আসসালামু আলাইকুম,
এই দুনিয়ার যে-কোনো দেশেই গনতন্ত্রের পথ রাতারাতি পরিবর্তনের পথ নহে। সেইখানে হাজারো সমস্যা থাকিবেই। এইটা খুউব স্বাভাবিক একটা বিষয়। আর হাজারো সমস্যা থাকার পরেও গনতন্ত্রের বিকল্প অন্য কিছুই হইতে পারেনা।
পাকিস্তান বারবার বিকল্প খুজিয়াছে। পায় নাই। ইন্দোনেশিয়া খুজিয়াছে। চিলি, আর্জেন্টিনা, তুরস্ক-- এরাও খুজিয়াছে। শেষতক সেই গনতন্ত্রের পথেই তাহাদের আসিতে হইয়াছে।কারণ অন্য শাসনের প্রতি জনগনের যে-মোহ ছিলো বা মোহ জাগানো হইয়াছিলো তাহা কাটিয়া যাইতে সময় লাগে নাই।গনতন্ত্রের পথে ধীরে-ধীরে অগ্রসর হইবার বিষয়ে ভারত সবচাহিতে ভালো উদাহরণ।
ব্রিটিশ গনতন্ত্রের বয়স ৩০০ বছর। আর আমাদের? সেইখানেও কিন্তু রাজনীতিবিদগণের নিয়া মাঝে-মাঝেই সত্য ঘটনা নানারকম ভাবে এখনো শোনা যায়। সেই বিষয়ে নানারকম ব্যবস্থাও লওয়া হয়। কিন্তু তাহা বলিয়া সেইখানে গনতন্ত্রের বিকল্প খোজা হয় না।
আমাদের দেশেও সেই রকম অবস্থা আসিতে সময় লাগিবে। আমাদের রাজনীতিবিদগণের ব্যর্থতার সীমা নাই। তাহা আমি স্বীকার করি। তবে এইটাও মনে রাখিতে হইবে, তাহাদের ব্যর্থতা শুধু তাহাদের একার নহে। জনগনেরও সেইখানে দায় রহিয়াছে। কারণ জনগণ ছাড়া গনতন্ত্র নাই।
আমি খোলাখুলিভাবে বলি :বঙ্গদেশের গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে অন্যকোনো বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাহি না। এই দুনিয়ার একটি দেশের নামও খুজিয়া পাওয়া যাইবে না যেই দেশ সেনাশাসনে প্রভূত উন্নতি করিতে পারিয়াছে। বরং কঙ্গো (অধুনা জায়ারে,) নাইজেরিয়া সহ আফ্রিকার দেশগুলোর আজ বেহাল দশা। তাহাদের সম্পদের অভাব নাই।
যে-কোনো চটকদার জিনিস প্রথম-প্রথম ভালো দেখাইলেও শেষে তাহা কোনো কাজের হয় না। সেনাশাসন গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে অনেকটা সেইরকম একটা চটকদার জিনিস। তাহা গনতন্ত্রকে মুক্তি দিবার কথা বলিয়া জনগনের কাধ চাপিয়া বসিয়া থাকে। আর বাস্তবে গনতন্ত্র আরও মৃতপ্রায় হইয়া যায়।
এইটাও স্বাভাবিক। কারণ জনগণের নিকট জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকিলে যে-কোনো তন্ত্র শেষ পর্যন্ত ''স্বৈরতন্ত্র'' হইয়া দাড়ায়। তাহা যতোই ভালো হউক। আর কোনো স্বৈরতন্ত্র গনতন্ত্রকে বাচাইতে পারে না। এবং গনতন্ত্র না থাকিলে জনগণ আর জনগণ থাকে না। তাহারা দাসে পরিণত হইয়া থাকে। চিন,মায়ানমার-এর মতো দেশের দিকে নজর দিলেই এই কথার সত্যতা মিলিবে।
১/১১ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগণের ব্যর্থতার কারণে ঘটিয়াছে তাহা যেমন ঠিক, তেমনি কাহারো কাহারো অতি উৎসাহের কারণেও ঘটিয়াছে। কিন্তু গনতন্ত্রের ব্যর্থতার কারণে আমরা বিকল্প খুজিতে পারি না। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের বিকল্প অধ্যক্ষের বাসার দারোয়ান হইতে পারে না। বাগানের মালিকে দিয়া আপনি আপনার সংসার চালাইতে পারেন না।
আমার শেষ কথা এই যে আমরা কোনো অবস্থাতেই সেনা শাসন চাহি না। এইটা মানুসকে আরো অসহশীল করিয়া দেয়। রাজনীতিতে অসহনশীরতা ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব পড়িয়া থাকে। সামাজিক জীবনেও। যেই সব দেশে গনতন্ত্র নাই, সেই সব দেশের মানুষজন তুলনামূলকভাবে কম অসহনশীল। আমরা একটি উদার গনতান্ত্রিক,সহনশীল বঙ্গদেশ দেখিতে চাহি।
পরম করুণাময় বঙ্গদেশের গনতন্ত্রকে হেফাজত করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

