প্রথম দিকে ব্লগে যাদের লেখায় স্বকীয়তা দেখেছি সে সাড়িতে পছন্দের সিরিয়ালে ছিল শমিত, সুমন চৌধুরী, হিমু, রাসেল ও পিয়াল। কিছুদিন পরে মনে হলো এদের সাথে দেখা করতে হবে। বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে কোথাও আড্ডা মারার কথা বলাতে জানা গেল, শমিত ইন্ডিয়াতে, সুমন জার্মানীতে, রাসেল আমেরিকাতে থাকে। মনটা এক প্রকার খারাপই হয়ে গেল। পিয়াল ও হিমুর সাথে দেখা হওয়া সম্ভবমাত্র। কিছুদিনের মধ্যে পিয়ালের সাথে দেখা হলো। কিন্তু হিমু'র আর নাগাল পাওয়া গেল না। হিমুর লেখার মহাভক্ত আমি। নিজস্ব একটা রপ্ত অভিধান আছে তার, লিখতে বসে কেমন যেন হাতের নাগালের মধ্যে পেয়ে যায় শব্দের টুটি! সযতনে বসিয়ে দেয়। ব্লগে তার লেখা আর মুখফোঁড়ের ভাষার মধ্যে একটা চমৎকার মিল রয়েছে যা কেবলমাত্র একজন মানুষেরই হওয়া সম্ভব! মুখফোঁড় যখন লেখে তখন সে অনেক বেশী স্পষ্টভাষী, অযৌক্তিক বিশ্বাসগুলো ধারালো আক্রমনে জর্জরিত করে, সেই সাথে স্যাটায়ার তো থাকেই কিন্তু হিমু যখন লেখে তখন সে অনেক বেশী লৌকিক স্যাটায়ারিক! হিমুকে মুখফোড়ের জনক ভেবে তার লেখার প্রতি আলাদা টান বোধ করতাম!
কিন্তু বেচারার একবার কি হলো, সারাক্ষণ আমার পেছনে লেগে গেল। প্রতিটি পোস্টে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমার শালী প্রসংগ টেনে নিয়ে আসতো। মেজাজ গেল ঘিঁচে, দিলাম ব্যান করে। আশ্চর্য্য, ক'দিন পরে দেখলাম তার ব্লগেও আমি ব্যান! সে নিয়ে গালাগালি করে একটা পোস্টও দিয়েছিলাম, কিন্তু বেচারা বোধহয় বুঝতে পারেনি, এটা তাকে নিয়েই লেখা। সে যাক, নতুন ব্লগ পুরাতন ব্যানদের দেখলাম অটো আনব্যন করে দিয়েছে। হিমুর ব্লগে এখন আমি আনব্যন, তবে এ লেখার পরে সে আবার একটা সুযোগ পাচ্ছে আমাকে ব্যান করার। অপরবাস্তব প্রকাশের সময় তার সাথে একবার ফোনে কথা হয়েছিল। সেও ব্লগ নিয়ে একটা বই বের করবে শোনার পরে লেখা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনের জন্য কথা বলেছিলাম। তবে আর যাইহোক আমার সাথে তার ফোনালাপ ফ্রেন্ডলী মনে হয়নি। আর পরে যখন দেখা হলো তখন বুঝলাম, হিমু ইন ব্লগ ইজ হিউমারাস, এন্ড হিমু ইন রিয়েলিটি ইজ তুমুল সিরিয়াস! আমি অবশ্য লাইফ নিয়ে কোন সিরিয়াসনেসের ধারেকাছেও নেই। জীবনটাকে কখনই ওর্থলিভিং মনে হয় না। সো হিমুর লেখাগুলোর ভক্ত হয়ে থাকলাম কেবল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


