somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দু আইনে তালাক নাই।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ দৈনিক আমাদের সময় কর্তৃপক্ষ মাফ চেয়েছে একটা ভুয়া খবর বিজ্ঞাপন আকারে ছাপানোর জন্য। বিজ্ঞাপনের বিষয়টা নাকি ছিল বিচ্ছেদকৃত এক হিন্দু মেয়ের ছবি তার স্বামীর সাথে প্রকাশের। তাই এই পোস্টটা দিলাম।

তালাক বিষয়টা ইসালাম ধর্মে ও মুসলিম পারিবারিক আইনে স্বীকৃত। কিন্তুু বাংলাদেশের হিন্দু আইনে তালাক বা ডির্ভোস নাই। বাংলাদেশ ব্যতীত ভারতে হিন্দুদের মাঝে তালাক প্রথা রয়েছে। ভারত বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে তালাক প্রথা এনেছে। আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে ও পরিবর্ধনের প্রেক্ষিতে হিন্দু সমাজে তালাক প্রথা প্রর্বতিত হয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে বহুসংসদীয় আইন প্রবর্তিত হয়েছে ভারতে। ভারতে ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিবাহ বিধি পাসের মাধ্যমে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রথা চালু করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আজ পযর্ন্ত এমন কোন বিধি প্রবর্তিত হয় নাই। ১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দু বিবাহ আইনে তালাক কে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উক্ত আইনের ধারা-১৩ অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী নিম্নোক্ত কারণে তালাকের জন্য আবেদন করতে পারে।
১. সংসার ধর্ম ত্যাগ ২. যৌন কেলেংকারী ৩. নির্যাতন করার অভিযোগ উৎখাপিত হলে ৪. এছাড়া ১৯৭৬ সালের সংশোধনীতে আনীত পারস্পরিক সম্মতিতে উভয় উভয়কে তালাক দিতে পারে।

একটি বৈধ হ্নিদু বিবাহে এই সাতটি উপাদান থাকলে তাকে বৈধ হিন্দু বিবাহ বলে।
হিন্দু আইনের বিধান মতে হিন্দু বিবাহের উপাদান ৭টি । যেমন: ১ বয়স ২.সম্মতি ৩.বিধি সংগত পদ্ধতি ৪. আইনগত সর্ম্পক ৫. একই বর্ণ ৬. ধর্মীয় আনুষ্ঠিকতা ও ৭. একাধিক স্বামী নিষিদ্ধ।

তারপরও দেখা যায় সমাজে কোন কোন হিন্দু যুবক এবং যুবতীরা তাদের নিজ নিজ বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পরবর্তীতে অন্য ছেলে-মেয়ের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে সেটা কিভাবে ? সেটা হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে। আদালতের মাধ্যমে যে বিবাহ হয় তাকে সিভিল ম্যারেজ বলে হিন্দু ম্যরেজ বলে না। সেই সিভিল ম্যরেজের বিধান অনুসারে হিন্দু-ছেলে মেয়ে আদালতে সেপারেশন হওয়ার জন্য আবেধন জানায় যাহা বিচ্ছেদ হিসাবে বিবেচিত হয় । কিন্তুু কোন মেয়ে যদি হিন্দু নিয়মে একবার বিবাহ হয়ে যায় সেটাই স্বীকিতৃ বিবাহ । আদালত কাছ হতে বিচ্ছেদ হলেও তার আগের স্বামী , স্বামী হিসাবেই স্বীকৃত থেকে যায়।

অপর দিকে ইসলাম ধর্মে তালাকের বিধান আল-কোরানে অনুসারে স্বীকিৃত। এবং সেই ক্ষমতা পূরুষই প্রয়োগ করতে পারে মেযেরা নয়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে সূবর্ণা মোস্তফা হুমায়ন ফরিদীরে তালাক দিল কিভাবে?

এখানেই আসে মুসলিম পারিবারিক আইনের ভিন্নতাটা মূল ইসলামিক শরীয়া আইন হতে। এখানে সূবর্ণা মূস্তাফা যে তালাক টা হুমায়ন ফরিদির উপর প্রয়োগ করেছে সেটা হচ্ছে তালাকে-তৌফিজ। এটা বিয়ের সময় মেয়েরা ছেলেদের কাছ থেকে নিয়ে থাকে। অন্য ভাবে বললে ছেলেরা এই তালাক দেওয়ার ক্ষমতাটা মেয়েদের কে প্রদান করে। নারীরা তা সংরক্ষন করে । বিবাহের নিরাপওা স্বরুপ এটা মুসলিম মেয়েরা ছেলেদের কাছ থেকে পায় । ছেলেরা পালিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করিলে বা কোন অত্যচার তার স্ত্রীকে করিলে এটা প্রয়োগ করে মেয়েরা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাইতে পারে। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে স্ত্রীকে কতিপয় কারণে আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ডিক্রি পাবার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। পরে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমে তালাক সংক্রান্ত বিধান গুলির মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তা তালাকে তৌফিজের ক্ষেএেও প্রযোজ্য।

মুসলিম পারিবারিক আইনের আরেকটি বৈশিষ্ট যে এখানে বিশেষ বিবাহ আইনের মাধ্যমে মুসলিম মেয়েরা অন্য ধর্মের অনুসারি ছেলেকে ও বিবাহ করতে পারে। বিষয়টা এখানে একারণে উল্লেখ করলাম কারণ অনেকেই জানে না মুসলিম মেয়েদের যে এমন ভাবে বিয়ে হতে পারে।

হিন্দু বিবাহ কোন চুক্তি না এটা একটা ধর্মীয় আচার পক্ষান্তরে মুসলিম বিবাহ একটি চুক্তি।
১৫টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে কেন করে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭



যাদের চরিত্র খারাপ তারাই দ্বিতীয় বিয়ে করে।
দ্বিতীয় বিয়ে করা অন্যায়। একজন নীতিবান মানুষ কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করে না। দ্বিতীয় বিয়ের ফল তো ভালো হয় না। আমাদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×