somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক
প্রভাবপ্রতিপত্তি আজীবন থাকে না। প্রতারকরাও প্রতিরিত হয়। ক্ষমতাচ্যুত হলে ক্ষমতাসীনের কী হবে? কবর অথবা শ্মশানে প্রতিদিন মৃতসৎকার হয়। ©_Mohammed Abdulhaque [www.mohammedabdulhaque.com]

‘ভূতুড়ে কাণ্ড'

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




দিন শেষে ত্রিসন্ধ্যায় জলাশয়ের পাশে গাড়ি পার্ক করে রাহাত পাখি এবং হাসকে খাবার দিচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে মোবাইলে রিং বাজে। ঝম্পে উঠে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে বুকে থুথু দিয়ে নিম্নকণ্ঠে বলল, ‘আশে পাশে হয়তো ঠাঠা পড়েছে।’
রিং না থামলে, চোখ বুজে শিউরে পকেট থেকে মোবাইল বার করে কপাল কুঁচকে জবাব দেয়, ‘হ্যাঁ বলো। কী, আমার সাথে দেখা করতে চাও? যেখানে প্রথম দেখা হয়েছিল ওখানে, মগজ বিকল হয়ে মাথাটা নষ্ট হয়েছে নাকি? দেখো, ধুর। তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ না। শোনো, অন্যের হাত ধরে আমাকে ছ্যাঁকা দিয়েছ। আমি আর তোমার সাথে দেখা করব না। তোমার নতুন প্রেমিককে ডাকো। আমি এখন রাখছি। আল্লাহ হাফেজ। আর কথা হবে না, তুমি ভালো না থাকলেও আমার ক্ষতি হবে না। দূর গিয়ে মর, মরে দোজখে যা। ভুল হয়েছে। আমি তোমাকে আশীর্বাদ করি, তুমি অভিশপ্তা হও।’
মুখ ভেংচিয়ে রাহাত লাইন কেটে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দাঁত কটমট করে ঝিলে ছোড়ে অলোকসামান্যাতায় ভূতুড়ে কাণ্ড দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ। বাতাসে ভেসে মোবাইল তার সামনে এসে তাইরে নাইরে করে দুলতে শুরু করলে ভোঁ দৌড়ে গাড়িতে উঠে গায়ের জোরে দরজা বন্ধ করে হাঁফায়। সামনে তাকিয়ে দুলে দুলে মোবাইল আসতে দেখে ভয়ে শিউরে গাড়ি স্ট্রার্ট দিয়ে খুব দ্রুত চালিয়ে M25 এ ওঠে মনে থেকে ভয় এবং দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ডান্স মেউজিকে ফোল ভলিউম দিয়ে রাত্রিকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। ক্যান্টাবেরী চাকলায় প্রবেশ করার সাথে সাথে সে শিহরিত হয় এবং তার গায়ে কাঁটা দেয়। এই অঞ্চলে ভূতুড়ে রাজপ্রসাদের সংখ্যা বেশি এবং ভূতরাও বেশি উপদ্রব করে।
‘ইয়া আল্লাহ, পাগলের মত গাড়ি দৌড়িয়ে এ কোথায় এসেছি?’ সভয়ে বলে রাহাত শিউরে ডানে বাঁয়ে তাকায়।
‘রাহাত, তুমি এসেছ?’ আনন্দোদ্বেজিত নারী কণ্ঠ বলল।
‘আত্মহত্যা করে হয়তো অবশীভূত হয়েছে। ভূতের ভয়ে আজ আজি অভিভূত অথবা জড়ীভূত হবো। হায় হায়, ভূতপেত্নী, দত্যি-দানোর চিন্তায় চিন্তিত হয়ে গাড়ির গতি মন্দীভূত হচ্ছে। নিশ্চয় আমাকে বশীভূত করতে চায়। বিয়ে করে সংসারী হতে পারব না। অকালে হাবাকালা হওয়ার জন্য মায়াবিনীর প্রেম সাগরে কেন যে ঝাঁপ দিয়েছিলাম, এখন আমি কী করব? এই পেত্নীর হাত থেকে আত্মরক্ষা করি কেমনে? হায়রে হায়, আজ আমার নিস্তার নাই।’ নিম্নকণ্ঠে বলে রাহাত নারীর দিকে তাকিয়ে কপট হাসে।
‘কী হয়েছে রাহত, এমন করছ কেন; ভয় পেয়ছ নাকি? বেরিয়ে আস, তোমার সাথে খোশগল্প করতে চাই।’ বলে নারী দু হাত প্রসারিত করে।
‘সময়ের চেয়ে উত্তম মহৌষধ আর নেই, সময়ের সাথে ক্ষতবিক্ষত দেহ সুস্থ হয়, মনঃকষ্টে ক্লিষ্ট সত্তা সন্তুষ্ট হয়, শুধু ভূতের ভয় দূর হয় না।’ নিম্নকণ্ঠে বলে রাহাত চোখ বুজে শিউরে ওঠে। ছোটকালে দাদি নানি যা বলছিলেন তা তার মনের কানে প্রতিধ্বনিত হয়। ভূত পেত্নির কায়া ছায়া নেই, ওরা অশরীরী। ওরা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। সান্ত্বনাবাণী মনের কানে প্রতিধ্বনিত হলেও মনশ্চক্ষে অশরীরীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখতে পায়।
নারী অগ্রসর হলে রাহাত গাড়ি চালাতে শুরু করে বন্ধুকে ফোন করে। বরাবর রাত বারটায় দেয়াল ঘড়ি এবং মোবাইল এক সাথে বাজে। ক্রিং ক্রিং, ডিং ঢং। মুনীর বসা ছিল। ঝম্পে ওঠে পকেট থেকে মোবাইল বার করে, সভয়ে চারপাশে তাকিয়ে কম্পিত কণ্ঠে বলল, ‘হ্যালো।’
‘এই মুনীর, তুই কোথায়? আমাকে বাঁচা। ডরে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে মরে যাব। হাত পা কাঁপছে। আল্লাহর দুহাই দিচ্ছি জলদি আয়।’
‘তোর কী হয়েছে, কথা শুনে মনে হচ্ছে গলা শুকিয়ে এক্কেবারে সালমনের শুঁটকি।’
‘বন্ধু রে, জগতের বার যতসব ইচ্ছিবিচ্ছিরি শ্রীভ্রষ্ট আমার নজরগোচর হচ্ছে। ভাবের স্ফুরণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে, বিশ্বাসযোগ্য বিষয় অবিশ্বাস করতে চাই। আমাকে প্রাণবন্ত দেখতে হলে পবনবেগে আয়।’
‘তুই এখন কোথায়?’
‘Somewhere in Kent, I think I’m in-front of haunted house of Canterbury.’
‘তোর মড়া চোখের দিকে তাকালে আমার আত্মা আড়ষ্ট হবে, তবুও তোর নিথর দেহ দেখার জন্য অভয়ের কাছে প্রাণকে বন্ধক দিয়ে আসছি। আমি আসার আগ পর্যন্ত জগতের মায়া ত্যাগ করিস না। আমি এখুনি আসছি।’ বলে মুনীর প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে খুব দ্রুত চালিয়ে যায় এবং রাহাতের গাড়ির সামনে থেমে ভিতরে কাউকে না দেখে কাঁধ ঝুলিয়ে বলল, ‘এখন আমি কী করবো?’

ঘটনা সত্য হলেও বাস্তব বলে সত্যাসত্য নিশ্চিত করতে পারব না।
Copyright © by Mohammed abdulhaque

ছবি নেট থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×