সাদা চামড়াদের বাদামীদের দেশে বিচরণের কিছু ঐতিহাসিক কারণ এ তল্লাটের সবাই জানে। ভাটিদেশে ঔপনিবেশিকতা, যীশুর মিশন, নতুন ঔষধের সাকসেস রেট নির্ণয়, বাদামী নারীর কামসূত্র উপভোগ এমন অনেক প্রয়োজনে সাদা চামড়াদের কয়েকশ বছর যাবৎ এ ভূমিতে দেখা গেছে। কিন্তু একজন ভেলেরী টেইলরের জায়গা নির্ধারিত জোয়ান অফ আর্ক, মাদার তেরেসার কাতারে। মহীয়সী ভেলেরী বাংলাদেশের পঙ্গু দরিদ্রদের জন্য কিছু করতে চেয়েছেন। শারিরীক প্রতিবন্ধীদের উন্নত চিকিৎসা ও পরবর্তিতে কর্মসংস্থানের এক মহৎ লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘ ২৭ বছরে তিলতিল করে তৈরী করেছেন সিআরপি। ভেলেরীর দেখানো স্বপ্নে ক্রমশ মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মাতে থাকে সিআরপি দরিদ্র, পঙ্গু মানুষের জন্য খুলে দেবে এক সম্ভাবনার দিগন্ত।
কালক্রমে অনেক সাহায্য সংস্থা, হিতৈষীরা এগিয়ে এসেছেন সাহায্য নিয়ে। তাতে কলেবর বৃদ্ধি ঘটেছে। তেরতলা হাসপাতাল হয়েছে। বাৎসরিক ত্রিশ লক্ষটাকা বেতনে প্রধান নির্বাহী নিযুক্ত হয়েছে। দরিদ্রদের মহান সেবায় নিয়োজিত হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা ভেলেরীর প্রচেষ্টাকে মহানজ্ঞানে যারা এগিয়ে এসেছিলেন তাদের লক্ষ্যও ছিল দারিদ্রসেবা। কিন্তু এখন সেখানে অর্থ ছাড়া চিকিৎসা হয় না। খরচ বাড়ছে দিনদিন। হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পেশাজীবি গোষ্ঠী দেখছে হাসপাতালের ফান্ড বৃদ্ধি কৌশল, আর নিজেদের পেশাগত নিশ্চয়তা। কিন্তু যে মহান লক্ষ্যে এর প্রতিষ্ঠা সেই স্বপ্ন বুকে লালন করা কাউকে পাওয়া গেল না নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে। অথচ একজন দাতা যখন সেখানে দান করেছেন তখন তার এটাই ছিল আনন্দ যে সে অংশগ্রহণ করছে দরিদ্রসেবায়। অসহায়দের সাথে তার সহমর্মিতা বিনিময় হয়েছে।
একজন ভেলেরী ১০০ টা সফি সামী বা আলফ্রেড মোল্লা বিক্রি করেও পাওয়া যাবে না। একজন সময়কে চালিত করে আরেকজন সময়ের দামে নিজেকে বিক্রি করে। ভেলেরী সময়কে কিনে নিয়েছেন। দুইকোটি টাকার দূর্নীতি যদি হয়ে থাকে তেরতালা ভবন নির্মাণে তাতে ভেলেরীর ব্যবস্থাপনা দূর্বলতা প্রতীয়মান হয় না, যে এতবড় প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে পারে তার যোগ্যতা এইচআরডি'র বই পড়ে মূল্যায়ন করার বিদ্যা হয়নি সাবেক উপদেষ্টার। একজন তৈরী করে দেয়, অন্যজন সেটাতে বসে খেয়ে নেয় শুধু লাভটুকু। ভেলেরীকে সিআরপির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে দরিদ্রদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের দৃষ্টান্ত বজায় রাখতে। যারা সিআরপি ট্রাস্টি বোর্ডে আছে তাদের কে এজন্যই নেয়া হয়েছে যেন তারা ভ্যালেরীকে সাহায্য করে, প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নয়।
মানুষের জন্য কাজ করতে চাওয়া মানুষকে সম্মান দিতে কোন সাদা আর বাদামী চামড়ার প্রাগৈতিহাসিক গল্প শুনিয়ে লাভ নেই। ভেলেরী টেইলর মানুষকে ভালবেসে যে অশ্রু ফেলেছেন সেটা বাঙালির জন্য নয়, সেটা স্রেফ মানুষের জন্য। যা মানবতার মহান উদাহারণ তৈরী করে তার বুকে ছুরি চালানোর মত নিষ্ঠুর কাজ যারা করেছে তাদের সমস্ত পেশাদারিত্ব থেকে বহিস্কার করা হোক, সিআরপিতে কাজ করার জন্য প্রধান যোগ্যতা হতে হবে দরিদ্রদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার মনন, ত্রিশলাখ টাকা বেতনের যোগ্যতা সম্পন্ন চাকরদের সিআরপি থেকে লাথি মেরে বের করা দেয়া হোক এখনি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



