somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬৬ জালান সেনতোসা ... (র্পবঃ ১)

১২ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই একটু আত্মস্বীকারোক্তি দিচ্ছি –

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হইতে দুইপা ফেলিয়া ...

নিজ দেশটাকে ঘুরে ফিরে সেভাবে দেখা হয়নি কিনতু অনেকটা একক চেষ্টা ও জেদের কারনেই পড়াশুনা করার জন্য শেষ পর্যন্ত কুয়ালামপুর যাওয়ার সুযোগ করে ফেললাম । সেসময় সার্ক কর্মসূচী চলছিল দেশে। আমার যেদিন ফাইট ছিল সেদিন রাতে সার্ক উপলক্ষে সাজানো সকল আলোকসজ্জা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। সেরাতে একজন আমাকে SMS করেছিল, ঢাকা নাকি শুধু আমার জন্যই সেজেছে ...। যাই হোক, জীবনে প্রথম প্লেনে চড়ার অভিজ্ঞতা হলো...অভ্যস্ত নই বলেই হয়ত প্লেন চলাকালীন বাতাসের চাপে দু'কান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল ।

বিমানবন্দর থেকে বার হয়ে কুয়ালালামপুরের দিকে যাত্রা শুরু হলো। পথে ঝুম বৃষ্টি , জানলাম এটা ওখানে নিত্যদিনের ঘটনা। দুপাশে সারি সারি পাম গাছ আর পাহাড় নতুন দেশে স্বাগত জানাচ্ছিল। স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারকে দেখা গেল শহরে প্রবেশ করার অনেক আগেই। প্রাথমিক প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করে ফেললাম কুয়ালালামপুর পৌছে। আমার ইচ্ছে ছিল এরপর সরাসরি কলেজ হোস্টেলে উঠার। কিন্তু ওখানে এক বাঙ্গালী বলল আমপাং পয়েন্ট -এ কিছু বাঙালী থাকে তাদের সাথে থাকতেই ভাল লাগবে। আমি সেখানে দুদিন ছিলাম বোধহয়; পাঠকদের কাছে মা চেয়ে সত্যি বলছি ভাল লাগেনি এতটুকু। প্রথমদিন বাঙালীদের সাথে পরিচিত হয়ে তেমন ভাল লাগেনি বরং একটা মানসিক চাপ তৈরী হয়েছিল, মধ্যরাতে জানালায় দাঁড়িয়ে একটু কেঁদেছিলামও বোধহয়। টুইন টাওয়ারকে জানালা দিয়ে দেখা যেত; আমি জানালায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত টুইন টাওয়ারের একটা একটা করে বাতি নিভে যাওয়া দেখতাম। দ্বিতীয়দিন খাওয়াতে অরুচি ধরে গেল, আমি গোঁ ধরে থাকলাম আমি কলেজ হোস্টেলেই থাকব এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে হোস্টেলে নিয়ে যাওয়া হলো।

আমার বাঙলো ধরনের বাড়ি খুব পছন্দ। তাই লাল টালি দেয়া ডুপ্লেক্স, বাঙলো ধরনের বিশাল বাড়িটি দেখা মাত্রই মনে ধরল। দোতালায় বিশাল এক রুম তখন খালি পাওয়া গেল, তবে দিনে দিনে রুমটিতে আমি সহ মোট ছয়জনের জায়গা হলো। আমরা রুমটিকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে ফেললাম। আমার রুমমেটরা বেশ লক্ষী ও কাজের ছিল।

বাংলাদেশে আমার হোস্টেল জীবনের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না; আমি নতুন জায়গায়, প্রায় ২০-২৫ জন সম্পূর্ণ অপরিচিত মেয়েদের মাঝে আমার প্রথম হোস্টেল জীবন বেশ আগ্রহ নিয়েই শুরু করলাম।

এক এক করে সবার সাথে পরিচিত হওয়া শুরু হলো হোস্টেলের সবার সাথে। আমিই তখন পর্যন্ত একমাত্র বাঙালী ও বিদেশী ছিলাম ওদের মাঝে। তবে পরে আরেক বাঙালী মেয়ে (ওর নাম ছিল জেনি) একমাস ছিল ওই হোস্টেলে। স্বভাবতই আমাকে নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেক ওদের মাঝে। সবাই মুসলিম ছিল; 'আইরিন' নামটি তাদেরকে আমার ধর্ম নিয়ে প্রথমে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল।

আমি একটুখানি গোছানো থাকতে ভীষন পছন্দ করি। আমার আলমারি (দুজন শেয়ার করতাম), পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে রান্নাঘরের একটা কোণা আমার মত করে গুছিয়ে ফেলতে দেরী হয়নি। অনেকটা নতুন, ছোট্ট সংসার সাজানোর মত করে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনেও ফেললাম ।

ভাষাগত একটা সমস্যা কাজ করছিল; হোস্টেলের মালয় মেয়েদের অনেকেই ইংরেজী বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতোনা। কিন্ত মানুষের অভিব্যক্তি, চোখ কিনবা হাতের ইশারা দিয়েও একটা চমৎকার ভাষা তৈরী হয়।

বেশীরভাগ মেয়েরাই সাধারনত বাইরেই খেতো কিনবা ছুটির দিনে KFC, McDonalds -এ ফোন দিলেই খাবার হাজির। বাকীদের সাথে রান্নাঘরের সময়টুকু বেশ মজারই ছিল। ওরা আমার রান্নার প্রণালী আগ্রহ নিয়ে দেখতো , আমিও তাই ।

ডাইনিং থাকলেও, বসার ঘরে, কার্পেটের উপর বসে, টিভি দেখতে দেখতে খাওয়াতেই সবার আগ্রহ ছিল। সেময় একজন আরেকজনকে নিজের মেনু থেকে খানিকটা সাধতোও।

কোরবানীল ঈদ প্রথম নিজের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ছাড়া পালন করেছিলাম। হোস্টেলের প্রায় সব মেয়েরাই ঈদের ছুটিতে হোমটাউন চলে গেল; শুধু আমরা তিন-চার জন রয়ে গেলাম। ঈদেরদিন বিশাল বাড়ি অনেক বেশীই চুপচাপ লাগছিল যেন। কি মনে করে আমি রান্নাঘরে গিয়ে রান্নার আয়োজন শুরু করে দিলাম। সবসময় যাতে ছুটোছুটি না করতে হয় তাই একটু বেশী করেই বাজার করে রাখতাম। মাঝে একবার এক মেয়ে এসে হয়ত নাস্তা হিসেবে নুড্যুলস স্যুপ করতে চেয়েছিল; কিন্তু আমি যেভাবে সবকিছু দখল করেছিলাম (অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই) তা দেখে ও যথেষ্ট ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে চলে গেল। পোলাউ, মাংস ভুনা, সালাদ আর পায়েস - এই ছিল আমার মেনু। আমি প্লেটে বেড়ে ওদেরকে খেতে দিয়েছিলাম; খুব আগ্রহ নিয়েই খেয়েছিল ওরা। সেদিন বাবা-মা-ভাইয়াকে ফোন করে আমার রান্না করার কাহিনী বলাতে তারা খুব মজা পেয়েছিল। আম্মা জানে আমি টুকটাক রান্না খুব আনন্দ নিয়েই করি। ভিনদেশীদের সাথে আমি একটু নিজের মত করে এভাবেই ঈদ পালনের চেষ্টা করেছিলাম আরকি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫
১৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×