বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার রাত ছিল "লাইলাতুল বরাত" বা "ভাগ্য রজনী"। মুসলিমরা ঐ রাতে ইবাদত করেন। কে কতটুকু করেন জানি না তবে হালুয়া রুটি ভালই খাওয়া হয়।
সকাল ৯ টা বেজে কখ* মিনিট
শুক্রবার সকাল সকাল অফিস যাব বলে সকাল সকাল উঠলাম। উঠে দেখি কলে পানি নেই। ছাতা!!! আমি আবার ঝর্ণা ছাড়া গোসল করতে পারি না। অপেক্ষা করতে করতে বেজে গেল দুপুর ১টা। বুঝলাম গোসলটা অফিসে গিয়েই সারতে হবে।
দুপুর ১ টা বেজে ২১ মিনিট
একটা ব্যাগে গামছা ভরে বের হয়ে গেলাম। বাইরে গিয়ে দেখি ওমা পুরা হরতাল চলছে! ট্যাক্সি-সিএনজি-রিক্সা কিছুই দেখা যাচ্ছে না তেমন। যেদিকে যেতে চাই সেদিকে কেউ যাবে না। এক সিএনজিওয়ালা ৩৫ টাকা মিটারের ভাড়া চেয়ে বসল ৮০ টাকা! এক দর। কালো এক টাক্সি ক্যাব চাইলো ১০০ টাকা। ২৫ টাকার রিক্সা ভাড়া কেউ ৪০ টাকার কমে যাবে না, একজন বললো ৫০! ঐ সময় বেশ দয়ালু এক রিক্সাওয়ালা ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যা চাইলেন তা শুনে আর কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়লাম। ৩০ টাকা।
দুপুর ২ টা বেজে ১৩ মিনিট
পথে আরেকবার রিক্সা বদল করে অফিস পৌঁছলাম। কোন্ বাথরুমের ঝর্ণা ঠিক আছে পিয়নের কাছে জেনে দিলাম গামছাসমেত দৌড়। পুরো অফিস ফাঁকা। শুধু একজকে পেলাম যিনি বিছানায় বেশ আরাম করে শুয়ে টিভিতে নাটক দেখায় নিমগ্ন। গোসল শেষে দৌড় দিলাম মসজিদের উদ্দেশ্যে। জামাত ২:৩০ এ।
দুপুর ২ টা বেজে ২২ মিনিট
মসজিদে গিয়ে দেখি এলাহী কারবার। খুৎবা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময়ে ১ম বা ২য় তলায় জায়গা না থাকলেও ৩য় তলায় থাকে। আজ দেখি ৪র্থ তলায় ছাদ পর্যন্ত সিঁড়ির প্রতিটি ধাপও একজন করে দখল করে রেখেছেন! তাঁরা সিঁড়িতেই নামায পড়বেন। ছাদে গিয়ে দেখি কোন বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়নি। আকাশ কিছুটা মেঘলা হলেও আবহাওয়া অতি উত্তপ্ত। আর কোন উপায় নেই দেখে ছাদের তপ্ত পরিষ্কার মেঝেতেই বসে পড়লাম। একটু পরে আকাশ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়া শুরু হলো। পাশে বসা মুরুব্বীদের একজন হেসে বললেন, "আল্লাহর রহমত নেমে আসছে"। আমিও খুশী হয়ে ভাবলাম, যাক আমাদের (বা উনাদের) কষ্ট দেখে পরিবেশ ঠান্ডা করার একটা ব্যবস্থা তো হচ্ছে। একটু পর রহমতের ধারা বেড়ে গেল। হঠাৎ পাশের মুরুব্বীবৃন্দ উঠে সিঁড়িতে চলে গেলেন। আল্লাহর রহমত হোক আর যাই হোক, বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালই লাগে। তাই বসে রইলাম। একটু পরে উঠতেই হলো কারণ বসার জায়গাটাও ভিজে যাচ্ছে। নিচে নামার উপায় নেই। লোক গিজগিজ করছে। ছাদের দরজার পাশে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির নিচেই। শেষ পর্যন্ত জীবনে প্রথম বারের মত জুমার নামায পড়লাম খোলা আকাশের নীচে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে পানির জায়নামাযে।
দুপুর ২ টা বেজে ৪৭ মিনিট
অফিসে ফিরে দেখি পিয়নের কোন খোঁজ নেই। খাবার আনাতে হবে। এদিকে ক্ষুধায় পেট একেবারে...। অনেক পরে যখন তাকে পাওয়া গেল তখন মানিব্যাগে দেখি যথেষ্ট টাকা নেই। ১ টা মাত্র ৫০ টাকার নোট, সাথে কিছু খুচরা। ভাবলাম ডেস্কের ড্রয়ারে কিছু থাকতে পারে। খুঁজে-পেতে কয়েকটি ১০০ টাকার নোট পেলাম, একটি দিলাম খাবার আনার জন্য - নান রুটি দিয়ে আলু-খাসী, সাথে সবজি।
এরপর কাজে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মন বারে বারে চলে যাচ্ছে ঐ ড্রয়ারের দিকে। গাদা গাদা কাগজে ঠাসা, সাথে আরো অনেক হাবিজাবি জিনিষ ভেতরে। টাকা খুঁজতে গিয়ে চিপাচুপায় কিছু ছোট টাকার নোটও চোখে পড়েছিল। পুরো ড্রয়ারটা গুছিয়ে রাখার একটা খায়েশ জাগলো মনে।
মনে হলো যেন গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছি। গুপ্তধনই তো! আমার তো আর জানা ছিল না যে এখানে এত্তো টাকা পড়ে আছে!!!
যা পেলাম : -
১০০ টাকার নোট ... ২৯ টা = ২৯০০ /=
৫০ টাকার নোট ....... ৩ টা = ১৫০ /=
২০ টাকার নোট ....... ৪ টা = ৮০ /=
১০ টাকার নোট ..... ১৮ টা = ১৮০ /=
৫ টাকার নোট ......... ৬ টা = ৩০ /=
৫ টাকার কয়েন ....... ৩ টা = ১৫ /=
২ টাকার নোট ........ ৩১ টা = ৬২ /=
২ টাকার কয়েন ........ ৫ টা = ১০ /=
১ টাকার কয়েন ..... ৩০ টা = ৩০ /=
৫০ পয়সার কয়েন ... ২ টা = ১ /=
=========================
একুনে হৈলো .................. = ৩৫১৮ /=
কয়েকটি ২ ও ৫ টাকার নোট খামের সাথে লেগে ছিল রাবার ব্যান্ড গলে যাবার কারনে।
এই করতে করতেই দিন পার।
বিকাল ৪ টা বেজে ৫ মিনিট
অবশেষে খাবার আসল। খাওয়া দাওয়াও করলাম বেশ সময় নিয়ে। তারপর সামান্য কিছু কাজ করেই কেটে পড়তে হলো।
(আমার অফিসের ফাযিল কলিগগুলা এই গুপ্তধনের খবর জানলে কিন্তু আর রক্ষা নেই)
* ক = ০ ... ৫
* খ = ০ ... ৯
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


