দ্যাখো রোদের মাঝে বৃষ্টি! সূর্যটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অথচ তুমুল বৃষ্টিও! শৈশবে এমন দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে জানালার শিক ধরে দাড়িয়ে থাকতাম। মা বলতেন, খেকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে। বিয়ে না বুঝলেও তখন তা জগতের সমস্ত প্রানীর অনুষ্ঠান বলেই মনে হতো। বিয়ে বাড়ী যেমন সাজে হরেক রঙে ও আলোয়, প্রকৃতি তেমন সেজেছে বৃষ্টি ও রোদের কট্রাস্টে। সে দিনগুলোতে মাঝেসাঝে আমাদের কলোনীতে শিয়াল দেখা যেত, একবার একটা দেখে আমার কুকুরের মতই মনে হয়েছিল। কিন্তু মা বলতেন, কুকুর শেয়ালকেও ভয় পায়। আমার অবশ্য বিয়েতে কি কি খাওয়ানো হচ্ছে সেটা জানার আগ্রহ থাকতো সবচেয়ে বেশী। আমরা শিয়ালের বিয়েতে যাব কিনা আমার এহেন বিচিত্র প্রশ্নে অস্থির হয়ে থাকতেন মা জননী।
আজকে সকালে যখন গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম তখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো, অথচ সূর্য তার সবটুকু কিরণ নিয়ে হেসেই চলছে। মনে পড়লো ছোটবেলার খেকশিয়ালের বিয়ের কথা। এমন সময় আমরা ঘর ছেড়ে বের হয়ে পড়তাম, বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে এক অদ্ভুত বিয়ে খেতাম। সেইদিন স্মরণ করে বৃষ্টিতে ভিজলাম, ফোন করলাম সেই শৈশবের বন্ধু আতিককে। ব্যবসায়ী আতিক তখনও বিছানা ছাড়েনি। সে ফোন ধরতেই বললাম, আজকে খেকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে! সে ঐ প্রান্ত থেকে ঘুম জরানো কণ্ঠে বললো, তাহলে শিয়ালটার বিয়ে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত? আমি একটু অবাক হলাম, উল্টো বললাম, কোন শিয়ালের কথা বলছিস? আতিক বলে, কেন? শাহীনের কথা!
মনে পড়লো, শাহীনকে আমরা ছোটবেলা খেকশিয়াল বলেই ডাকতাম!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


