আসসালামু আলাইকুম,
শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানটায় নজরুল ইসলামের কবর, তাহার উল্টাদিকের ফুপপাতের রেলিঙ-এ পুরাতন কিতাব কিনিতে পাওয়া যায়। সেইখান হইতে একখানা পুরাতন কিতাব কিনিলাম। উহার নাম ‘’’তাল-বেতাল’’’। লেখক অশোক মত্রি। এইটা্ কলকাতা হইতে প্রকাশিত হইয়াছে। প্রকাশক : সুধাঙশুশেখর দে। দেজ পাবলিশঙি, কলকাতা।
পাঠ করিয়া দেখিলাম ভারকের রাজনীতি লইয়া এই কিতাবে নানারকম রচনা রহিয়াছে। এইখানে ‘’’ভু-স্বরর্গ চন্চল’’’ এই নামে একখানা রচনা পাঠ করিলাম। তাহার কিছুটা এইখানে সবার সহতি শেয়ার করিলাম।
'''ব্যাকরণ অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতবর্ষের অঙ্গরাজ্য, কিন্তু গত প্রায় এক দশক ওখানে গণতন্ত্রের ছিটেঁফোঁটাও নেই। ১৯৮৩ সালের পর এমনকী কোনো লোকদেখানো নির্বাচনও হয়নি, এখন পুরোপুরি জঙ্গী শাসন। একদা সেনাবাহিনীর সর্বাধ্যক্ষ ছিলেন এমন একজনকে রাজ্যপাল করে বসানো হয়েছে। ফৌজে-পরিবৃত কাশ্মীর উপত্যকা। থমথমে, অস্বাভাবিক অবস্থা, দিনের পর দিন ধরে, মাসের পর মাস ধরে, বছরের পর বছর ধরে। একদিকে ভারতীয় ফৌজ, অন্যদিকে কাশ্মীরের সর্বস্তরের মানুষ যেন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। যদি কোনো গণভোট নেওয়া হয়, কাশ্মীরের এক-শতাঙশ মানুষও ভারতবর্ষর সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য রায় দেবেন বলে বিশ্বাস হয় না। বিকল্প হিশেবে তারা হয় পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে চাইবেন, নয়তো স্বতন্ত্র কাশ্মীর ঘোষণার দাবি জানাবেন।
মানুষ মাটির ঢেলা নয়। ফৌজ দিয়ে কোনো অঞ্চল দকল করে রাখলে সেখানাকারা মানুসেরা বিক্খোভ দেখাতে শুরু করবেই।তাদের সোনা দিয়ে মুড়ে রাখলেও তাদের অসনতোষ ঘোচাবার নয়।
আমাদের সরকার অবশ্য তোতাপাখির মতো বলে যাচ্চেন সমস্তই পাকিস্তানরে চক্রান্ত। সীমান্তের ফাঁকফোকর দিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীরে গুপ্তচর অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এই গুপ্তচররাই অশান্তর ইন্ধন যোগাচ্ছে। এই ধরনের কথাবার্তা বোধহয় আমরা বলতে হয় বলেই বলি।
কাশ্মীর উপত্যকার মানুষজন ইতিমধ্যেই নতুন দল্লির সরকারের বিরুদ্ধে ভয়ঙরকম তিতিবিরক্ত। না হলে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের পক্ষে তেমন কিছু সুবিধা করে ওঠা সম্ভব হোত না।
কাশ্মীরের জনগণই এখন, আবালবৃদ্ধবনতা, ভারতবর্ষরে আরোপিত শৃং্খল থেকে মুক্তি পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা যদি বিদ্রোহের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতেন, পাকিস্তানের পক্ষে নাক-গলাণো আদৌ সম্ভব হতো না।''
আশা করি এই রচনা হইতে কাশ্মীেরর জনগণের একটা সামগ্রিক অবস্থা অনেকের নিকট পরিষ্কার হইয়া উঠিবে।
পরম করুণাময় এই দুনিয়ার সকল মানুষকে ছহি-ছালামতে রাখুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

