somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাগ্য রজনী-র পরদিন :: অফিসে পেলাম গুপ্তধনের খোঁজ!!! :)

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার রাত ছিল "লাইলাতুল বরাত" বা "ভাগ্য রজনী"। মুসলিমরা ঐ রাতে ইবাদত করেন। কে কতটুকু করেন জানি না তবে হালুয়া রুটি ভালই খাওয়া হয়। ;) পরদিন শুক্রবার সরকারী ছুটি ছিল। বেশিরভাগ বাংলাদেশিই অবশ্য ছুটিটা উপভোগ করতে পারেননি। তবে আমার শুক্রবারও অফিস থাকে বলে পেলাম একটা ছুটি। ;) কিন্তু হাতে অনেক কাজ জমে থাকায় ভাবলাম এদিন অফিস গিয়ে কাজ এগিয়ে রাখব।

সকাল ৯ টা বেজে কখ* মিনিট
শুক্রবার সকাল সকাল অফিস যাব বলে সকাল সকাল উঠলাম। উঠে দেখি কলে পানি নেই। ছাতা!!! আমি আবার ঝর্ণা ছাড়া গোসল করতে পারি না। অপেক্ষা করতে করতে বেজে গেল দুপুর ১টা। বুঝলাম গোসলটা অফিসে গিয়েই সারতে হবে।

দুপুর ১ টা বেজে ২১ মিনিট
একটা ব্যাগে গামছা ভরে বের হয়ে গেলাম। বাইরে গিয়ে দেখি ওমা পুরা হরতাল চলছে! ট্যাক্সি-সিএনজি-রিক্সা কিছুই দেখা যাচ্ছে না তেমন। যেদিকে যেতে চাই সেদিকে কেউ যাবে না। এক সিএনজিওয়ালা ৩৫ টাকা মিটারের ভাড়া চেয়ে বসল ৮০ টাকা! এক দর। কালো এক টাক্সি ক্যাব চাইলো ১০০ টাকা। ২৫ টাকার রিক্সা ভাড়া কেউ ৪০ টাকার কমে যাবে না, একজন বললো ৫০! ঐ সময় বেশ দয়ালু এক রিক্সাওয়ালা ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যা চাইলেন তা শুনে আর কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়লাম। ৩০ টাকা। :)

দুপুর ২ টা বেজে ১৩ মিনিট
পথে আরেকবার রিক্সা বদল করে অফিস পৌঁছলাম। কোন্‌ বাথরুমের ঝর্ণা ঠিক আছে পিয়নের কাছে জেনে দিলাম গামছাসমেত দৌড়। পুরো অফিস ফাঁকা। শুধু একজকে পেলাম যিনি বিছানায় বেশ আরাম করে শুয়ে টিভিতে নাটক দেখায় নিমগ্ন। গোসল শেষে দৌড় দিলাম মসজিদের উদ্দেশ্যে। জামাত ২:৩০ এ।

দুপুর ২ টা বেজে ২২ মিনিট
মসজিদে গিয়ে দেখি এলাহী কারবার। খুৎবা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময়ে ১ম বা ২য় তলায় জায়গা না থাকলেও ৩য় তলায় থাকে। আজ দেখি ৪র্থ তলায় ছাদ পর্যন্ত সিঁড়ির প্রতিটি ধাপও একজন করে দখল করে রেখেছেন! তাঁরা সিঁড়িতেই নামায পড়বেন। ছাদে গিয়ে দেখি কোন বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়নি। আকাশ কিছুটা মেঘলা হলেও আবহাওয়া অতি উত্তপ্ত। আর কোন উপায় নেই দেখে ছাদের তপ্ত পরিষ্কার মেঝেতেই বসে পড়লাম। একটু পরে আকাশ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়া শুরু হলো। পাশে বসা মুরুব্বীদের একজন হেসে বললেন, "আল্লাহর রহমত নেমে আসছে"। আমিও খুশী হয়ে ভাবলাম, যাক আমাদের (বা উনাদের) কষ্ট দেখে পরিবেশ ঠান্ডা করার একটা ব্যবস্থা তো হচ্ছে। একটু পর রহমতের ধারা বেড়ে গেল। হঠাৎ পাশের মুরুব্বীবৃন্দ উঠে সিঁড়িতে চলে গেলেন। আল্লাহর রহমত হোক আর যাই হোক, বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালই লাগে। তাই বসে রইলাম। একটু পরে উঠতেই হলো কারণ বসার জায়গাটাও ভিজে যাচ্ছে। নিচে নামার উপায় নেই। লোক গিজগিজ করছে। ছাদের দরজার পাশে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির নিচেই। শেষ পর্যন্ত জীবনে প্রথম বারের মত জুমার নামায পড়লাম খোলা আকাশের নীচে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে পানির জায়নামাযে। :)

দুপুর ২ টা বেজে ৪৭ মিনিট
অফিসে ফিরে দেখি পিয়নের কোন খোঁজ নেই। খাবার আনাতে হবে। এদিকে ক্ষুধায় পেট একেবারে...। অনেক পরে যখন তাকে পাওয়া গেল তখন মানিব্যাগে দেখি যথেষ্ট টাকা নেই। ১ টা মাত্র ৫০ টাকার নোট, সাথে কিছু খুচরা। ভাবলাম ডেস্কের ড্রয়ারে কিছু থাকতে পারে। খুঁজে-পেতে কয়েকটি ১০০ টাকার নোট পেলাম, একটি দিলাম খাবার আনার জন্য - নান রুটি দিয়ে আলু-খাসী, সাথে সবজি।

এরপর কাজে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মন বারে বারে চলে যাচ্ছে ঐ ড্রয়ারের দিকে। গাদা গাদা কাগজে ঠাসা, সাথে আরো অনেক হাবিজাবি জিনিষ ভেতরে। টাকা খুঁজতে গিয়ে চিপাচুপায় কিছু ছোট টাকার নোটও চোখে পড়েছিল। পুরো ড্রয়ারটা গুছিয়ে রাখার একটা খায়েশ জাগলো মনে। :P যে কাজের জন্য অফিসে আসা তা না করে লেগে গেলাম এই আজাইরা কাজে। ক্ষুধা পেটে কি আর কাজে মন বসে? :-* ড্রয়ার থেকে সব বের করে গুছাতে গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ! টাকা যা বের হয়ে আসলো তা খুব বেশি না হলেও অফিসে এতো টাকা পড়ে থাকবে সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। অথচ ড্রয়ারের তালা সব সময় খোলাই থাকে!!

মনে হলো যেন গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছি। গুপ্তধনই তো! আমার তো আর জানা ছিল না যে এখানে এত্তো টাকা পড়ে আছে!!!

যা পেলাম ‌: -

১০০ টাকার নোট ... ২৯ টা =  ২৯০০ /=
৫০ টাকার নোট ....... ৩ টা =    ১৫০ /=
২০ টাকার নোট ....... ৪ টা =      ৮০ /=
১০ টাকার নোট ..... ১৮ টা =    ১৮০ /=
৫ টাকার নোট ......... ৬ টা =      ৩০ /=
৫ টাকার কয়েন ....... ৩ টা =      ১৫ /=
২ টাকার নোট ........ ৩১ টা =     ৬২ /=
২ টাকার কয়েন ........ ৫ টা =     ১০ /=
১ টাকার কয়েন ..... ৩০ টা =    ৩০ /=
৫০ পয়সার কয়েন ... ২ টা =       ১ /=
=========================
একুনে হৈলো .................. = ৩৫১৮ /=

কয়েকটি ২ ও ৫ টাকার নোট খামের সাথে লেগে ছিল রাবার ব্যান্ড গলে যাবার কারনে। :( একটা নোট তুলতেই পারিনি। এখানে নিট ক্ষতি হয়েছে ২ টাকা। X(

এই করতে করতেই দিন পার। :|

বিকাল ৪ টা বেজে ৫ মিনিট
অবশেষে খাবার আসল। খাওয়া দাওয়াও করলাম বেশ সময় নিয়ে। তারপর সামান্য কিছু কাজ করেই কেটে পড়তে হলো। :| গন্তব্য বন্ধুদের আড্ডাস্থল। কাজ না হোক, আড্ডা কি আর মিস করা যায় !? B-)

(আমার অফিসের ফাযিল কলিগগুলা এই গুপ্তধনের খবর জানলে কিন্তু আর রক্ষা নেই)

* ক = ০ ... ৫
* খ = ০ ... ৯
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৬
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×