কনডম ছিড়ে বানের পানির লাহান পোস্ট প্রসবের আগের সে যুগে লিখে লিখেই আমি সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ব্লগারের লিস্টে আরোহন করলাম। সে সব লেখাগুলো এখন নেই তবে হাতে গোনা মন্তব্য জুটতো। মেজাজ খারাপ হয়ে থাকতো। ভাবতাম এমন কিছু করতে হবে যেন সবার আকর্ষণ আমার প্রতি তৈরী হয়। প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনের যোগ দেয়ার পেছনে এ কারণটাই প্রধান। আরো একটা উদ্দেশ্য ছিল আসলে, এটা একটা ফেক কেস কিনা তা যাচাই করা। সেসময় খুব সিম্পল একটা কাজ করেছিলাম, প্রতিটি ব্লগারের পোস্টে গিয়ে তাদের প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনে যোগ দেয়ার জন্য, তার বাসায় গিয়ে তাকে দেখে আসার জন্য আহবান জানিয়ে ছিলাম। এ কাজটা পুরোপুরি একটা কমিউনিটি মোবিলাইজিং, পেশাগত দক্ষতাটা সেখানে লাগালাম, কোন প্যাশন-ফ্যশন থেকে নয়। ব্লগের ক্যাম্পেইনের ফলশ্রুতিতে ঝড়ো হাওয়া, ধানসিড়ি, কালপুরুষ, একটু পরে বলছি, কামউজা, আবু সালেহ প্রাপ্তির বাসায় দেখতে গেল। আমি বলছি না, আমিই কেবল ক্যাম্পেইন করেছি, তখন প্রবাসী ব্লগারদের আবেগের দূর্দান্ত প্রকাশ ও লেখায় প্রতিদিন সমৃদ্ধ হচ্ছিল ব্লগ, তার তোড়ে ঢাকাবাসী ব্লগাররদের মধ্যে উপরোক্তরা গিয়ে দেখে এলো ফুটফুটে যাদুর রানী প্রাপ্তিকে।
এসময় আরেকটা কাজও চানস বুঝে করে ফেললাম। ক্রেডিটটা পুরোপুরি আমিই নিতাম, কিন্তু শরৎ ব্লগে আছে বলে তাকে বিশাল প্রশংসাটা করতেই হয়, এখানে বিটলামী করা যাবে না। কিছুদিন আগে সে একটা ভিডিও ক্যামেরা কিনেছে, ননডিজিটাল, কিন্তু পিসিতে ট্রান্সফার করার জন্য যাবতীয় ডিভাইসগুলোও লাগিয়েছে। পরিচিতদের অনুষ্ঠান, পার্বনের ছবি তুলে এডিটিং ফেডিটিং করে হাতযশও করেছে। ভবিষ্যতে একজন ডিরেক্টর হবার ইচ্ছাও হয়তো পোষন করে, অবশ্য এসব আমাকে কখনও বলেনি। তবে আমি মোটামুটি সেটা হবার জন্য প্রায়ই প্রচার করি, পরিচতজনরা মোটামুটি সবাই জানে যে আমার মধ্যে কিছু হব হব একটা ভাব আছে, যতটা তার যোগ্যতা তার বেশী বাগড়ম্বরতা। সে যাইহোক, শরৎকে গিয়ে বললাম, প্রাপ্তির বাসায় যে যাচ্ছি আমরা, একটা ডকুমেন্টারীও তো বানিয়ে ফেলতে পারি! শরৎ সোল্লাসে রাজী। প্রাপ্তির বাসায় প্রথম দিন গিয়ে আমরা সবাই সাক্ষাতকার দিলাম। ক্যামেরার সামনে কিছু বলার অভিজ্ঞতা সেই প্রথম। কথা বললো ধানসিড়ি, যাকে ব্লগের প্রথম যুগের একজন বিখ্যাত রাজাকার হিসাবে আমি মনে করতাম। থুথনীর নিচে হালকা একটু দাড়ী, ডেডিকেটেড প্রাক শিবির কর্মী এখন সম্ভবত পেশাজীবি জামাত কর্মী।
রাজাকারদের সাথে আমার ব্যক্তিগত জীবনে হরহামেশা ওঠাবসা করতে হয়। তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নাই, একজন অজামাতী লোকের চেয়ে তাদের চরিত্র আলাদাভাবে উজ্জ্বল করতে পারার মতও মনে হয় নাই। বরঞ্চ দেখি, আমি ধর্মকর্ম না করে যে সামাজিক সমস্যা ও সমধানের দারস্থ হই, তারাও তেমন হয়, মাঝখানে ইসলামের কথা বলে ফাও স্টান্টবাজী করাতে কেবল একটা অন্ধত্বই দেখি। ধানসিড়ির সাথে কথা বলে আমার তেমন ছাড়া আর কিছু মনে হলো না। নিপাট ভদ্রলোক, নিরীহ সজ্জন। অথচ ব্লগে তার সাথে জামাত-রাজাকার গালাগালির চুড়ান্তও হয়েছে। ক্যামেরার সামনে ভাল ভাল কথা বললো। ঝড়ো হাওয়াও বললো, এই ছেলেটা আস্তমেয়ের সাথে দেখতাম ব্লগে অলওয়েজ ইন্টারএ্যাকট করতো। সেদিন ঝড়োর সাথে পরিচয় হবার পরে ঠিক করলাম ব্লগে দুজনকে নিয়ে একটা প্যাচ লাগানোর চেষ্টা চালাবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


