somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরদার ফিরোজের টার্মিনেশন!

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরদার ফিরোজ নুন এখনও জানেন না তাকে কেন বরখাস্তের নোটিশ ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে না। তিনি 6 জনের বরখাস্ত পত্র টাইপ করে এইচআরডি ম্যানেজারকে দিয়েছেন এবং প্রতিবার অপেক্ষা করেছেন তার বরখাস্তের ড্রাফট এই বুঝি ম্যানেজার সাহেব তাকে টাইপ করতে দিলেন। কিন্তু না। ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল সেক্রেটারীদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। অফিস খরচ কমাবার জন্য এখন থেকে ম্যানেজাররা নিজেদের সেক্রেটারিয়াল কাজ নিজেরা করবেন। একবারে মাসে 90 হাজার টাকা বেঁচে গেল। ফিরোজ নুন সে মিটিং এর কার্য বিবরনী লিখেছেন, তিনি দেখেছেন তার বিদায়ের কথাও সেখানে বলা আছে।

কিন্তু প্রতিবার নতুন একজনের টার্মিনেশন লেটার টাইপ হচ্ছে, তিনি প্রতিবারই বসে থাকেন ফাঁসির রজ্জু গলায় পড়তে। কিন্তু সমন আসে না। এভাবে তিনটি দিন তিনি অবিন্যস্ত বাসায় ফেরেন। যতটা ভেঙে পড়ার কথা নয় তারচেয়ে নড়বড়ে তার 50 বছরের অশক্ত শরীর, দূর্বল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নিয়ে যখন ঢাকাতে বসবাসের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তেমন সময় একেবারে নাই হয়ে যাওয়া উপার্জনের গণিত তাকে আরো বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে স্ত্রীকে কিছু বলতে পারেন না। বড় মেয়ে গ্রাজুয়েশন করছে, এরপরে দুই ছেলে, এইচএসসি আর এসএসসিতে - মাসে 15 হাজার টাকাতে যে কিভাবে দুস্বপ্ন দেখে দিনরাত - তাতে এ প্রানাতিপাত আঘাত কিভাবে সামলাবে তার ডায়বেটিস, ভেবে অস্তির হাতে তিনি কম্পিউটারে আঙুল চালান।

আজকেও আসেনি বরখাস্তের নোটিশ। আশার বানী হচেছ একজন রাখা হচ্ছে টোটাল অফিসে। সিনিয়রিটি হিসাবে তিনি আশান্বিত হন। ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই তার মানবীয় দিকটা বিবেচনা করবেন, এ বয়সে কোথায় চাকুরী পাবেন! কিন্তু ভুল ভাঙে শেষ বিকেলে, সবচেয়ে কনিষ্ট সেক্রেটারীর জব এক্সটেনশন লেটার তাকেই টাইপ করতে হলো। সরদার নুনের চোখের তারা দপ করে জ্বলে উঠে আবার নিভে যায়। চিঠি লিখতে লিখতে তিনি বারবার সাইফুল ইসলাম নামটা কেটে নিজের নামটা লেখেন। প্রিন্ট নেন, তারপরে বসের সিগনেচারের ঘরে নিজের সিগনেচার বসিয়ে দেন। নিজের পার্সোনাল ফাইলে সেটা ঢুকিয়ে রাখেন। এইচআরডি ম্যানেজার হাঁক দেয়, কই নুন সাহেব আপনার হলো! চিঠিটা দেন, আমি সাইন করে দিচ্ছি! ব্যতিব্যস্ত নুন সাহেব নাম পরিবর্তণ করতে ভুলে যায়, নিজের নামে এক্সটেনশন লেটার লিখে প্যাডে প্রিন্ট নিয়ে স্যারের রুমে প্রবেশ করেন!

ম্যানেজার সাহেব চিঠিটা নিয়ে সেখানে চোখ বুলাবার আগে, সরদার নুনের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকান, ভেজা কণ্ঠে বলেন, আমি সত্যিই দুঃখিত নুন সাহেব, এ্যাস পার দি পলিসি আমি আপনাকে টার্মিনেশন লেটারটা দিচ্ছি, আপনি তো সবই জানেন! সরদার নুনের ফ্যাকাসে চোখ হালকা নড়ে ওঠে মাত্র, নির্বিকার তিনি হয়ে গিয়েছিলেন আগেই, এবার শুনে কেবল একটা দীর্ঘনিশ্বাস বের হয়ে আসে। একবার চোখ বুলিয়ে নেন, ইউ আর নো মোর রিকোয়ার্ড! কালকে থেকে ছুট্টি। কোন কথা তার মুখে আসে না, কিছু না বলেই স্যারের রুম থেকে বের হয়ে আসেন।

দুইদিন পরে ফিরোজ নুনের বাসায় তার টাইপ করা এক্সটেনশন লেটার চলে আসে। এইচআরডি ম্যানেজার বেখেয়ালে তাতেই সিগনেচার করে ডেসপাসে দিয়েছিলেন। ফিরোজ নুন চিঠি পেয়ে উৎফুল হয়ে ওঠেন। জীবনে এতটা খুশী হতে তাকে কখনই দেখা যায় নি। ্ল
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪২
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা দিবসে, বাবা কে

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

বাবা,

আমি যখন তোমাকে এই চিঠিটা লিখছি,তখন থেকে ঠিক ছয় হাজার ছয়’শ বাইশ দিন আগে তুমি আমাকে একা করে চলে গেছো। সংখ্যাগুলি লিখতে যত সহজ, তার ভেতরে জমে থাকা শূন্যতাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি কিশোরীর অসমাপ্ত গল্প, নাকি আমাদের সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮

দৃশ্যটা যেন কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান ক্রাইম থ্রিলারের শুরু। চারদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। নির্জন জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলছে এক কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ। কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন নিচের অংশ মাটিতে পড়ে আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×