জীবন ও সমাজ ব্যবস্থায় কমবেশি বৈষম্য আছে একথা স্বীকার করেই বলছি, কোন বৈষম্যই স্রষ্ঠা কর্তিক সৃষ্টি নয়। প্রথমেই নর-নারীর বৈষম্যের কথা বলতে চাই। প্রকৃতিগতভাবে নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল, অথবা মেধা কম একথা একজন পুরুষই বলে। নারী একথা শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়েছে যে, তারা দুর্বল। এদেশেই অনেক উপজাতি বা নৃ-গোষ্ঠী আছে যারা পুরুষের জন্য অপেক্ষা করে না, নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে, কাজ করে এবং সংসার পরিচালনা করে। পুরুষরা সেখানে পুতুলের মতো অবস্থান নেয়। আমরা মনে করি যে কোন বৈষম্য ছোট বড় ধনী নির্ধন, সুস্থ-অসুস্থ, দুর্বল-সবল প্রভৃতি তৈরি অবশ্যই মানুষের সৃষ্টি। অর্থনৈতিকভাবে শোষণের ফলে এ ধরনের অনেক বৈষম্য সমাজে চলে আসছে।
ধর্ম সম্পর্কে যারা অজ্ঞ তারা প্রায়শ স্রষ্ঠার প্রতি দুর্বল হয়ে ভাগ্যের উপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। আমরা মনে করি যিনি বা যারা যথাযথ পরিশ্রম করে, সময় এবং সুযোগকে কাজে লাগায়, অলসতা ত্যাগ করে কর্মে উদ্যোগী হয় সেই বা তারা সমাজকে পরিচালিত করে। এখানে শরৎচন্দ্রের একটি উদ্ধৃতি দিতে চাই। তিনি বলেছেন, ''সমাজপতি কে? তুমি আর আমিই সমাজপতি। যার টাকা আছে সেই সমাজপতি"। এ কথা দ্বারা সমাজে একশ্রেণীর শোষক তথা প্রতিভূ মানুষের প্রতি আঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সকল বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে মানুষের অজ্ঞতা, কম শিক্ষা, তথা সমাজের বিত্তশালীদের নানারকম অপকৌশল কাজ করে। আমরা চাই শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থায় গরিব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে দেশ ও রাষ্ট্রের তথা সমগ্র সমাজের অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং অবস্থান জড়িত। সুতরাং আমরা আছি সেদিনের অপেক্ষায় যেদিন গ্রাম আর শহরের ভিতর ব্যাপক বৈষম্য থাকবে না, পাশাপাশি ধনী নির্ধন মানুষগুলো একে অপরকে নিচু চোখে দেখবে না, শিক্ষার প্রকৃত আলো ছড়িয়ে সমগ্র সমাজ উন্নয়নের শিখরে পেঁৗছবে।
বৈষম্য কখনো প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্ট নয়, এটা মানুষেরই সৃষ্টি। আমাদের সমাজে এমন কিছু ছোট মনের মানুষ আছে যারা নিজেকে বড় মনে করে সবসময়। তারা অপর মানুষকে ছোট ভেবে নিজেদের মধ্যে দেয়াল গড়ে তোলে। তাছাড়া নর-নারীর মধ্যে তারা বৈষম্য সৃষ্টি করে নারীকে কখনো মানুষ হিসাবে ভাবতে পারে না। তারা ভাবে নারী দুর্বল, তারা পুরুষের তুলনায় অনেক হেয়। এই প্রভেদ সৃষ্টি করা কখনো উচিত নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






