somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইকিয়ার আয়না

২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইকিয়া বা আইকিয়া বিদেশে যারা থাকেন তাদের অনেকেরই হয়তো পরিচিত। এটা একটা বিশাল ইন্টারন্যাশনাল চেইন স্টোর যেটায় ঘরবাড়িতে প্রয়োজন হয়, এরকম যাবতীয় জিনিসপত্র এক ছাদের নিচেই পাওয়া যায়। ওদের বৈশিষ্ট্যটা হলো রিজনেবল দামে খুব চমৎকার ফার্নিচার ও অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরী করা। নিজেদের ডিজাইনারদের দিয়ে করে ওরা যারা খুব দারুন মডার্ন, ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের জন্য খ্যাত।

আমার এপার্টমেন্টমেইট- সাঈদ, ইরান থেকে। ওর মাঝে মধ্যে বাতিক হয় শপিং করার। না কিনলেও দেখার শখ। একদিন ইফতারীর এক দাওয়াতের পরে তার সেই বাতিক উঠলো। কাছেই ইকিয়া। চলো দেখি কি কি অফার দিচ্ছে। আমরা দাওয়াত থেকে আরো দুজনকে গন্তব্য না বলে বাগালাম যে চলো ঘুরে আসি। তারা মুখে প্রশ্ন বোধ চিহ্ন এঁটে রওনা দিলো। বারবার জিজ্ঞেস করে কোই যাও। আমি আর সাঈদ দুজনেই এড়াই। অর্ধেক পথ যাওয়ার পরে যখন বললাম ইকিয়া, দুইজনেই সোজা দাড়িয়ে গ্যালো। অনেক ইফতার করেছে, টায়ার্ড, রোজা ছিলো ইত্যাদি অযুটাতে টপাটপ বাসে উঠে পড়লো।

অত:পর পুরাতন দুই বন্ধুরই যেতে হলো। ইকিয়ায় গিয়ে দুইজন দুইদিকে, কারন জায়গাটা এত বড়, ঘুরে ঘুরে স্বাধীনভাবে দেখতে গেলে হারাতেই হবে। ইচ্ছে করেই হারালাম। আমি আমার মতো ঘুরছি। পিচ্চিদের সেকশনগুলো জোশ। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে ছোটদের ঘর বানিয়ে রাখে। দোতলা খাট, খেলনা, হাবিজাবি। লাইট সেকশনটাও আমার পছন্দের। ইন্টেরিয়র ডেকরেশনের প্রতি আগ্রহ ছিলো অনেক, এখনও আছে। তাই ঘর সাজানোর নতুনত্ব দেখলে শিশুতোষ মুদ্ধ হই।

ঘুরতে ঘুরতে খুব সস্তায় চারটুকরো কাঁচের এই আয়নাটা খুব পছন্দ হলো। আইডিয়াটা খুব সিম্পল । ফ্রেম বিহীন চার টুকরো আয়না। পেছনে গাম দিয়ে ইচ্ছে মতো দেয়ালে সেটে দাও যেকোন কম্বিনেশনে। কেউ লম্বালম্বি, আড়াআড়ি , স্কয়ার যা খুশি। ঠিক কত ডলার মনে নেই, তবে সম্ভবত 10 ডলারের নিচের। ভালো লাগায় আরো দুই একটা জিনিসের সাথে এটা কিনলাম। কেবল দেখার জন্য না, সিড়ি বা যেকোন জায়গার দেয়ালে জিনিসটা দারুন মানায়।

ইকিয়ার পুরোটা চক্কর দিতে পা টনটন। ততক্ষনে প্রায় দেড় ঘন্টা কেঁটে গ্যাছে। ইয়া ঢাউস বিলিডংয়ের দুইতলা দেখে দেখে হাটলে আরো অনেক বেশি সময় যায়। ক্যাশে দাম দিয়ে সাঈদের সাথে যখন এক্সিটে দেখা তখন ব্যাটার হাত খালি। সাধারনত এইটা একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার যে, যার বাতিকে শপিংয়ে যাওয়া হয় সে ঘুরে টুরে ফিরে আসে আর যাকে নিয়ে যায় দেখা যায় সেই একগাদা জিনিস কিনে ফ্যালে। ঘটনা এইখানেও তাই।

ছবি: ছবিটা ওভার এক্সপোজারে দুষ্ট (জানালার পদর্াটা দেখলেই বুঝবেন)। ঘরে আলো কম ছিলো তাই এক্সপোজার বাড়িয়েই তুলেছি। ফ্ল্যাশ ছাড়া ছবি তুলতে গেলে একটু হাত কাপলেই ঝাপসা হয়। তাই ট্রাইপডের বিকল্প নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৩:০৬
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইটি প্রশ্ন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০

১) জাতিসংঘ কি হাদী হত্যার বিচার এনে দিতে পারবে? ফিলিস্তিনি গণহত্যার বিচার কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?

২) আজকের পুলিশি হামলায় ছাত্র নেতারা ডঃ ইউনুসকে যেভাবে গালি দিচ্ছেন, তাতে কি জাতিসংঘ খুশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×