আসসালামু আলাইকুম,
সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার দেশ ফ্রান্স। বাল্যকাল হইতে এইরকমই শুনিয়া আসিয়াছি। উদার গণতন্ত্রের দেশ ফ্রান্স। আবার তাহারাই আলজেরিয়ার মানুষের রক্তে নিজেদর হাত রাঙাইয়াছে। ভিয়েতনামেও তাহারা কম অত্যাচার চালায় নাই।
যাহা হোক সেই সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার দেশ , উদার গণতন্ত্রের দেশ ফ্রান্সের ''পার্লামেন্টারি কমিটি'' মুসলিম নারীদের বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ করিবার সুপারিশ করিয়াছে।
গত মঙ্গলবার (২৬/১/২০১০তারখি)এই কমিটি প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এক সুপারিশে হাসপাতালে, স্কুলে, সরকারি অপিস আদালতে এবং সাধারণ যানবাহনে বোরকা পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলিয়াছে।
এই আইন পাশ হইলে কোনো ফরাসি মুসলিম নারী ইচ্ছা করিলেও আর বোরকা পরিধান করিতে পারিবে না। ইহা হইলো পশ্চিমা গণতন্ত্রের উদারতার অদ্ভুত নিদর্শন। বোরকা পরিধান করাটাও যে একজন নারীর অধিকারের ভিতর পড়িয়া থাকে, উহা এই দেশের গণতন্ত্রের রক্ষকগণ বুঝিতে পারিতেছেন না। অথবা বুঝিয়াও না বুঝিবার ভান করিতেছেন।
শুধু এইখানেই শেষ নহে। যাহারা এইসব ধর্মিয় বিধি নিষেধ পালন করিবার চেষ্টা করিবে তাহাদের ''রেসিডেন্স কার্ড'' বরাদ্দ বাতিল এমন কি নাগরিকত্ব পর্যন্ত বাতিলের সুপারিশ করা হইয়াছে। তাহার মানে দাড়াইতেছে যে স্বাধীন ফ্রান্সে ইসলাম ধর্ম পালন করা মানেই হইতেছে এক ধরনের দেশদ্রোহিতা। ভাবা যায় উহাদের ইসলাম বিদ্বেষ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়া ঠেকিয়াছে!!!
যাহারা নারীর স্বাধীনতার কথা বলিয়া থাকেন, নারীর অধিকার আদায়র কথা বলিয়া থাকেন তাহারাই মুসলিম নারীকে তাহার ধর্ম পালনের অধিকার হইতে আইন বানাইয়া বঞ্চিত করিতে চাহিতেছে।
আমরা আশা করিবো ফ্রান্সের জনগণ এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হইবেন। ফ্রান্সের বিবেক এখনো যে অন্ধ হইয়া যায় নাই তাহার প্রমাণ দিবেন।
পরম করুণাময় সারা দুনিয়ার সকল মানুষকে হেফাজৎ করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

