somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধু ভাষায় লেখা আমার জীবনের ১ম চিঠি: অফিসের সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে জন্ডিসের কারণে এক মাস বাসায় বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল। কোন কাজ না করে বাসায় বসে থাকার যে কী কষ্ট সেটা তখনই টের পেয়েছিলাম। :( ক'টা দিন বাসায় থাকার পর অদ্ভুত কোন এক কারণে অফিসকে খুব মিস করছিলাম। অসুস্থতার ৩য় সপ্তাহে লিখে ফেললাম একখান চিঠি। :) আজকে সেটা আবার পড়ে মনে হলো সামুতেও ছেপে দেই। :P

==========================================

সুপ্রিয় ভাই-ভগিনীবৃন্দ,

কিয়ৎকাল ধরিয়াই অসুস্থ দেহখানি লইয়া শয্যাশায়ী হইয়া শুভ্র আকাশপানে চাহিয়া থাকি আর সবুজসম সূর্য্যখানা দেখিয়া ভাবনার জালিকা বুনি। জালিকা বুনিতে বুনিতে হঠাৎই গতকল্য খেয়াল হইলো, আহা! কতকাল কর্মক্ষেত্রে যাওয়া হয় না, কতকাল প্রিয় সহকর্মীবৃন্দের সহিত সাক্ষাৎলাভ ঘটে না, বার্তালাপও হয় না। যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করিবার বড়ই সাধ জাগিলো অন্তরে। অথচ উহা কী মতে সম্ভবপর হইয়া উঠিতে পারে ঠিক ঠাহর করিতে পারিতেছিলাম না। আজি অপরাহ্ন দুই ঘটিকায় নিদ্রোত্থিত হইয়া কিঞ্চিত ভাবিয়া হঠাৎ সংকল্পবদ্ধ হইলাম, একখানা ত্বড়িৎ-পত্রই লিখিব।

অসুস্থ থাকিবার অনেকগুলি যন্ত্রণার মাঝে একটি সান্ত্বনা এইরূপ যে, এই সময়কার অখন্ড অবসরের কল্যাণে মনঃপ্রাণ ভারহীন হইয়া দুঃশ্চিন্তাগুলিকে দূরে ঠেলিয়া দেয় আর অনেক ভাবনা রচিবারও অবকাশ করিয়া দেয়। তাহাতে কাহারও কাহারও অন্তর্নিবিষ্ট সুপ্ত সাহিত্য প্রতিভা জাগ্রত হইবার প্রয়াস পায়। আমারও বোধ করি সেইরূপই অনুভব হইতেছে। যাহাই হউক, মূল বিষয়ের চাহিতে ভূমিকাই বড় হইয়া ঠেকিলো বলিয়া ক্ষমা ভিক্ষা চাহিতেছি।

কিঞ্চিত বলিয়া রাখা ভালো, পত্র রচনা করিবার পূর্বেই অন্তরে ভাবনার উদ্রেক হইলো যে, ইহা তো ভাষান্দোলনের মাস, বসন্তের মাস ও ভালোবাসার মাসও বৈকি। এমনতর ভাবিয়া সর্বদিক বিবেচনাপূর্বক দুইটি বিষয় সাব্যস্ত করিলাম। এক, যাহাই লিখিব মাতৃভাষা বাঙ্গালাতেই লিখিব এবং তাহা আধুনিক বাঙ্গালার আদি রূপে, যাহা সাধু ভাষা নামে পরিচিত, উহাতে। নিশ্চয় করিয়া ভাবিলাম, এ মতে মহান ভাষান্দোলনের প্রতি সন্মানের পরাকাষ্ঠা দেখানো যাইবে। তবে অনভিজ্ঞ হস্তে লিখার দরুন সম্পূর্ণ প্রয়াস গুরুচন্ডালী দোষে না দোষাম্বিত হইয়া পড়ে সেই ভয় রহিয়াই গিয়াছে। দুই, সবাইকে তুমি সম্বোধন করিয়াই লিখিব। ইহাতে সকলের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়া হইবে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত কাহারও নিকট মানহানিকর বা আপত্তিজনক ঠেকিলে অবশিষ্টাংশ না পড়িবার পরামর্শ রহিলো।

অতএব, মার্জনাপ্রার্থনাপূর্বক এক্ষণে জিজ্ঞাসিতেছি, তোমরা সকলে কীরূপ আছো? আমার প্রত্যাশা এবং বিশ্বাস, তোমাদের সকলের সকল কিছু ভালোই চলিতেছে।

এই বার আপনার বর্ত্তমানাবস্থা বর্ণনা করিবার সামান্য সুযোগ লই। মনে বড়ই আকাঙ্ক্ষা ছিলো দ্বিতীয়বারের ডাক্তারি পরীক্ষার পরপরই সুস্থতার সনদ লইয়া বাহিরজগতে পদচারণার উপায় মিলিবে। কিন্তু, হা হতোস্মি! গতকল্য প্রতিবেদন হস্তগত হইবার পর যারপর নাই আশাহত হইলাম। তাহার উপরে, এই অধমের চাহিতেও স্বল্পভাষী ডাক্‌তার মশাই দিন তিনেকের ছুটিতে গিয়াছেন জ্ঞাত হইয়া কষ্ট আরও বাড়িলো বৈ কমিলো না। অবশ্য, মঙ্গলবার উনার সাক্ষাত মিলিবার আশা রহিয়াছে। নিম্নে, পুনরপি করা আমার দুইটা পরীক্ষার ফলাফল জানাইয়া দিতেছি : -

পরীক্ষার নাম     |  পূর্বেকার ফল  |  বর্ত্তমানের ফল
``````````````````````````````````````````````````````````
বিলিরুবিন        |       ৮.০২       |       ৩.২৭
হেপাটাইটিস-এ  |      ৪.০৫       |       ৩.৫৮

দুইটা ক্ষেত্রেই মাত্রা ১.০০ -এর নিচে নামিলে রূদ্ধাবস্থা হইতে আমার পরিত্রাণের পথ মিলিবে।

পত্রখানি আর টানিয়া বড়ো করা বোধ করি সমীচীন হইবে না।
বিশ্বমন্ডলের সকল প্রাণীই সুখী হউক, এই কামনায় সমাপ্তি টানিলাম।

সকলের নিত্যশুভাকাঙ্ক্ষী,
ঘুনমদন্তবে পণ্ণথিষকনি।
১১ই ফাল্গুন, ১৪১৫ বঙ্গাব্দ।

পুনশ্চ:
ক. যাহারা বাঙ্গালা পড়িতে পারিতেছ এবং লিখাগুলি বড় দেখিতেছ তাহারা, যাহারা লিখাগুলি ছোট দেখিতেছে উহাদের শিখাইয়া দাও।
খ. যাহারা বাঙ্গালা পড়িতে পারিতেছ কিন্তু লিখাগুলি ছোট দেখিতেছ তাহারা, যাহারা লিখাগুলি বড় দেখিতেছে উহাদের নিকট হইতে শিখিয়া লও।
গ. আর, যাহারা বাঙ্গালা দেখিতেই পারিতেছে না তাহাদের উদ্দেশ্যে আমার কিছুই বলিবার অবকাশ নাই। কী আর বলিব? উহারা তো এই পত্রই পড়িতে পারিতেছে না।

`````````````````````````````````````
পাদটীকা:
* শুভ্র আকাশপানে: ঘরের সাদা ছাদের দিকে।
* সবুজসম সূর্য্যখানা: ঘরের ঘূর্ণায়মান সবুজ পাখা।
* গুরুচন্ডালী দোষ: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ যা দূষণীয়।
* সন্মানের পরাকাষ্ঠা: এখানে মহান ভাষা আন্দোলনকে অসন্মান করা হয়নি। আসলে, আমরা কেউ কেউ এই একটা মাস খুব বাঙালী হয়ে যাই। বাকি এগারো মাস কোন খেয়াল থাকে না। অনেকটা রোজার মাসে খুব ইবাদত বন্দেগী করে বাকি বছর পাপে মগ্ন থাকার মতো। তাদেরকেই কটাক্ষ করা হয়েছে মাত্র।
==========================================



আমি এমনিতেই ভালো লিখতে পারি না। আর, সাধু ভাষা? সে তো আরো না! আমি নিশ্চিত এখানে হয়ত বেশ কিছু ভুল আছে। ধরিয়ে দিলে খুশিই হবো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: চাপ্পুর চীপ মডু জনাব
ডিমওয়ালা। এটি লিখে পাঠানোর আগে ওনাকে দেখিয়েছিলাম। বেশ কিছু ভুল সংশোধন করে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে ধন্যবাদ। :)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৪
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×