শুক্র ও শনি আমার উইকলি হলিডে। ফিয়াস্রে শনি ও রবিবার অফ। কাজেই ঠিক হলো শনিবার যেহেতু কমন, এদিন হবে ম্যারাথন ডেটিং। শুক্রবার রাতভর ভালোবাসার রিপিটেড কথা বলতে বলতেও যখন বুঝতে পারছিলাম না ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরোনো কাসুন্দি ঘাটছি তখন ঘুম ত্রাতার মত এসে দু'জনকে বিযুক্ত করালো ফোনের কর্ণচেপে থাকা থেকে। শেষ মুহূর্তের কথা ছিল এরকম যে, সে ঘুম থেকে উঠেই নিকুঞ্জ থেকে ইস্কাটন গার্ডেনে আমার বাসায় চলে আসবে।
এগারোটায় ঘুম থেকে উঠে বুয়াকে বললাম খিুচরি, ইলিশ আর গরুর মাংশ রান্না করতে। সারি আসলো ঠিক তখনই। আমার খালি বাসা - প্রথম ডেটিং, উত্তেজনায় আমি যতটা অস্থির, চেহাড়ায় তার চেয়ে বড় ক্লান্তি। ঘুম হয়নি ঠিকমত। তার হাতে শাওনের হাসবেন্ডের লেখা জোছনাত্রয়ী উপন্যাস। সে পড়ছে মনযোগ দিয়ে, আর আমি দেখছি তার সৌন্দর্য্য। খুকখুক কাশছি মাঝেমাঝে। মনে হয় রাতে ঠান্ডা লেগেছে। টুকটাক কথা বলতে বলতে দুপুর হয়ে গেল। বুয়া চলে যায়। আমার ঘরে ছিল কাশির একটা ঔষধ। ফেনারগেন টেনারগান জাতিয় নাম । ডাক্তার বন্ধু পরামর্শ দিল - দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পরে দুই কর্ক পরিমাণ খেয়ে নিতে। আমি তাই করলাম।
দু'জন বিছানায়। গল্প চলছে, কিন্তু আমার চোখ ঢুলুঢুলূ। সে বলে আর আমি উহ, আহ্, হু, এইসব করছি। মেজাজ তার চড়মে উঠে গেল একসময়। ঝট করে উঠে গিয়ে পুরো বোতলটা গলায় ঢেলে দিল। আমি দৌড়ে ধরি, সে হাসে - বলে, এবার আমি তোমার কথা শুনবো। বলো! চিৎকার করে বলে, কই! বলো তোমার ভালোবাসার কথা!
দুই কর্কে আমি চোখ মেলতে পারি না আর সেতো পুরো একবোতল! কতক্ষণ আবোল তাবোল বকে ঘুমিয়ে পড়ে, আমিও যে কখন ঘুমিয়ে পড়ি - ঠাওর করতে পারি না। মরার মত ঘুমিয়ে যখন ভাঙে তখন রাত্র 10 টা। আমি ঠেলে তাকে উঠাই। তোমার বাসায় যেতে হবে! সে বলে, কোথায়! আমি বলি, ডার্লিং, হেভী একটা ডেটিং হইছে, এখন চল তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। সেও আবার একা একটা ফ্লাট নিয়ে থাকে। ইচ্ছে করলে, এখানেও থাকতে পারে, আবার ইচ্ছে করলে আমিও তার ফ্লাটে থাকতে পারি। কিন্তু আমাদের বোঝাপড়া ছিল চমৎকার। যখন ইচ্ছে থাকবো, যখন ইচ্ছে থাকবো না। ধরে নিয়ে বসাই ট্যাঙ্েিত। নেশাক্তের মত কথা বলে, অজস্র ভালোবাসার কথা বলে। একসময়ে তার বাসার সামনে এসে গাড়ি থামে। তার ঘরে পৌঁছে দিয়ে, জোরে জোরে কথা বলে তার মাথায় একটা কথাই কেবল ঢুকাতে পারি, দরজাটা বন্ধ করে দাও।
পরের দিন। আমি অফিসে। সকাল 11টা। সারির ফোন। হ্যালো, তোমার ঘর তালা দেয়া কেন? আমি বললাম, আমি তো অফিসে। সে বলে, মানে! আজকে আমাদের একসাথে থাকার কথা নয়?
আমি বুঝতে পারি, ফেনারগেন তাকে একদিন পিছিয়ে দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


