somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্যণ্ডা কালের চিন্তা-ভাবনা - *বাবু কথন*

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় কিছু ব্যাপার খুবই অদ্ভূত লাগতো। সবচে গোলমাল লাগতো এইটা ভাইবা, মানুষ বাচ্চা-কাচ্চা পাইতো কইথাইকা :-*। মনে আছে, একবার গেছি ছোট চাচার বাসায় বেড়াইতে, গিয়া দেখি ওমা! ছোট চাচী একটা বাচ্চা কোলে নিয়া বইসা আছে। আমি তো অবাক! এই দুদিন আগেও তো চাচির সাথে দেখা হইসে, কী একটা ওসুখে চাচি হাসপাতালে ভর্তি ছিল, আর এর মধ্যেই একটা জলজ্যান্ত বাবু যোগাড় করে ফেললো? আমি মাকে জিগেস করলাম, চাচিরা এই বাবু পেল কই। মা বলল, চাচিরা নাকি বাবুটা হাস্পাতাল থেকে কিনে নিয়ে আসছে। আমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, আমাকেও কি তোমরা কিনে আনছ :((? মা বলল, হ্যাঁ, অইতো চাচিদের মতই হাসপাতাল থেকে।
- আম্মু, বাবু কিনতে কি অনেক টাকা লাগে?
- অ – নে – ক টাকা
- তাইলে আম্মু হাসপাতালে বাবু পায় কই থেকে?
- ডাক্তারদের কাছে থাকে
- ডাক্তাররা পায় কই থেকে?
- আল্লাহ অদের কাছে পাঠায় দেয়।
- আল্লাহ কিভাবে পাঠায়?
- ওফ, যা ভাগ! খালি বিরক্ত করে ...
আম্মুর কথা বিশ্বাসও করতে পারতেছিনা আবার ফেলতেও
পারতেছিনা।

যাই হোক, দুদিন পরে দেখি নতুন কাহিনী। বাসায় নানু বেড়াতে আসছে। আমাকে নানুর কাছে রেখে আম্মু-আব্বু জানি কই চলে গেল। পরদিন দেখি, আম্মু একটা বাবু নিয়ে উপস্থিত। আমাকে দেখে আম্মু বলল, মামণি দেখো, তোমার জন্য বোন কিনে নিয়ে আসছি। আমি বললাম,
- কই থেকে কিনছ?
- অইতো ক্লিনিক থেকে
- হু... বুঝছি, আমাকে তোমরা ভাল পাওনা, তাই আমারে কিনছ ময়লা হাসপাতাল থেকে আর বোন কে কিনছ সুন্দর ক্লিনিক থেকে। :((
যাই হোক সেদিনের মতো আব্বু আমাকে কেম্নে ঠান্ডা করছিল, আপাতত সেটা আর মনে নাই।

ছোটবেলায় খুব বাংলা সিনেমা দেখতাম। সিনেমা গুলাতে কমন কাহিনী ছিল, নায়িকে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে, তারপর ডাক্তার এসে দেখে নায়ক’কে বলতো, কংগ্রাচুলেশনস!আপনি বাবা হতে চলেছেন। আমি ভেবে পাইতাম না, এইভাবে ডাক্তারের বলার কি দরকার আর নায়িকারই বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কি দরকার! তারপর মনে হল, হতে পারে নায়ক-নায়িকা বাবু কিনতে চায়, কিন্তু তাদের মা-বাবাকে লজ্জায় বলতে পারছেনা, আর তাই নায়িকা মাথা ঘুরে পড়ে যাবার ভান করে তাদের মা-বাবাকে বুঝিয়ে দেয় যে তারাও এখন এডাল্ট, তাদেরও টাকা পয়সা হইছে, সো বাবু তারা কিন্তেই পারে ।
গিট্টু লাগ্লো আরেক সিনেমা দেইখা। যথারীতি,নায়িকা মাথা ঘুরে পড়ছে, ডাক্তার এসে দেখে নায়ক’কে যেই না বলছে, কংগ্রাচুলেশনস!আপনি বাবা হতে চলেছেন, অমনি নায়কের মাথায় বাজ , মানে সিনেমায় তখন বাজ পড়ার দৃশ্য । (নায়ক ডাক্তারকে) ‘ এ কী বলছেন ডক্টর, আমি তো আমার স্ত্রীর সাথে একদিনও ঘর করলাম না’ ... আমি মনে মনে বললাম, গাধার গাধা! টাকা দিবি বাবু কিনবি, ঘর করা - করির কি দরকার। এখানেও কাহিনী কিছুই বুঝলাম না।

ছোটবেলায় আমি ছিলাম আবার কারটুন-নেটওয়ারকের বিশাল ভক্ত। প্রতিদিন দুপুর দুটায় Looney-tunes দেখাইতো। অইখানে আবার দেখলাম, সারস পাখি তার ঠোটে করে বিভিন্ন সাইজের ঝোলা(যার ভিতরে বাবু থাকে) নিয়ে আসে, আর এক একটা বাসার সামনে রাইখা যায়। আমি ভাবলাম, তাইলেই হইসে, কাহিনী এইটাই, প্রতিটা হাস্পাতালের একটা করে সারস পাখি থাকে, এরাই বাবু সাপ্লাই দেয়।
কিন্তু এই পাখি বাবু পায় কইত্থনে, হেই উত্তর আর কেউ দিতেপারে নাই।

গিট্টুর পরে গিট্টু খালি বাড়তে থাকে। মোবাইলের এয়ার-ফোনের গিট্টু যেমন ছুটে না, এই গিট্টুও তেমনি ছুটেনা। আরে বাবা টাকা দিয়েই যদি বাবু কিনতে হয় তাইলে, আমাদের বুয়া পাচটা বাবু কেনার টাকা পাইলো কই? কিছুই বুঝলাম না। তারপর নিজে নিজেই হাইপোথিসিস বানায় নিলাম,আসলে বুয়া বেশি বেশি বাবু কিনসে তো, সব টাকা – পয়সা শেষ হয়ে গেছে,এর জন্যি তারে বাসায় বাসায় কাজ করতে হয়।


এখন মাঝে মাঝে চিন্তা করি, ছোটবেলায় আমরা বোধহয় একটু বেশিই গবেট ছিলাম। বাট আজকাল্কের পোলাপান? ও এম জি !! একটা একটা পুরা পাইকা টসটস করতেছে। এইতো গতকাল আমার কাজিনের সাত বছরের ছোট মেয়েটা আমাকে বলল, আন্টিমণি, তুমি জানো বেবীরা কিভাবে আসে? আমি ঢোক গিলে বললাম, এইতো মামণি হস্পিটাল থেকে কিনে আনতে হয়। পাশ থেকে আরেকটা পিচ্চি বলল, ধুর আন্টিমণি তুমি কিছুই জানেনা। বেবীরা আসে ফারটিলাইজেশনের মাধ্যমে। আমি শুধু মাথা নাড়ায় বললাম, আসলেইরে বাপধন, আমরা অনেক কিছুই জানিনা।:|
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০১
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×