somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈষম্য ভাবনা-৪

১৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জীবন ও সমাজ ব্যবস্থায় কমবেশি বৈষম্য আছে একথা স্বীকার করেই বলছি, কোন বৈষম্যই স্রষ্ঠা কর্তিক সৃষ্টি নয়। প্রথমেই নর-নারীর বৈষম্যের কথা বলতে চাই। প্রকৃতিগতভাবে নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল, অথবা মেধা কম একথা একজন পুরুষই বলে। নারী একথা শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়েছে যে, তারা দুর্বল। এদেশেই অনেক উপজাতি বা নৃ-গোষ্ঠী আছে যারা পুরুষের জন্য অপেক্ষা করে না, নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে, কাজ করে এবং সংসার পরিচালনা করে। পুরুষরা সেখানে পুতুলের মতো অবস্থান নেয়। আমরা মনে করি যে কোন বৈষম্য ছোট বড় ধনী নির্ধন, সুস্থ-অসুস্থ, দুর্বল-সবল প্রভৃতি তৈরি অবশ্যই মানুষের সৃষ্টি। অর্থনৈতিকভাবে শোষণের ফলে এ ধরনের অনেক বৈষম্য সমাজে চলে আসছে।

ধর্ম সম্পর্কে যারা অজ্ঞ তারা প্রায়শ স্রষ্ঠার প্রতি দুর্বল হয়ে ভাগ্যের উপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। আমরা মনে করি যিনি বা যারা যথাযথ পরিশ্রম করে, সময় এবং সুযোগকে কাজে লাগায়, অলসতা ত্যাগ করে কর্মে উদ্যোগী হয় সেই বা তারা সমাজকে পরিচালিত করে। এখানে শরৎচন্দ্রের একটি উদ্ধৃতি দিতে চাই। তিনি বলেছেন, ''সমাজপতি কে? তুমি আর আমিই সমাজপতি। যার টাকা আছে সেই সমাজপতি"। এ কথা দ্বারা সমাজে একশ্রেণীর শোষক তথা প্রতিভূ মানুষের প্রতি আঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সকল বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে মানুষের অজ্ঞতা, কম শিক্ষা, তথা সমাজের বিত্তশালীদের নানারকম অপকৌশল কাজ করে। আমরা চাই শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থায় গরিব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে দেশ ও রাষ্ট্রের তথা সমগ্র সমাজের অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং অবস্থান জড়িত। সুতরাং আমরা আছি সেদিনের অপেক্ষায় যেদিন গ্রাম আর শহরের ভিতর ব্যাপক বৈষম্য থাকবে না, পাশাপাশি ধনী নির্ধন মানুষগুলো একে অপরকে নিচু চোখে দেখবে না, শিক্ষার প্রকৃত আলো ছড়িয়ে সমগ্র সমাজ উন্নয়নের শিখরে পেঁৗছবে।

বৈষম্য কখনো প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্ট নয়, এটা মানুষেরই সৃষ্টি। আমাদের সমাজে এমন কিছু ছোট মনের মানুষ আছে যারা নিজেকে বড় মনে করে সবসময়। তারা অপর মানুষকে ছোট ভেবে নিজেদের মধ্যে দেয়াল গড়ে তোলে। তাছাড়া নর-নারীর মধ্যে তারা বৈষম্য সৃষ্টি করে নারীকে কখনো মানুষ হিসাবে ভাবতে পারে না। তারা ভাবে নারী দুর্বল, তারা পুরুষের তুলনায় অনেক হেয়। এই প্রভেদ সৃষ্টি করা কখনো উচিত নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×