somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসুস্থ শিক্ষাব্যবস্থাঃ গিনিপিগ ছাত্রসমাজ

০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহুতদিন পর কোন সিরিয়াস বিষয় নিয়ে লিখতে বসলাম। বিষয় অবশ্যম্ভাবীভাবেই শিক্ষাব্যবস্থা। কারণ এর প্যারাটাই গত কয়েক মাসে সবচাইতে বেশি খাইতে হইছে এবং সামনেও খাইতে হবে।

আমাদের দেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলা আসলেই পাংখা। তাহারা প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বহুত হাউকাউ করলেও এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নের রেজাল্টরেই সবচাইতে বেশি মূল্য দেয়। এইটা নিয়ে কারো হাউকাউ নাই। বিশেষত ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিগুলো। যদিও তারাই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সবচাইতে বেশি হাউকাউ করেছে কিন্তু তারাই ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে জিপিএ কে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেয় আর নির্দিষ্ট জিপিএর নিচে কাউকে পরীক্ষা দিতে দেয় না। ফেল করা ছেলে ডাবল গোল্ডেন পাইলেও তার পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা আছে আর সারা জীবন ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়া ছেলে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক সাব্জেক্টে এ+ মিস করায় তার সেখানে পরীক্ষা দেবারই যোগ্যতা নেই! অর্থাৎ সে সেখানে পড়ার যোগ্য না অযোগ্য সেটা প্রমাণ করার সুযোগটাও তাকে দেয়া হচ্ছে না। অথচ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্য ছেলে এই বালের পরীক্ষার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করেই পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাচ্ছে যদিও সে জীবনের ক্লাস পরীক্ষায় ন্যুনতম পাশ নম্বরটাও উঠাতে পারতনা।

এই অ্যাডমিশনের টাইমটা বড়ই অদ্ভুত! এ যেন নিজের স্বপ্নগুলো একে একে মরতে দেখার এক সময়। নিজের স্বপ্নগুলোকে এক এক করে মরতে দেখে ছেলেটি বা মেয়েটি স্বপ্ন দেখতেও বড্ড ভয় পাই। নতুন করে স্বপ্ন দেখাটা যেন নতুন করে আরেকটি স্বপ্নভঙ্গের জন্ম দেয়া! এক একটা পরীক্ষা যায় আর তার স্বপ্ন দিক চেঞ্জ করে। কিন্তু একসময় সে দিক ভুলে এক পথহারা পথিক হয়ে যায়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জিপিএ কম থাকায় সে অনেক ভার্সিটিতে পরীক্ষায় দিতে পারছে না। আবার অনেক সময় দেখা যায়, ভাল পরীক্ষা দিলেও ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য সে ভাল পজিশন করতে পারছে না অথচ অনেক অযোগ্য শিক্ষার্থীও ভাল পজিশন করছে দুর্নীতি করে। এসব সে সহ্য করতে পারে না। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যায়। আর এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে পরিবারের আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর তীর্যক খোঁচা।

এই শিক্ষাব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কত ছেলে-মেয়ে যে তাদের জীবনের ইতি ঘটিয়েছে সে খবর কি তারা রাখেন? শারীরিক মৃত্যুর কথা তো খুব কমই মিডিয়ায় আসে, কিন্তু মানসিক মৃত্যুর খবর কয়জনইবা রাখেন......

আচ্ছা, তাহলে এ থেকে উত্তরণের উপায় কি? আমি খুব ক্ষুদ্র একজন মানুষ। এ নিয়ে মতামত দেবার মত যোগ্যতা আমার নেই। তারপরেও খানিকটা দুঃসাহস করছি। আজকে জাফর ইকবাল স্যারের লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগল। তিনি সম্মিলিত পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কথা বলেছেন। ওখান থেকেই আমার মাথায় চিন্তাটা আসে। আচ্ছা যদি SAT পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ডের একটা পরীক্ষা বাংলাদেশে নেয়া যেত আর যেখানে সবচাইতে ভাল রেজাল্ট যারা করত তাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকার থেকে বাইরের নামীদামী ভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হত। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষার্থী তাদের স্কোরের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় আর সাব্জেক্ট চয়েস করতে পারত। সেখানে শুধু পরীক্ষার রেজাল্টটা নয় সাথে একাডেমিক রেজাল্টও বিবেচনায় আনা হত। একাডেমিক রেজাল্ট বলতে শুধু SSC-HSC নয়, তার বিভিন্ন ক্লাসের টার্ম পরীক্ষার পারফরমেন্সও বিচারের আওতায় আনা হত। এছাড়াও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলোকেও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হত। তাহলে একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রটা অনেক বড় হত। জানি বিষয়টা অনেক সময়সাপেক্ষ, তবে অসম্ভব কি?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×