দরজা খুলে রেখে হাট করে ঢুকে যাওয়া শীতল হাওয়া যখন রাত্রির গাম্ভীর্যে শিহরণ বইয়ে দিল তখন ঝড়ের পূর্ব মুহূর্ত। ছিন্নপত্র নয়, টুকরো কাগজের পালে দোলা লেগে তা পাতাকুড়ানীর কাল মনে করে দেয় ঢাকার রাস্তায়। কার্ফু শরীরে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রাতে দুলতে থাকে বিবাগী সাইরেন, রা্যবের গাড়ী ফুস করে ওঠে। বাসায় ঘরবাতাসী তার লেকচারের নোট রেডি করতে ব্যস্ত। আমি মিল থেকে ফিরে গান গাই, একটা দুইটা দিন, হোক না রঙীন, মন্দ কি, বুঝবো কি, নিজের কথায় নিজের সুরে। ধুমপানের নেশা চ্যাগার দিয়ে উঠলে বাইরে বের হই। দুইটা তালা খুলে রাস্তায় নেমে ঝড়ের সামনে। গলি ছেড়ে বড় রাস্তার মোড়ে সিগারেটের দোকান তখন বাড়ী যায় যায় করছে। দোকানী আমার পরিচিত। তার চা বানানো, পানবানানো আর কাস্টমারকে সিগারেট দেয়ার দক্ষতা দেখার আমি একজন মুগ্ধ দর্শক। মুখে হাসি নেই, কিন্তু কোন অসন্তুষ্টিও নেই। নির্বিকারবাদী কমর্ী। সিগারেট নিয়ে মনে হয়, বড় আয়েশী সুখটান দেয়া যায় - সামনে কেবল নিথর রাত্রী, আর রাত্রিভর না ঘুমিয়ে ভাবার অবসর। আমি না ঘুমিয়ে ঘুমের মত থাকতে পারি, নিজের শরীরও টের পায় না যে আমি জেগে আছি।
বাড়ীর সামনে একটা লতানো গাছ পেচিয়ে ছাদে উঠে গেছে। লাল ফুল তার সমস্ত দেহবল্লরীতে। সেখানে বসে আকাশ দেখা যায় না কিন্তু বৃক্ষের গগনবিদারী চিৎকার দেখা যায়। মানুষ নিজের গন্ডী ভেঙে বের হতে পারে না। সামাজিক বা ধমর্ীয় কোন গন্ডী নয়, এটা নিজের সৃষ্ট একটা বেরিয়ার। ভারসাম্যমূলক। আমি এমন একটা গুণাবলীতে দৃশ্যমান অনেকের কাছে। অথচ আমার আছে এক পেয়ালা শূণ্যতা। যার পরে একটা এককের আগমন। তারপরে অন্য কোন সংখ্যা যুক্ত হয়নি। আমি ফিরে যাই সেই শূণ্যতায় যেখানে বিযুক্ত আমি বিশ্ব থেকে। তারপরে ফিরে আসি এককে। সেখানে আমি খুঁজে পাই আমাকে, কারণ সে মনে করিয়ে দেয় আমি যুক্ত হতে পারি। বনবাতাসী আমার তেমন একক, ঘরে ফিরে মনে হয় লেখার জন্য উত্তম চিন্তার স্ফুরণ, কিন্তু সময় হয় না। সাতদিন যাবত শরীরি ক্ষুধা ফোস ফোস করে অক্ষয় কুমার আর প্রিয়াংকা চোপড়ার বেড সিন দেখে। মনে হয় আলস্যের বাধ ভাঙলো। আমি এরপরে ভুলে যাই বাইরের ঝড়ের খবর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



