somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -14

১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দরজা খুলে রেখে হাট করে ঢুকে যাওয়া শীতল হাওয়া যখন রাত্রির গাম্ভীর্যে শিহরণ বইয়ে দিল তখন ঝড়ের পূর্ব মুহূর্ত। ছিন্নপত্র নয়, টুকরো কাগজের পালে দোলা লেগে তা পাতাকুড়ানীর কাল মনে করে দেয় ঢাকার রাস্তায়। কার্ফু শরীরে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রাতে দুলতে থাকে বিবাগী সাইরেন, রা্যবের গাড়ী ফুস করে ওঠে। বাসায় ঘরবাতাসী তার লেকচারের নোট রেডি করতে ব্যস্ত। আমি মিল থেকে ফিরে গান গাই, একটা দুইটা দিন, হোক না রঙীন, মন্দ কি, বুঝবো কি, নিজের কথায় নিজের সুরে। ধুমপানের নেশা চ্যাগার দিয়ে উঠলে বাইরে বের হই। দুইটা তালা খুলে রাস্তায় নেমে ঝড়ের সামনে। গলি ছেড়ে বড় রাস্তার মোড়ে সিগারেটের দোকান তখন বাড়ী যায় যায় করছে। দোকানী আমার পরিচিত। তার চা বানানো, পানবানানো আর কাস্টমারকে সিগারেট দেয়ার দক্ষতা দেখার আমি একজন মুগ্ধ দর্শক। মুখে হাসি নেই, কিন্তু কোন অসন্তুষ্টিও নেই। নির্বিকারবাদী কমর্ী। সিগারেট নিয়ে মনে হয়, বড় আয়েশী সুখটান দেয়া যায় - সামনে কেবল নিথর রাত্রী, আর রাত্রিভর না ঘুমিয়ে ভাবার অবসর। আমি না ঘুমিয়ে ঘুমের মত থাকতে পারি, নিজের শরীরও টের পায় না যে আমি জেগে আছি।

বাড়ীর সামনে একটা লতানো গাছ পেচিয়ে ছাদে উঠে গেছে। লাল ফুল তার সমস্ত দেহবল্লরীতে। সেখানে বসে আকাশ দেখা যায় না কিন্তু বৃক্ষের গগনবিদারী চিৎকার দেখা যায়। মানুষ নিজের গন্ডী ভেঙে বের হতে পারে না। সামাজিক বা ধমর্ীয় কোন গন্ডী নয়, এটা নিজের সৃষ্ট একটা বেরিয়ার। ভারসাম্যমূলক। আমি এমন একটা গুণাবলীতে দৃশ্যমান অনেকের কাছে। অথচ আমার আছে এক পেয়ালা শূণ্যতা। যার পরে একটা এককের আগমন। তারপরে অন্য কোন সংখ্যা যুক্ত হয়নি। আমি ফিরে যাই সেই শূণ্যতায় যেখানে বিযুক্ত আমি বিশ্ব থেকে। তারপরে ফিরে আসি এককে। সেখানে আমি খুঁজে পাই আমাকে, কারণ সে মনে করিয়ে দেয় আমি যুক্ত হতে পারি। বনবাতাসী আমার তেমন একক, ঘরে ফিরে মনে হয় লেখার জন্য উত্তম চিন্তার স্ফুরণ, কিন্তু সময় হয় না। সাতদিন যাবত শরীরি ক্ষুধা ফোস ফোস করে অক্ষয় কুমার আর প্রিয়াংকা চোপড়ার বেড সিন দেখে। মনে হয় আলস্যের বাধ ভাঙলো। আমি এরপরে ভুলে যাই বাইরের ঝড়ের খবর।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×