- *এই সব পোকা, এই সব মাকড়*
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
আমাদের বাসা, স্পেশালি আমার রুমটা, যাকে বলে এক্কেবারে, পোকামাকড় আর কীটপতঙ্গের অভয়ারণ্য । টিকটিক টিকিটিকি থেকে শুরু করে, ছোট মাইক্রো-সাইজের লাল পিঁপড়া, তাদের স্বজাতি বড় কালো আম-পিঁপড়া, আমাজনের আটপাওয়ালা মাকড়শা, টিউব্লাইটের আলো-খেকো ছোট ছোট পোকা, আফ্রিকান বড় বড় তেল চুকচুকে তেলাপোকা... কী নাই আমার রুমে! মাঝে মাঝে যখন নিজের রুমে ঢুকি,অরা সবাই এমনভাবে আমার দিকে তাকায়, নিজেকে যেন কোন ভিনগ্রহের প্রানী বলে বোধ হয়। বড় লজ্জা লাগতে থাকে, মনে হয় আমি যেন ওদের ঘরে না বলে ঢুইকা গেছি। ইদানিং তাই রুমে ঢুকার আগে নক করি, টিকটিকি টা টিক-টিক সিগ্ন্যাল দিলে পরে ঢুকি।
আর আমার রুমের পাশে যে বাথরুম, সেটার কথা আর কী বলব! সেখানে বিকেলের দিকে একটু রোদ এসে পরে, আর তাই অরা অইটাকে তাদের রমনা পার্ক বানায় ফালাইসে। বিকেলের দিকে গেলে তাই দেখা যায়, কী মনোহর দৃশ্য! বাবারে, জোড়ায় জোড়ায় লাল পিঁপড়া, কালো পিপড়া, ছোট-বড় টিকটিকি ঘুরতেছে। কেউ কেউ আবার উনাদের পুরা পরিবার- মা টিকটিকি, বাবু টিকটিকি, দাদি পিঁপড়া, নানু পিঁপড়া, ননদ-জা চৌদ্দ-গোষ্ঠী নিয়া চইলা আসছে!
আমার বাথরুম যদি হয় ওদের রমনা পার্ক, তাইলে গেস করেন তো ওদের বাথরুম কোনটা? আমার রিডিং টেবিল টা হইল ওদের সাধের বাথরুম। এমন সুচিন্তিত বাথরুম নিরবাচন দেখে অবশ্য আমি ওদের প্রসংশা না করে পারলাম না! কিন্তু প্রতিদিন চারবেলা উনাদের বাথ্রুম, আই মিন আমার রিডিং টেবিল পরিষ্কার করতে করতে আমার জান কয়লা। যখন চেয়ার-টেবিলে পড়তে বসি, ভয়ে ভয়ে থাকি, কোন্সময় না তেনারা আবার ছাদ থেকে আমার মাথাটা কে এইম করেন। তাই পড়তে বসলে এখন মাথা দুলায়ে দুলায়ে পড়তে থাকি। এট লিস্ট আমার মাথারে এইম করলেও, এইম টা যেন মিস হয়।
তয় যতই দিন যাইতেসে, টিকটিকি গুলান ততই অসভ্য হইতেসে। দেয়ালে কোন জায়গায় দুইটা একসাথে হইলেই কাম সারছে। একটা আরেকটার উপর উইঠা যায়! ছিঃ, কি অশ্লীল!! আরে বাপ, মিনিমাম প্রাইভেসিটা অন্তত মেনটেইন করে।
তবে এতদিন একসাথে থাকতে থাকতে ওদের প্রতি আমার একটা মায়া পড়ে গেছে! মাঝে মাঝে আমি তাই মাটিতে কোনায়-কানায় এক্টু-আধতু মধু ওদের জন্য রেখে দেই। ওমা! একদিন দেখি সেই মধু খেয়ে এক পিঁপড়া মহারাণী পুরা টাল হয়ে, চোখ-মুখ উলটে পড়ে আছে। দেখে খারাপ লাগলো, আহা বেচারি বুঝি লোভে পড়ে বেশি খেয়ে ফেলসে। দুঃখ লাগলো। কি করা যায়, কি করা যায় ভাবতে ভাবতে তাকায় দেখি পাশে আরেকটা পিঁপড়া ঘুরতেসে (বয়ফ্রেন্ড হবে মনে অয়)। ভাবলাম বেচারা বোধহয় আমার ভয়ে কাছে আস্তেসেনা। একটু দুরে সরে গেলাম। ওমা, দেখি অই বিশ্বাসঘাতক আরো দুরে চলে যাচ্ছে। অবাক হয়ে গেলাম, কী ঘোর কলিকাল রে বাবা! ইচ্ছা হইতেসিল বদমাশটার কান-পাশটায় জোরে ধরে একটা চটকনা লাগায়ে দেই। যাই হোক অইটা তো আর করতে পারলাম না, তার বদলে অই পালিয়ে যাওয়া পিঁপড়াটাকে ধরে এনে অই অজ্ঞান পিপরার পাশে রেখে দিলাম। দেখি বাছাধন এখন তোমার বান্ধবিরে না নিয়া যাও ক্যামনে? কিন্তু ভাল করে তাকায় দেখি আমার আঙ্গুলের চাপে বয়ফ্রেন্ড পিপরাঁড় দফা-রফা অবস্থা, এমনকি অই টাল বান্ধবির থেকেও খারাপ। এখন তো আমি বিপদে পইড়া গেলাম! কি করা যায়? ভেবে দেখলাম এখন আমার শেষ ভরসা মধু-খেয়ে টাল হয়ে পড়ে থাকা গার্ল-ফ্রেন্ড পিঁপড়া। একটু পানি এনে তাই অটার উপর ছিটায় দিলাম, যদি জ্ঞান-ট্যান আসে! বাট, মড়ার উপরে খড়ার ঘা। পানির ফোটার ভার সইতে না পেরে পিপড়াটার অবস্থা দেখি আর খারাপ হয়ে গেল। যাই হোক সেদিনের মত ক্ষান্ত দিলাম।
আর কান ধরে উঠ-বস করলাম, জীবনেও আর কোন দিন অন্যের উপকার করতে যামুনা।
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।