somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়!

২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-কেমন আছো?
উত্তর দিল না শোভন।
উত্তর দেবার ক্ষমতা তার নেই।
সারাটা শরীর যেন কেউ অবশ করে দিয়েছে।
দর দর করে ঘামছে শোভন।
তার চোখের সামনে খাটের পাশের টেবিলের উপরে পা তুলে বসে আছে রুবা।
রুবা আবার জিজ্ঞাসা করলো,
- কেমন আছো শোভন?
এবার যেন একটু কথা বের হলো শোভনের গলা থেকে, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর নয়, উল্টো প্রশ্ন,
- তু,তু,তুমি কী করে?
রুবা বলল,
- ধ্যাৎ, এই ঘরে আমি কতো এসেছি আগে, তোমার কি ধারণা আমার স্মৃতি শক্তি খুবই বাজে ধরণের?
রাস্তা চিনি না?
কোন কথা বলল না শোভন, তার হৃদপিন্ডের কাপন যেন ভূমিকম্প সৃষ্টি করবে।
রুবা আবার বলল আহ্লাদি গলায়,
- কি গো শোভন সোনা, কতা বলচো না কেনো?
আমি একটা ডিসিশন নিয়ে ফেলেছি।
যেহেতু, তোমার সাথে বিয়েটা হলে এই ঘর হতো আমার ঘর,
তাই আমি এখানেই থাকবো।
ভয়ে শোভনের মাথা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে,
সে রুবার দিকে একটা বালিশ ছুড়ে দিয়ে ঘ্যার ঘ্যারে গলায় বলল,
- যাও তুমি, যাও তুমি।
রুবা বলল,
- কেন যেতে বলছ?
আমাকে না একদিন বুকে জড়িয়ে বলেছিলে,
রুবা, তোমাকে বিয়ে করে আমার ঘরে রাণী করে রাখবো।
আজ কেন এত অবহেলা?
শোভন আরেকটি বালিশ রুবার দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল,
- যাও, যাও।
এছাড়া যেন আর কিছু বলতে পারছে না।
বালিশ ছোড়ার শক্তি থাকলেও বিছানা থেকে উঠার শক্তি নেই তার।
শোভনের ছুড়ে দেয়া বালিশটি হাতে ধরে হেসে ফেলল রুবা, বলল,
- শোভন চোনা, হি হি হি, শোভন সোনা, আর তো বালিশ নেই।
এখন কি ছুড়ে দেবে?
রুবার হাসি দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললো শোভন।
বলল,
- আমাকে মাফ করে দাও, আমাকে মাফ করে দাও।
ধমক দিয়ে শোভনের কান্না থামালো রুবা, তারপর নিজেই কেঁদে ফেলল।
দাঁতে দাঁত পিশে বলল,
- মেয়েদের কী মনে করিস তোরা?
ফূর্তির সময় ফূর্তি করবি আর সন্তানের দায় নিবি না।
শালা কাপুরুষ, দূর্বল বলে মেরে দিলি?
লাশ টা পর্যন্ত গুম করে দিলি।
আমি কিন্তু সব জানি।
শোভনের পানি পিপাশা পাচ্ছে অনেক,
সে বলতে থাকলো,
- মাফ, মাফ দাও।
রুবা বলল,
- না সোনা, তুমিতো কোন দোষ করনি।
মাফ চাইছো কেন?
আমি তোমার সাথে সংসার করব।
একটা সন্তান নষ্ট হয়েছে তাতে কী?
আরো দেব তোমায়।
হি হি হি।
কি, সংসার করবে না?
হা হা হা হা।
শোভন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, মাগো বলে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হাড়ালো।
শোভনের জ্ঞান ফিরলো তিন দিন পর হাসপাতালে।
আত্মীয় স্বজনের কোন প্রশ্নের উত্তর দিল না সে।
সুস্থ হয়ে থানায় গিয়ে স্বীকার করে নিল যে সে রুবাকে তার পেটের সন্তান সহ হত্যা করেছে।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, থানার বড় বাবু তার বিরুদ্ধে কেইস ফাইল করলেন না।
বরং তাকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে বললেন,
- বাড়ি যান, রুবা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
আবারো ভয়ে জ্ঞান হাড়ালো শোভন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×