আসসালামু আলাইকুম,
প্রতিটি যুগে কিছু নতুন-নতুন শব্দ চালু করা হয়। তাহার পর সেই শব্দ নিজেরাই পথে-বিপথে চলিতে থাকে। সেইরকম একখানা শব্দ হইতেছে : সন্ত্রাসবাদ। এবং সন্ত্রাসবাদী।
আগে তো বুঝিতে হইবে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা কি?
আসামের স্বাধীনতার সংগ্রাম বা কাশ্মীরিেরর জনগণের সংগ্রামকে এক কথায় ''সন্ত্রাসবাদ'' বলিয়া নাকচ করিবার অধিকার কাহারো রহিয়াছে কি? আমি অবশ্য আগ্রাসী শক্তিগণরে কথা এইখানে বলিতেছি না। উহার কথায়-কথায় দিন কে রাত বানাইতেছেন।
যেমন ভারত। তাহারা আসামের মুক্তিকামি জনগণের আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদ কহিতেছেন। আবার কাশ্মীরের জনগণের সংগ্রামকেও। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ হয়। সেই বিভাগের যৌক্তিকতা লইয়া আলোচনা করিতেছি না। তাহা হইলে প্রশ্ন জাগে ৯০ ভাগ মুসলমান জনগণের দেশ কাশ্মীর কোন হিসাবে ভারতের হইলো তাহা কে বলিয়া দিবে?
আর এই উত্তর খজুতে গিয়া কাশ্মীরের জনগণ যদি নিজেদর রক্ষা করিতে ভারাতের বাহিনীর মুখামুখি হয় এবং তাহাদের সেই এই সংগ্রামকে যদি সন্ত্রসাবাদী বলা হয়; তাহা হইলে তিব্বতের জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামিদিগকে আশ্রয় দিয়া ভারতও সন্ত্রাসবাদের মদদ দিতেছে। এই সত্য কথাটা বলা হইতেছে না।
হায়, যাহারা তিরিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করিয়াছে, সেই তাহারাই কিনা অন্য-জাতির স্বাধীনতা-সংগ্রামীদিগকে ''সন্ত্রাসবাদী'' বলিয়া অভিহিত করিতেছে!!!
ইতিহাসের কি বিচিত্র গতি!!!!
ৃ
১৯৭১ সালে যাহারা ভারতে ট্রেনিং লইয়াছে সেই মহান সঙগ্রামী যোদ্ধাগণকে আপনারা আজ কি বলিবেন?
আরো মনে রাখি তহইবে : এইসব বিষয় কাহারো নিজস্ব ইস্যু নহে। ইহা একটা জাতির একটা ভুখন্ডের মানুষের মর্যাদার বিষয়। তাহা সবাইকে মনে রাখিতে বলি।
আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর যোদ্ধাগণ একটা সময় ভারতে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাইয়াছিলো---তাহা অনেকই আজ অতি সহজে ভুলিয়া যান। কেবলামত্র সেখানেই শেষ নহে। পার্বত্য ো প্রাণপ্রিয় নেতা এম.এন. লারমাকে শান্তি বাহিনির যে-গ্রপের সদস্যগণ নির্মমভাবে হত্যা করিয়াছিলো, েসই গ্রুপকেও ভারত প্রত্যক্ষ মদদ যোগাইয়াছিলো। তখন আবার মুক্তিবাহিনি আর শান্তিবাহিনি আর জঙ্গি বাহিনি একাকার হইয়া যায়।
পরম করুণাময় এই দুনিয়ার সকল মানুষকে হেফাজত করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

