somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক কালো আইনের থাবায় হিন্দুরা

০৭ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি কালো আইন নিয়ে আজ একটু বলতে চাচ্ছি। একটি তথাকথিত সেকুলার সমাজে সাম্প্রদায়িক এই আইনটি রয়ে গেছে। একে বিলোপ করে না কোনো সরকার। মানুষের ভালোর জন্যই তো আইন। কখনও কখনও আইনই মানুষের জীবনের হুমকি হয়ে দাড়ায়। এ ধরনের আইন বিরুদ্ধে তথাকথিত মানবতাবাদীরা সোচ্চার নয়। কালো আইনটির নাম শত্রু সম্পত্তি। যার বর্তমান নাম অর্পিত সম্পত্তি।

ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানের সাথে তিনবার যুদ্ধ হয়েছে ভারতের। এই তিন যুদ্ধ সামরিক রূপ নিলেও দেশ দুটির অভ্যন্তরে চলছিল দুই দেশের ধর্মীয় নাগরিকদের সম্পত্তি দখলের যুদ্ধ। পাকিস্তান থেকে হিন্দু খেদানোর একটি পরিকল্পনা ছিল এই কাজের মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ভারতে মুসলিম খেদানোর কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। যে কারণে পাক ভারত তিন তিনবার যুদ্ধে ভারতীয় মুসলিমরা সেদেশে শক্ত অবস্থানে থেকে গেছে। পক্ষান্তরে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে হিন্দু খেদানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। আর এই কালো আইন রাষ্ট্রীয় ভাবে এই কাজের স্বীকৃতি দেয়।


অর্পণ শব্দটির মানে আমরা সবাই জানি। দান, প্রদান, ন্যাস্তকরণ,সংস্থাপন। এই চারটি অর্থই হয়। ভারতে চলে যাওয়া হিন্দুরা সবাই কি বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবকে হিন্দুদের সম্পত্তি দান,প্রদান তথা অর্পণ করে গেছেন। কিন্তু জাতির পিতা অনেকটা গায়ের জোরেই হিন্দুদের দান-অর্পণ গ্রহণ করেন। জোর করে দান-অর্পণ হয় কিনা জানি না। দান কিংবা অর্পণের সঙ্ঘায় এভাবে বোঝানো হয় কিনা জানি না। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই বুঝতে হবে যে হিন্দুরা বাংলাদেশকে কিছু সম্পত্তি দান অথবা অর্পণ করে ভারতে চলে গেছে। এখন এই দান করা সম্পত্তি এদেশের মুসলিম শাসক গোষ্ঠী যে যেভাবে পারছে দখল করে বাড়ি বানাচ্ছে, দোকান পাট বানাচ্ছে। কিন্তু কোনো হিন্দু একই কাজ করলে সরকারী বাধা চলে আসে। এটার প্রমাণ আমি দেখাতে পারি ।

বাংলাদেশের হিন্দুরা শতধা বিভক্ত। এদের মধ্যে কোনো ঐক্য গড়ে ওঠেনি। তার প্রধান কারণ হিন্দুদের স্বার্থপরতা। কোনো হিন্দু হিতের নেতাকে শাসক গোষ্ঠী চুপ থাকার জন্য ঘুষ হিসেবে রাষ্ট্রদূত বানিয়ে অন্য দেশে পাঠান। অন্য শাসকেরা হিন্দু নেতাদের বাড়ি গাড়ি সহ নানা সামাজিক মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে চুপ থাকতে বাধ্য করান। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সম্প্রতি শাঁখারি বাজারে একটি পুরানো বাড়ি ভেঙে পড়া অবস্থায় সেখানকার লোকেরা নতুন ভবন তৈরি করতে যাচ্ছে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আইন যে আইন পাকিস্তানের শাসক আইয়ুব খান তৈরি করে গেছেন একটি ঘোষণার মাধ্যমে। যাকে বহাল রেখেছে এদেশের জাতির জনক। আইয়ুব খান এসব আইন করে বেশি দিন টিকতে পারেনি। এই আইন বহাল রেখেও জাতির পিতা বেশিদিন টিকতে পারেনি। অন্যরাও পারেনি। প্রত্যেকের করুন রাজনৈতিক পরিণতি হয়েছে।

সবচেয়ে হাস্যকর যে দৃশ্যটা চোখে পড়ে সেটা হচ্ছে দেশের বিচার বিভাগের ভাষ্য। বিচার বিভাগ এই আইনকে কালো আইন বলে একে অবৈধ আখ্যায়িত করলেও আজ পর্যন্ত এই আইন বহাল রয়েছে। এটাই পঙ্গু বিচার ব্যবস্থার একটি উজ্জ্বল তম উদাহরণ।

ঢাকা শহরে বিশেষ করে পুরানো ঢাকায় বহু পুরাতন বাড়ি রয়েছে। সেগুলোতে বহু লোক বাস করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। মালিকানার দাবিদার নেই দেখে এসব সম্পত্তি আজ অর্পিত। এ কারণে সরকার এসব বাড়ি সংস্কার করতে দিচ্ছে না ওই কালো আইনের জন্য।

অর্পিত সম্পত্তি আইনের সংশোধন করা উচিত যদি ইহা বিলোপ করা না যায়। যেসব অর্পিত সম্পত্তি মূল মালিকের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বর্গ নিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই একটি প্রায়োরিটি দিতে হবে। আর সরকার যেসব অর্পিত সম্পত্তি দখল করে সেগুলোতে ভাড়াটিয়া বসিয়ে টাকা কামাচ্ছে তাদেরকে ভিন্ন প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত। জীর্ণ ভেঙ্গে পড়া অর্পিত সম্পত্তি গুলোকে সংস্কার করে সেগুলোতে বাসযোগ্য অবস্থায় আনার অনুমতি দিতে হবে। এ পরিবর্তনের জন্য সরকার কোনো অর্থ দাবি করতে পারবে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনের জন্য এসব সম্পত্তি অবশ্যই হিন্দুদের কাছে দিতে হবে। সক্ষম হিন্দুদের এসব সম্পত্তি কেনার অধিকার দিতে হবে যাতে তারা বাড়ি সংস্কার করে কিংবা জীর্ণ বাড়ি ভেঙ্গে নতুন করে থাকতে পারে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×