somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -12

১১ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিভির সামনে বসে এক চ্যানেলে স্থির থাকা অসম্ভব। খুব খেয়াল করে দেখলাম আমি ও ঘরকতর্ী দুজনাই অনবরত ফ্লিপ করতে থাকি চ্যানেল, তবে যেদিন তার হাতে রিমোটের কন্ট্রোল, সেদিন আমি স্রেফ দর্শক। তার পছন্দের চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন বিরতী শুরু হলেই অন্য চ্যানেলে চলে যায়। বাংলাদেশী 8/10টা চ্যানেল প্রথম দিক থেকে সাজানো। এ চ্যানেলগুলো ঘুরে সে যদি নাটক, বিনোদন টকশো, বা পছন্দের কোন গান হতে না দেখে তবে তার পরবতর্ী পছন্দ সনি, স্টার প্লাস ও জি টিভি। সেখানে এ্যাড হলেও সে খুব মনযোগ দিয়ে সেগুলো দেখে। ফিলমের গান হলে তাও দেখে। এর পাশাপাশি চ্যানেলগুলো হলো ইনডিয়ান বাংলা। সেখানেও মাঝে মাঝে স্থির হয়। এর বাইরে জি ট্রেনডজ, জি ক্যাফে সাথে ভিডিও চ্যানেল ঘুরে আসে। আমি ঐ ভ্রমণকালিন সময়ে মূলত ব্যস্ত থাকি বই ও পেপার পড়া নিয়ে অথবা ফোনে। রিমোটটা ঘুরে আমার হাতে আসে কয়েকটা ঘটনা ঘটলে। এক, যদি ডালটা পুড়তে থাকে চুলায়, অথবা অন্য একটা ডিস রান্নার সময় হয়। দুই, কোন গেস্ট আসলে। তিন, তার কোন ফোন আসলে। এসময়ে আমার হাতে চ্যানেলগুলো যেভাবে খেলতে থাকে তার মধ্যে বাংলা নিউজ প্রধান হয়ে পড়ে। তারপরে আল জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি, এইচবিও, স্টারমুভিজ। এর বাইরে আমার আর কিছু দেখার নেই। অবশ্য পুরো টিভিশোটা চলে একমাত্র রাত্রিতে। ইদানীং অবশ্য সকাল 7টার খবর দেখার জন্য ঠিক 7টাতে ঘুম থেকে উঠে আধঘন্টার মত টিভির সামনে থাকি। দিনযাপনে পালা বদলের জন্য আরো দুইঘন্টা আগে ওঠার চিন্তাও করছি। সেক্ষেত্রে 12টায় ঘুমাতে গেলে প্রয়োজনীয় 5ঘন্টার জন্য নিদ্রাদেবীর দর্শন হয়ে যাবে। যা এখন 2টায় দেখা শুরু করি।

কোনএকদিন এমন রাত্রে কিছু গেরস্থালী কাজ অত্যাবশকীয় হয়ে পড়ে। ইদানীং আটা, হলুদ, মরিচ কিনে কলে ভাঙিয়ে খাচ্ছি। রোকনউদ্দোলা ভেজাল বিরোধী অভিযান শুরু করার পরে প্যাকেটজাত খাবারে আস্থা পাচ্ছি না তেমন। অবশ্য বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী প্যাকেট হয়ে বাজারে আসার পদ্ধতিটা চালু হয়েছে চোখের সামনে। যতদূর মনে পড়ে বনবাতাসীর সাথে প্রথম কালে এমন পদ্ধতি দেখিনি। সামরিক শাষণের শেষ সময়। নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা এমন শপথবিদ্ধ লাঙলখোচিত পোস্টার দেখি ওয়ালে ওয়ালে। একজন জেনারেল তার চমৎকার হাসিতে মুরে রেখেছে পুরো বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে প্রলয়ংকারী বন্যা হয়েছে। সে বন্যায় আমরা যে বাসায় থাকি তার নিচতলা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিল। তার পরে সেই রাষ্ট্রপ্রধানের লেখা গান বাজতো পাড়ায় তার রাজনৈতিক অফিসে। এন্ডু কিশোরের গলায় চমৎকার সে গানের কালেও মুদি দোকানে প্যাকেট সমৃদ্ধ চাল, ডাল, আটা, হলুদ মরিচ আসা শুুরু করেনি। এগুলা গুড়া করার জন্য ছোট ছোট মিল তখন প্রতিটি বাজারে থাকতেই হতো। বাবার সাথে বাজারে গেলে একটা সময় কাটাতে হতো সে মিলে। হলুদ মরিচ, গম ভাঙাতে দিয়ে আমাকে বসিয়ে রেখে সে কাচাবাজারে যেত। ক্লাস টেনে পড়ি। চোখে প্রেমের রঙ। বনবাতাসী থাকে বাসার নীচতলাতে। আমার ছোট বোনের কাছে বনবাতাসীর কবিতার খাতা দেখে সেখান থেকে কয়েকটা কবিতা নিজে লিখে নিয়ে ছিলাম। সেটা পকেটে পকেটে ঘোরে। হলুদ ভাঙাতে এসে মিলের ভেতরে একটা চেয়ারে বসে সে কবিতা পকেট থেকে বের করে পড়ি।

আজকে অনেকদিন পড়ে চতুর্থকালে এসে নিজেই একটা সংসারের কাপ্তান। মাঝখানে অনেক প্যাকেটজাত পন্যের কেনাবেচা হয়েছে। জীবন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রোকনউদ্দোলা সে জীবনে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। চোখের সামনে ধরিয়ে দিয়েছেন কি ভয়ংকর সব বিষাক্ত কেমিকেল, দ্রবাদী মেশানো হচ্ছে আটা, হলুদ মরিচে। বাঁচার জন্য আস্ত হলুদ, মরিচ, গম কিনে ভাঙাতে যাই মিলে। আর মিলের সামনে বসে পকেট হাতরে বের করি ইনবক্স। সেখানে একটা কবিতা জমা পড়েছে সেই বনবাতাসীর। সেই মিল, সেই কবিতা - অথচ মাঝখানে ষোলো বছর নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৪৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×