো তাই সে লাইন অফ ফায়ারে ঝাঁপ দিয়ে পড়েছিলো তবেই তাদের রেহাই- নতুবা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ফাঁসির আদেশ দাও- বাংলাদেশে ফাঁসীর দড়ির কমতি নেই আরও অন্তত ১০০০ জনকে এখনও ঝুলানো যাবে।
পুলিশি হেফাজটে গনধর্ষণের শিকার হওয়া তরূনীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার এবং অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে তেমন শক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় নি। এই মেয়েটিকে নিরাপত্তা হেফাজটে রেখে টানা ধর্ষণ করা হয়েছে- মেয়েটা গর্ভবতী- সরকারের শৃংখলা রক্ষায় জন্ম নেওয়া এ শিশুটি কত রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় এটা আমাদের জানা প্রয়োজন।

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরন পোষণের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতে হবে অভিযুক্ত ধর্ষককে- এমন একটা আইনী বিধান আছে- অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এ শিশুটিকে সরকারী বেতন ও অন্যান্য ভাতা খাতে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। যেহেতু প্রশাসন ধর্ষকদের নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আগের মৃদু অভুযোগগুলো অবজ্ঞা করে গেছে তাই এর দায় সম্পূর্নই বর্তায় প্রশাসনের উপরে। অভুযুক্ত পুলিশদের ফাঁসী দেওয়া হোক এবং তাদের সমুদয় বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি এমন কি পেনশনের উত্তরাধকারী করে দেওয়া হোক এ শিশুকে- এই শিশুর পিতা ধর্ষক বাংলাদেশ।
এ সংবাদ পড়ে আহত হয়েছি- বিমর্ষ হয়েছি- প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় এভাবে আরও কত ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে সরকার সচেতন হবে এমনটা ভাবতে চেয়েছি- সীমা ইয়াসমিনের পরও এমন ঘটনা ঘটেছে- আবারও ঘটলো কয়দিন আগেই- তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেব অপমানিত বোধ করলেও আমি চাইলেই আমার নাগরিকত্ব খারিজ করে দিতে পারি না- তাই অপরাধপ্রবণ ভাবেই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের লজ্জা বহন করছি।

নির্মম আক্রোশ অনুভব করেছি যে সংবাদ পড়ে , যে সংবাদ পড়ে মনে হয়েছে মানুষের উদ্ভাবিত যাবতীয় নির্যাতন কৌশলও যথেষ্ট নয় এর যথাযোগ্য শাস্তি নির্ধারণে সে ঘটনা ঘটেছে ভৈরবের একটি ক্লিনিকে।
গর্ভে শিশু মরে গেলে মৃত শিশুকে গর্ভচ্যুত করতে অস্ত্রোপচার করতে হয়- এটা না করলে মায়ের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে-
ভৈরবের অর্থলিপ্সু এক ক্লিনিক কর্মচারী কর্মকর্তারা নিজেদের অর্থ লিপ্সার নির্মমতায় কংসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে- সেখানে যতজন মাতা যেতো সন্তান জন্ম দানের জন্য তাদের ভেতরে মক্কেল খুঁজে বের করে সেই কর্মচারীরা মা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বলতো গর্ভার শিশুটি মরে গেছে- এখন মাকে বাঁচানোর জন্য অপারেশন করা দরকার-

এ সময়ে তাদের মানবিক চেহারা বের হয়ে আসতো- রোগীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করলে ১০- ১৫ হাজার টাকা লাগবে এছাড়াও যাতায়ত খরচ আছে- আমরাই বরং ৫-৭ হাজার টাকা দিয়ে অপরেশনটা করে ফেলি।
এর পর তারা মায়ের অস্ত্রোপচার করতো এবং গর্ভস্থ শিশুকে হত্যা করতো। আমি ভাবতেও পারি না মানুষ এমন অর্থলিপ্সু নৃশংস হয়ে কিভাবে গর্ভস্থ শিশুকে হত্যা কে? কিভাবে তারা একটি প্রায় পরিপূর্ণ ভ্রুণকে কেটে টুকরা টুকরা করে- এমন নৃশংসতার উপযুক্ত শাস্তি কখনই ফাঁসী হতে পারে না।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×