সন্ধ্যায় এফডিসি’র ভিতরে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন ইভেন্টের কাজ চলছিল। কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুটিং হবে বিয়ে অনুষ্ঠানের। সিনেমাটিতে মিজু আহমেদ কনের বাবা। এখানে তার চরিত্র খলনায়কের নয় বরং তিনি পজেটিভ চরিত্রে অভিনয় করছেন।
শুটিং শেষে রাফি ভাই মিজু আহমেদের সাথে আমাকে কথা বলে দেন। তিনি সাদা রঙ্গের একটা পাঞ্জাবী পড়েছেন। মানুষটা দেখতে অন্য রকমের, বলা যায় অমায়িক একটা মানুষ। অথচ বিটিভিতে শুক্রবারের সিনেমায় কোকড়ানো রঙ্গিল চুলের বেশে খলনায়ক চরিত্রে তাকে দেখতে পেতাম সবসময়। সালাম দিয়ে হাত মিলিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা আরাম্ভ হল।
- আসসালামু আলাইকুম।
- আলাইকুম সালাম। রাফি বলল তুমি আমার সাথে কথা বলতে চাও।
- আপনার অভিনয় অনেক দেখেছি। আজ আপনাকে সামনে থেকে দেখলাম। আপনার অভিনয় আমাকে বেশ ভাললাগে।
- ধন্যবাদ।
- প্রায় প্রতিটি সিনেমা’ই আপনি খলনায়ক চরিত্রে থাকেন। সিনেমা শেষে আপনি যখন মারা যান তখন অনেক খুশি হতাম; মনের মধ্যে আনন্দ হত। আর দীর্ঘ একটা স্বতির নিঃশ্বাস ফেলতাম।
- হাঃ হাঃ। আসলে ওই সব তো সব'ই অভিনয়। এমনটাই হয়। দশর্করা চরিত্রের অবস্থান বুঝতে পারে। আর তা থেকেই দশর্কদের কাছে খলনায়কদের প্রতি এক প্রকার ক্ষোপ সৃষ্টি হয়।
- হুম। তারপরেও আপনার অভিনয় অনেক সুন্দর। খলনায়কের চরিত্রে আপনার বিপরীতে অন্য কাউকে কখনো ভাবা করা যায় না। আসলেই আপনি একজন বড় মাপের অভিনেতা।
কথা শেষ করে মিজু আহমেদ সামনের দিকে পাঁ বারিয়ে আমার কাধে হাত রেখে বললেন
- কি নাম তোমার।
- লিমন।
- ভাল থেকো লিমন; আল্লাহ হাফেজ।
এই বলে তিনি চলে গেলেন। আর আমি তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
ঘটনা'টা বেশি দিনের নয়। এইতো পাচঁ মাস আগের কথা'ই ছিল। সিনেমাতে মিজু আহমেদের প্রতিটি মিথ্যা মৃত্যুতে আমরা আনন্দিত হলেও সত্যিকারের মৃত্যু আজ বরই বেদনাদায়ক; বরই অশ্রুসিক্ত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



