
বিকেলের দিকে ফেসবুকে নতুন একটি চমক খবর হলো। সপ্তাহের শেষ. ... সবারই কাজের পাত তাড়ি গুছিয়ে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। ঠিক সেই সময়েই খবর এলো ...বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের নির্দেশ। হাই কোর্টের অর্ডারের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে করা আবেদন আপীল বিভাগ আজ খারিজ করে দিয়েছেন। সুতরাং চারিদিকে এখন একটি রব- বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলা এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এই ভবনের কোন রাজউক অনুমোদন নাই, যারা এই ভুমি বিজিএমইএ কে দিয়েছে, এই জমি হস্তান্তরে তাদের কোন এখতিয়ার ছিলো না, এই বিল্ডিং পানি চলাচলে ব্যপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, হাতির ঝিলের অপার সৌন্দর্য্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে এই ভবন। বাসে বসে শুরু হলো এই বিষয়ে পাব্লিকের এফ এম রেডিও!
সুতরাং এটিকে গুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়েই দিতে হবে। আদালতের হুকুম অবশ্যই পালনীয়। কিন্তু তার পরেও কানা ঘুষা হবেই। প্রশ্ন উঠবেই। কেন তবে এই ভবন নির্মানের সময় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন একজন প্রধানমন্ত্রী এবং এই ভবন উদ্বোধন করেছিলেন অন্যজন? কেন এবং কিভাবে বছরের পর বছর সকলের নাকের ডগায় এমন একটি অনুমোদন হীন বিল্ডিং গড়ে ওঠে? আর যখন গড়ে উঠেছেই, তখন তা ভেঙে কত প্রকার ফায়দা হাছিল হবে? এটি ভাঙলে কয় কিউসেক পানি কোথায় গড়াবে? ঢাকার আশে পাশের সব খাল কি দখল মুক্ত? ছল ছল কল কল করে সব খালে পানি প্রবাহিত হচ্ছে? বেড়িবাধের আপশে পাশে, যা আগে ঝিল ছিলো, তা কি এখন আর ঝিল আছে? নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা যেখানে গড়ে উঠেছে, সেখানে আগে কি ছিলো? একটি সন্তানের অবৈধ ভাবে জন্মাতেই পারে, তাই বলে কি তাকে মেরে ফেলতে হবে? মেরে ফেল্লে কি লাভ আসবে? কত লাভ আসবে?
এমন নানান কিসিমের বক্তব্য শুনতে শুনতে কখন যে বাসায় পৌছে গেলাম। টেরই পাইনি। অনেকে আবার র ্যংগস ভবনের উদাহরণ দিলো। সেখান দিয়ে এখন অনেক গাড়ি যাতায়ত করতে পারছে, কিন্তু এই ভবন ভাংতে পারলে কি হাতির ঝিলে ট্রলার বা লঞ্চ চলবে কিনা? এত্ত সব বিচার বিশ্লেষন শুনতে শুনতে কখন যে বাসায় পৌছে গেলাম টেরই পাইনি ...কন্ডাক্টর জোরে না চিৎকার দিলে হয়তো আরো দূরে গিয়েই নাবতে হতো। নাবার সময় কন্ডাকটর কইলো হেই বিল্ডিং ভাংলে কি জিনিষ পত্রের দাম কমবো? জান যট কমবো? দেশে সন্ত্রাসী চান্দাবাজি বন্ধ হইবো ....! আমি হাসি মুখে ওর দিকে চেয়ে বল্লাম...সাইড দেও. আগে নেমে বাসায় যাই ....নিজে বাঁচলে বাপের নাম!!!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৬ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



