ব্লগ নিয়ে আমার ধান্দাবাজী আসলে সেই থেকে শুরু। আমি ব্যক্তিগত জীবনে একজন চরম সুবিধাবাদী গুডিবয় টাইপের ভদ্রলোক। কাউকে সামনাসামনি না বলতে পারি না, দুঃখ দিতে পারি না, ন্যায্যটাও চাইতে পারি না। অনেক বোধও অপূর্ণ। কেউ না বললে না বুঝি, হা বললে হা বুঝি। পরিপূর্ণ একটা ভোদাই চরিত্র। বাস্তবে সব ভাল'র চর্চা করি, সামাজিক চর্চা করি, ইচ্ছা-অনিচ্ছার যা পারস্পরিক সহাবস্থান তৈরী করে তা মেনে নেই। ব্লগে আমি সত্যিকারের আমি হতে চাইলাম। সামাজিক বিশ্লেষনে আমার যতটুকু ভাল আর তার সাথে যতটুকু খারাপ মিশে আছে, তার আনকাট পাবলিকেশন করতে চাইলাম। তেল মারা, প্রশংসা করা, কুটলামী-বিটলামী যা করা সম্ভব করবো, যা মন চায় - কারণ যখন যেটা আমার মনে উদয় হবে তাই তো আমি। আর যেহেতু এটা ভার্চুয়াল একটা জগৎ - তেমন অনিষ্ট হবার সম্ভাবনাও নাই। কেউ আমাকে চেনে না, আমিও কাউকে চিনি না।
আমার যাবতীয় ভাল-খারাপের প্রকাশ হতে থাকলো ব্লগ। কিন্তু ঐ যে বিটলামীর একটা স্তর হচ্ছে নিজের বিটলামী গোপন করা, সেটাও বেশ দক্ষতার সাথে শুরু করলাম। অবশ্য এটা বেশী বেশী ঘটা শুরু করলো ব্লগারদের সাথে পরিচিত হবার পর থেকে। সেই প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনে সবাই মোটামুটি আমাকে একজন ভাল অর্গানাইজার হিসাবে বাহবা দিল। আমি স্বসুখে আরো গদগদ হয়ে গেলাম। কিন্তু প্রাথমিক দূরভিসন্ধী আর ক্রমশ ভাল শব্দটা আমার নামের সাথে মিলেমিশে একটু বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। আলাদা করতে পারছিলাম না, ব্লগের আমার চরিত্র কি বাস্তবের চরিত্রের মত হয়ে যাচ্ছে নাকি ব্লগের চরিত্রের মত আমার বাস্তবের চরিত্র হতে চললো! কোন সিদ্ধান্ত উপনীত না হয়ে আমি এই অনির্ধারিত চরিত্র নিয়ে যাপন করা শুরু করলাম। কারণ উহাও আমার মৌলিক চরিত্র হিসাবে মনে হতে থাকলো! ভালো-খারাপের দ্বন্দ্ব, সমাজ-বন্ধন মানা ও ভাঙার দ্বন্দ্ব, কাজেই চলুক।
প্রাপ্তির বাসায় যাবার আগে বা পরে পিয়াল ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হলো। ও মনে পড়েছে, পিয়াল ভাইয়ের সাথে আগে দেখা হয়েছে। কারণ আমার অনেক লেখায় পিয়াল ভাই আমার ব্লগের প্রথম প্রানীকূল দর্শন বলে উল্লেখ করেছি। এর আগে ফৌনিক আলাপ। একদিন তখন আমার অফিসে মহা-ব্যস্ততা, মতিঝিল স্টক এক্সচেঞ্জে যেতে হবে। পিয়াল ভাই এমন সময় ফোন করলেন, সাথে শুভও আছে। আজিজে। আমি মতিঝিলের পথে আজিজে ঢু মারলাম। পিয়াল ভাইকে ব্লগের ছবিতে দেখে আমার মনে হয়েছিল আনস্ম্যার্ট কোন ছেলে, বয়স নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে বলে। কিন্তু দেখার পরে দেখলাম বয়স ঠিকাছে, কিন্তু আমার চেয়েও অনেক সজীব, টিশার্ট-জিন্সে একজন হিপ্পি! কেবল দাতগুলো ফাকাফাকা আর প্রচুর দাতপোকা যে প্রতিনিয়ত তার সাথে বাস করে সেটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা, সেটা হচ্ছে মাথায় হালকা একটু টাকের স্পর্শ, যা দেখে মনটা কিঞ্চিত নেচে উঠলো!
সে সময়টাতে শুভ ভাই থাকতেন ব্লগের একদম মাথায়। মানে সর্বোচ্চ ব্লগার সাড়িতে তার নাম প্রথমে এবং এর পরেই পিয়াল ভাইয়ের নাম। আমি তখন লেখার কোয়ালিটিতে তাদেরকেই শ্রেষ্ঠ মানতাম যারা সর্বোচ্চ ব্লগারের লিস্টে থাকতো। আমার এ ধারণা আরো পাকাপোক্ত হলো কাকতালীয়ভাবে শুভ ও পিয়াল ভাই দুজনেই ভাল লেখক হওয়াতে। তখন শুভ দারুন দারুন সমসাময়িক প্রসংগ নিয়ে স্যাটায়ার টাইপের লেখা লিখতো, আর পিয়াল ভাই পার্ফেক্ট ব্লগ লিখতো। নিজের টুকরো হাসি, কান্না, অভিজ্ঞতা, রোজনামচা। তখন সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ব্লগারেরও একটা লিস্ট ছিল, আমার প্রাথমিক খায়েস ছিল সেখানে নামটা ওঠানো, নিদেনপক্ষে ফ্রন্টপেইজে আমার নামতো থাকবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


