somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বালক বালিকাদের গল্প । পর্ব - ১

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌচাকের মোড় ঘুরতেই পিছনের ছেলেদের মাঝে একটা মৃদু শোরগোল উঠলো । "মামা জোরে" "মামা জোরে", প্রতিদিনই এই এক খেলা । "শ্রাবণের" সাথে "কিন্চিতের" একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা । সকাল সাতটার বাস । জয়ী বসে আছে সামনের সিটের জানালার পাশে । প্রতিদিন সকাল ৬টায় উঠে অনেক তাড়াহুড়া করে বাস ধরতে ছোটা । প্রায়ই ওঠার পর বসার জন্য সিট পাওয়া যায়না । সকালে অফিসমুখী মানুষের ভীড় বর্ধিষ্নু এখন । দিনের শুরুতেই ট্রাফিক জ্যাম, গরম আর ঘুমঘুমে ভাব কেমন যেন ক্লান্তির একটি বলয়ে মনটাকে আবৃত্ত করতে চায় । মৌচাকের মোড়ে প্রায়ই শ্রাবণের সাথে কিন্চিতের মোলাকাত হয় । তখন এই দুই বাসের মৃদু উত্তেজনার প্রতিযোগিতার খেলাটা জয়ী বেশ উপভোগ করে ।

মগবাজার, কাকরাইলের মোড় ঘুরে শাহবাগ পর্যন্ত একটা টানটান উত্তেজনা । নাহ! আজ কিন্চিত এগোতেই পারছেনা । শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো তাদের পসরা সাজাচ্ছে । অক্টোবরের শুরু । শীত পড়বে পড়বে । ফুলের বর্ণিল মেলা শুরু হবে । জয়ী একটা বড় করে নিঃশ্বাস নিল । এতদিন হয়ে গেল ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে! আজও ইউনিভার্সিটিতে ঢুকলেই ওর মনটা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায় । অনেক সময় সারাদিন তপ্ত রোদের পর হঠাৎ যখন আকাশে মেঘ ঘনায়, কোথা থেকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে, প্রথম বৃষ্টির কয়েকটা ফোটা শুকনো ধূলায় কেন একটা সোঁদা গন্ধ ছড়ায় তখন মনটা যেমন একটা অন্যরকম আনন্দে কেমন করে ওঠে - জয়ীর মনে হয় ওর ইউনিভার্সিটিতে ঢোকার আনন্দটা অনেকটা ওরকম ।

পাশের মেয়ে দুটো পুরোটা পথ গল্প করছে । মনে হয় একই সাবজেক্টে পড়ে । নাম ধরে টীচারদের বদনাম হচ্ছে, হঠাৎ করেই অপ্রাসঙ্গিক ভাবে হলুদ জামা পড়া মেয়েটা একটা ডাই করা শাড়ি বের করলো ।
"কাল এটা করলাম - দ্যাখতো কেমন হয়েছে"?
ও মা!! কি সুন্দর!!! সাদা জামার উচ্ছ্বাস ।

ভালোই লাগছে তো শাড়ীটা!!

দেখতে দেখতেই বাসটা এসে মসজিদ গেটে থামলো । জয়ীর চোখ তৃষ্নার্ত । চেয়ে আছে মসজিদ গেটের পাশে ছায়া ছায়া রাস্তাটার দিকে । ছেলেমেয়েরা ধীর পায়ে দলবেধে হাটছে । হলুদ জামা.. সাদা জামাও হারিয়ে যাচ্ছে দূরে । আবার দেখা হবে?? জানেনা। হবে হয়তো!!
আর্টস ফ্যাকাল্টির সামনে আসলেই জয়ীর মনটা একটু খারাপ হয় । ওর মনে হয় ইকনোমিক্স না নিয়ে সায়েন্স পড়ার ডিসিশানটা নেয়া ওর জন্য ঠিক হয়নি । দুপুর বেলা কার্জন হলের নীরব পরিবেশ থেকে জয়ী রিকশা করে আর্টস ফ্যাকাল্টির পাশ দিয়ে যায়, ওর মনে হয় সামনে নানা রঙের বুননে একটা নির্বাক চলচ্চিত্র হচ্ছে - ও তার দর্শক । ছোট ছোট গ্রুপ, হাসি ঠাট্টার প্রান্জল চিত্র , কখনও হঠাৎ করে জোর গলার মিছিল, কোথাও হয়তো অজানা কোন উপলক্ষ্যের ছোট্ট সামিয়ানা টাঙানো অনুষ্ঠান, এমনকি ঝালমুড়ি মামাদের সংখ্যাও কার্জন হলের দশগুন । জয়ীর মনে হয় - এটা একটা অন্য জীবন । ওর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই মাত্রাটা নেই ।

মনটা খারাপ হলো । ১১ মাস হতে চললো বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছে । সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে! "শ্রাবণ " ঘুরে কার্জন হলে নামিয়ে দিলো শেষ কজনকে । পরিচিত কাউকেইতো দেখা যাচ্ছেনা !! ক্লাসে এসে দেখে মিতু আর রিনি বসে আছে আগেই ।
কি রে?? মিতুর প্রশ্ন ।
"ভালো", কথাটা বলেই জয়ীর মনে পড়লো ৯টার ক্লাসের এ. কে.র এসাইনমেন্টটাই আনা হয়নি । কথাটা ভাবতেই জয়ীর মনে ক্লান্তি ঢুকে পড়লো এক টুকরো ।
"শোন! আমি এ্যাসাইনমেন্টটা বাসায় ফেলে এসেছি "।
"ওমা!! কি হবে?? এক কাজ কর! বাসায় যেয়ে নিয়ে আয়", রিনির সরল জবাব ।
জয়ীর খুব বিরক্ত লাগছে । কাল রাত সাড়ে বারোটা জেগে ও এ্যাসাইনমেন্টটা রেডি করেছে । এ. কে. এমনিতেই ভীষন রগচটা । তাকে কোনমতেই যুক্তি দিয়ে বোঝানোর সাহস জয়ী দেখাতে যাবেনা । আজকে আর ক্লাসই করবেনা - এই সিদ্ধান্ত জয়ী খুব দ্রুতই নিয়ে ফেললো । বন্ধুদের জানিয়ে বেরিয়ে আসলো বাইরে ।

বিরক্তির টুকরোটা বাড়তে বাড়তে মেঘ!! কি করা যায় !! কোথায় যাওয়া যায়!! বাসায় যাবে? নাহ!.... হেথা নয় .... হেথা নয়... অন্য কোথা... অন্য কোনখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৩৮
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×