মিলন ভাই। আমাদের খুব পরিচিত একজন মানুষ। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের নীচতলার এক কোনায় যে ক্যান্টিনটা রয়েছে- তার পরিচয় হলো মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিন।
সকালে দেরিতে ঘুম ভাঙলে- ছুটতে ছুটতে ক্লাস ধরার আগ মূহুর্তে হালকা নাস্তার জন্যে, অথবা- বিকেলে ল্যাব শেষে এক কাপ চা, দু'ক্ষেত্রেই আমাদের ভরসা হলো মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিন।
দিনের পুরো সময়টাতেই সেখানে তাকে হাসিমুখে বসে থাকতে দেখা যায়। বসে আসলে নয়, তিনি থাকেন দাঁড়িয়ে। আর ব্যস্ত দু'হাতে সমানে কাজ করে যান।
কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
"ভালোই আছি ভাই। আপনাদের দেখি, ভালো লাগে। স্যার ম্যাডামরাও আমার ব্যবহারে খুশি...।'
স্বাধীনতার পরবর্তিকাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের অনেক ঘটনারই সাক্ষী তিনি।
নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের কথা বিশেষ ভাবে মনে আছে তার। পুলিশের ভয়াবহ মার খেয়েছিলেন তিনি। দু'হাত মেলে দেখালেন। হাতদু'টো নাকি বুট দিয়ে মাড়িয়ে আর রাইফেলের বাট দিয়ে মারতে মারতে থেঁতলে দিয়েছিলো ওরা। এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি ওগুলো।
ক্যান্টিনের কর্মচারী হিসেবে রেখেছেন নিজের এলাকার ছেলেদেরই। " নিয়া আসি ওদের, কাজ কাম নাই, একটু উপকারও হয়।' এখানে কাজ করতে করতে পরে ভালো কোথাও চাকরিও খুঁজে নিতে পারে ওরা।
বিয়ে করেছেন বারো বছর হলো। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সুখের সংসার। ছেলে বাপ্পী স্কুলে যায়। আর মেয়ে মিথিলার বয়স মাত্র এক বছর।
"মেয়েটারে ঠিক করছি ডাক্তার বানাবো।'
নিজের ছোট ভাইকে ঢা.বি.তেই মার্কেটিং পড়াচ্ছেন তিনি। আবার ছেলের ভবিষ্যৎও দেখেন এ ক্যাম্পাসেই। তার আশা- এখান থেকে পড়ালেখা করেই ছেলে একদিন বড় হবে।
ক্যাম্পাসে কাজ করতে করতে সব ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তাঁর ধারণা- এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পাওনা।
কথা বলার সময় ঈদের ছুটি চলছিলো। জানালেন, " ভালো লাগে না ভাই। আপনারা কেউ আসেন না। আমিও আপনেগো মতন বইসা আছি- কবে ক্যাম্পাস খুলবো-।'
----------------
[ইটালিক] যুযুধান পত্রিকার জন্যে লেখা। প্রতিবেদন প্রকাশকাল : জানুয়ারি 2003 [/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




