somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পোস্টমর্টেম -১২

২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জারীরের দাড়ি দেখে আমার মনে হয়নি অল্প বয়স, আর প্রোফাইলের ছবি দেখে সেটা সেই ব্লগারেরর কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। অনেকে এ্যাবস্ট্রাকট অথবা অন্য কোন ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করে থাকে। এ নিয়ে আমার তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই। আস্তমেয়ে হেজাব পড়লেও আমার কাছে যেমন আবেদনময়ী, রাগ ইমন আমার চেয়ে শরীরে স্বাস্থে মাশাল্লা ভাল হলেও তার প্রতি আমার অনুরাগ কমে না। ত্রিভূজ তালপাতার সেপাই হলেও ভারিক্কী চালের যেমন মনে হয় তেমন শাওনের মাত্র ১৯/২০ হলেও হাটুর কাছে মনে হয় না। মূলত ব্লগে লেখা এবং মতপ্রকাশই হচ্ছে প্রধান আলোচ্য। ফজলে এলাহী নিতান্তই ভদ্রমানুষ, আশরাফ হয়তো তেমনই, কিন্তু আমার ও আমার মত ব্লগারদের বোধহয় চরিত্রে দোষ জাতিয় কিছু আছে বলে ভাবতে পারে উপরোক্তরা।

এখানে প্রথমত বাস্তবের চরিত্র চিত্রণের কোন সুযোগ তৈরী করতে আমি লেখালেখি করি না আগেও বলেছি। সবার সামাজিক যে চরিত্রটা সেটাই কেবল এখানে ফুটে উঠুক সেটা আমি চাইও না। আজকে আমরা যে গন্ডীবদ্ধ জীবন যাপন করছি একশ বছর আগে নিঃসন্দেহে সেটা এমন ছিল না। তখন যারা গন্ডী প্রসারণ করে নতুন উদাহারণ তৈরী করেছেন তাদের জন্য আজকে আমরা আজকের সামাজিক দৃষ্টান্ত তৈরী ও নৈতিকতা অনুসরণ করছি। প্রতিটি দিন নতুন নির্মাণ হয়েছে এবং এভাবে সমাজ এগিয়েছে। ব্লগটাকে আমার তেমন কিছু গন্ডী ভাঙার স্থান মনে হয়। এটা এগিয়ে থাকবে সামাজিক প্রচলিত নিয়ম-কানুন-শৃংখলের বাইরে নতুন একটা কিছু নির্মাণের জন্য।

সেজন্য আমি যে সামাজিক প্রানী - তার বাইরের চিন্তার জগতে যা কিছু কল্যানকর হতে পারে, আরো যা আমাদের জন্য মংগলময় হতে পারে, যে দিকনির্দেশনা এখনও আমাদের চর্চিত জীবনে রূপময়তা পায়নি তাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারি। এরজন্য ব্লগ একটা একটা চমৎকার প্লাটফর্ম। সম্পর্কগুলোকে যেমন দেখি সমীকরণে সমীকরণে ন্যুজ হয়ে পড়তে বাস্তবে, ব্লগে সে থেকে মুক্তি দেখতে চাই। সম্পূর্ণ বিপরীত ধারার মানুষটার যুক্তি দেখতে চাই, তার মত করে কিছুটা হলেও ভেবে দেখতে চাই। কেন এত বিচিত্রতা মানুষের কথায়, চিন্তায়, পোষাকে, ধর্মে, উচ্ছাসে, ভালবাসায়! রাগে, ঘৃনায়, আক্ষেপে! কত ভাবে তা সন্বন্ধ তৈরী করে আর কতভাবে শত্রুতা!

কি হচ্ছে এখানে যা অন্য কোথাও হয় না! এখানে প্রতিনিয়ত বিরুদ্ধ মত/পথের সাথে ইন্টারএ্যাকশন হচ্ছে। বাস্তবে আমরা যা এড়িয়ে চলি। নিজের আধিপত্যের জায়গাগুলোতে সাচ্ছন্দ বোধ করি। হিউমিলিয়েশনে আমরা বাস করি না। অপমানিত হবার জায়গা, স্থান, সংস্পর্শ বাদ দেই। ভালোলাগা, ইচ্ছে, অনুভূতি বিনিময়ে কম স্পেস দেখি, কম মানুষ পাই যার কাছে বলা যায় একান্ত কিছু কথা। ব্লগ পরিচয়ের সূত্র ধরে নতুন নতুন কিছু মুখ দেখি, যাদের অনেকেই মনের কাছাকাছি এসে যায়। সারাজীবন যত মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে তার চেয়ে বেশী হয়েছে একবছরের ব্লগজীবনে। বাস্তবের প্রিয় মানুষটির সাথে অনেক শেয়ারিং হয়। কিন্তু একসময় তা টানপোড়নে শেয়ারিং এর মত অনুকূল মনে নাও হতে পারে। নিজের মধ্যে কথা আর অনুভূতি নিয়ে ডুকরে মরতে হয়।

এখানে কিছু মানুষ আছে, যাদের সাথে নিজের বাস্তব জীবনের তেমন কোন ইন্টারএ্যাকশন নাই। ব্লগের বাইরে দেখা হলেও তা ঐ ব্লগের একটা এক্সটেন্ডেড রূপ হয়েই থাকে। নিজের পরিবার, সামাজিক জীবনে তেমন প্রবেশাধিকার নেই। যার জন্য ব্লগে এবং ব্লগের বাইরে একজন ব্লগার ভাল বন্ধু অনেক বেশী শেয়ারিং এর জন্য উপযোগী। এভাবে প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিভিন্নতার লালনকেন্দ্রে বিচরণের জন্য প্রতিটি ব্লগার উন্নত মানসের গুনাবলী অর্জন করতে পারে। সে দেখতে পারে অনেক না জানা রিএ্যাকশন, ছেলেটিকে জন্মের পরে সোনার পালংকে বড় করে এই দুষ্ট, কঠিন পৃথিবীর উপযোগী করা যাবে না, তাকে বাড়তে দিতে হবে সীসা আর ধুলোর পৃথিবীতে। তার প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাবে, ব্লগ এমন একটা জায়গা জারীরের জন্য।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় আর আস্তমেয়ের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জারীরের জন্য ব্লগীয় শুভেচ্ছা রইলো কিন্তু তাকে নিয়ে বলা কথাগুলো আমার রাগীং নয়, ওটা সত্যিই ছিল। আমাকে জারীর যেভাবে দেখবে সেটাই হচ্ছে তার আসল দেখা, আমাকে আমার মত চিনুক, তার চোখে আমি তার দৃষ্টির একজন ভাল মানুষ হিসাবে উপস্থাপিত হবার প্রয়োজনীয়তা দেখিনা, বরঞ্চ আমার মত আমাকে চিনলে তার চেনার দৃষ্টি উন্নত হবে।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×