somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -২৩

২৪ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিপ্লবী স্কুল শিক্ষকের সহধর্মীনি পোলাও, কোরমা সহযোগে ভুরিভোজের জন্য যখন নিমন্ত্রণ করলো তখন বনবাতাসী নিজেকে ফিরে পেয়েছে। আড্ডায় শরৎ, বাকীবিল্লাহ, চন্দন, জলি, ঝুমা দেশের জঙ্গীবাদের প্রসারে বিএনপি-জামাত সরকারের মুন্ডুপাত করে চলছে। বিকেল পাঁচটাতে রাজনীতির চেয়ে ক্ষুধা নিরাময় অনেক বেশী ফ্যাশনেবল মনে হলো আমার। প্রথম আহবানে আর দেরী না করে খেতে বসে যাই। বাকী ফোড়ন কাটে, খাবারের প্রথমে দেখছি আপনাকে। মারামারির কি শেষে?
মুরগীর ঝোল মাথায় উঠে। হাসতে হাসতে বিষম খেয়ে ফেলি। বনবাতাসীর প্রিয় অনেক কিছুই আমার জানা হয়নি। একজন মানুষের কত কিছু প্রিয়, প্রিয় নির্বাচনের কত ক্ষেত্র, সব জানা হয়ে ওঠে না ঘটা করে। কখনও পথ চলতে জানা হয়, কে মিষ্টি খায় বেশী, কে পছন্দ করে টক, কার লেবু চাই, আর কে খায় না লবণ!
আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর এসব জানার জন্য তেমন আয়োজন নেই। একবার অফিসের একটা অনুষ্ঠানে আয়োজন হয়েছিল এমন যে প্রিয় মানুষটির পছন্দের জিনিসগুলো জিজ্ঞেস করা হবে। আমার তখন সবচেয়ে পছন্দের নারী ছিল ছোট বোন ময়নাপাখী। কোথাও পিকনিক, অনুষ্ঠান হলে তাকে নিয়ে যেতাম। আয়োজকরা তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছিল তার প্রিয় কয়েকটা জিনিসের নাম। যেমন প্রিয় গান, প্রিয় কবিতা, প্রিয় ফুল এইসব।
তারপরে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনার ছোটবোনের প্রিয় গান কি?
আমি হতাশ। ময়নাপাখী ভাল গান গায়। আমার প্রিয় গানগুলো তার কণ্ঠে সবচেয়ে বেশী শুনি। মাঝেমাঝে সে ছাড়া ঐগানগুলি অন্য কারো কণ্ঠে আমার অসহ্য মনে হয়। কারণটা অবশ্য সরল। আমার প্রিয় গানগুলি সে আমাকে শুনাবার জন্য গলায় উঠিয়েছে। একটা আবেগীয় ছোঁয়া থেকেই যায়। কিন্তু তার প্রিয় গান আমার জানা নেই। তাকে গাইতে শুনতাম সবগানই, কিন্তু প্রিয় গানটা তো জেনেছে নিশ্চয়ই তার প্রিয়তম। আমার মাথায় এটা ঢোকে নি। অগত্যা সসম্মানে জিরো স্কোর নিয়ে আমি প্রত্যাবর্তন করলাম। আশ্চর্যজনকভাবে আমার বোন আমার পছন্দের বিষয়ে হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্কোর করে প্রথম পুরষ্কারটি নিয়েছিল।

ভোজনপর্বের পরে শাল-গজারী বন ভ্রমণের প্রোগ্রাম। আমার মাথায় ঘুরছে বনবাতাসীর প্রিয় খুঁজে বেড়ানো। জিজ্ঞেস করলাম, তোমার প্রিয় ফুল কি?
কৃষ্ণচুড়া। তোমাকে আগেও বলেছি।
তাইতো! সরি, প্রিয় ফল কি?
সেটাও আগেই বলেছি। আম।
আবারও সরি। আচ্ছা তোমার প্রিয় গান কি?
আমায় প্রশ্ন করে নীল ধুবতারা, আর কতকাল আমি রব দিশেহারা!
কার গানটি?
হেমন্তের! কি আশ্চর্য তুমি গানটা শোননি! তবে আমার প্রিয় শ্রীকান্তের গাওয়া গানটি।
আবারও সরি। ওকে, এখন থেকে গানটির দেখবে সব ইতিহাস খুঁজে বের করবো। কে লিখেছে, কে সুর করেছে, কোন ছবির।
হা হা হা। বনবাতাসী গুনগুনিয়ে গানটি গায়।

শাল গজারী গাছগুলি একই উচ্চতায়, একই দূরত্বে। ছায়াগুলি কৌনিক হয়ে দীগন্তের ফাকফোকড়ে রঙিলা আয়োজনে ব্যস্ত। জংগলের মধ্যে পায়ে চলা পথ, মানুষের পদতলে একটা রেখা তৈরী হয়েছে। আমার মাথায় ঘোরে কেন এই গানটা বনবাতাসীর প্রিয়! কি এমন কারণ! শরৎ তার এনসিরিজে ছবি তোলে। আমাদের হাতের মধ্যে ঘোরে আঙুলের রক্ষাকবচ। একটা জায়গায় এসে হঠাৎ খাড়া একটা ঢাল। বনবাতাসীকে কোলে নিয়ে নেমে যাই জংগলের মাঝে সমতল জমিতে। ধান কাটা হয়েছে শীঘ্রই। জমিতে প‌্যাচপ‌্যাচে কাদা মাঝেসাঝে, গতকালই বৃষ্টি হয়েছে। বনবাতাসী স্যান্ডেল খুলে জমির ঘাসে হাঁটে। আমাকেও হাঁটতে বলে। চটি খুলে হাতে নেই। মাটির জমিনের স্পর্শ পেলাম বহুদিন পরে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×