
ঝাপসা হয়ে আসা স্মৃতির দরজা সহসা খুলতে চায় না। অস্পষ্ট মনে আছে ওর পরিবারে সবার আগে ইবোলায় আক্রান্ত হয় লাইবেরিয়া ফেরত বাবা দিন দশেক আগে। বাবার মুখটা ভুলেই গিয়েছিল রমিত। বাবা ফেরাতে বাড়ীতে আনন্দের ফোয়ারা ছুটেছিল। তবে বাবার মুখটা পরিচিত হতে হতেই বাবা অপরিচিতের দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ওর নিজেরও যাওয়ার সময় হয়ে এল। এ যাত্রায় সাথে কিছু বিস্বাদের স্মৃৃতি ছাড়া আর কিছু নিতে হবে না ওর।
**
নগরীর ব্যস্ত ঘোড়া থেমে গেছে। চারিদিকে দিনরাত সুনসান নিরবতা। মানুষ যেন নিশ্বাস নিতেও ভুলে গেছে। প্রবল বেগে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা নিয়ন্ত্রনে যেন কারো কিছু করার নেই। কেবল নিঃশব্দে মরে যাওয়া ছাড়া।
পারস্পরিক সন্দেহ মাত্রা ছাড়িয়েছে। কারো গায়ের বাতাসও যেন কেউ শরীরে নিতে নারাজ। ভয়াবহতার চরম সীমায় বাংলাদেশ। সারা পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কোন ভুতুড়ে শহর নয় পুরো দেশ। এমনটি হতে পারে আচ করতে পেরেছিলেন কেউ কেউ তাদের লেখা নিবন্ধও বেরিয়েছিল পত্রিকায়। তবে সরকারের টনক নড়েনি। তাদের ভাষ্য ছিল কোথায় আফ্রিকা আর কোথায় বাংলাদেশ, তারপরও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। কি ব্যবস্থা নিয়েছেন তা দিবালোকের ন্যায় আজ সবার সামনে।
**
রমিত সারাক্ষন টিভিস্ক্রিনে চোখ রাখতে চায়। ব্রেকিং নিউজে ইবোলায় আরো কতজন মরল সে খবর নয়। দেখতে চায় ইবোলার প্রতিষেধক বের হয়েছে। বেচে থাকার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সে আশাবাদী ছিল তার জীবদ্দশায়ই ইবোলার প্রতিষেধক পাওয়া যাবে। আরো একবার খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে হুল্লোড়ে মেতে উঠবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


