somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ইগ নোবেল" প্রাইজঃ অদ্ভুতুড়ে আর মজার সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সন্মাননা!

১০ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"ইগ নোবেল" নামটি এসেছে ইংরেজি "Ignoble" আর "Nobel Prize" শব্দ দুটোর মিশ্রন থেকে। এটি একটি সন্মাননা বা পুরস্কারের নাম যেটিকে মূলত নোবেল পুরস্কারের "প্যারডি" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে "Annals of Improbable Research" নামে একটি পাক্ষিক সাময়িকীর সম্পাদক এবং যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা মার্ক আব্রাহামস এই পুরস্কারের প্রবর্তন করেন। প্রতি বছর বেশ কিছু ক্যাটেগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয় যার মধ্যে রয়েছে রসায়ন, পদার্থ, চিকিৎসা, সাহিত্য, শান্তি ইত্যাদি। ইগ নোবেল প্রাইজ সাধারণত সেই সকল আবিস্কারকে উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় যেগুলো প্রথমে হাসির উদ্রেক করলেও পরবর্তীতে মানুষকে ঐ বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে উদ্ভুদ্ধ করে। মূলত জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যাপারে মানুষকে আরও উৎসাহী করে তোলা এবং ব্যতিক্রমধর্মী সব আবিস্কারকে স্বীকৃতি দেওয়াই ইগ নোবেল প্রাইজের আসল উদ্দেশ্য। সে হিসেবে ইগ নোবেল প্রাইজকে নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

২৫ টি মজার ইগ নোবেল প্রাইজ কে তুলে ধরা হয়েছে নিচের ভিডিওটিতেঃ


এবার চলুন নির্বাচিত কিছু ইগ নোবেল প্রাইজ বিজয়ীদের নাম ও তাদের কাজের কথা জানা যাক।

১। ২০০২ সালে N. Bubier, Charles Paxton, Phil Bowers এবং D. Charles Deeming বায়োলজি বিভাগে ইগ নোবেল পুরস্কার পান। তারা গবেষণা করেন উটপাখির উপর। তবে তাদের গবেষণার বিষয়টি ছিল অদ্ভুত আর মজার। উটপাখির খামারের মালিকেরা দেখতে পান যে উটপাখিকে খামারে আবদ্ধ অবস্থায় রেখে মানুষের তত্ত্বাবধানে লালন পালন করলে এরা বেশী পরিমানে এবং তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি করে। এর কারণ অনুসন্ধানে নেমে উপরে উল্লিখিত বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে খামারে উটপাখিরা যখন মানুষের সান্নিধ্যে আসে তখন এরা বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং যৌন ক্রিয়ায় অধিক আগ্রহ দেখায়। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম পুরুষ প্রজাতির কোন প্রানী প্রজনন মৌসুমে একই প্রজাতির স্ত্রী সদস্যকে দেখলে যেমনটি উত্তেজিত হয় উটপাখিও মানুষকে আশেপাশে দেখলে তেমন উত্তেজিত হয়ে ওঠে! এবং ফলশ্রুতিতে তাদের প্রজনন ক্ষমতা ও প্রজনন হার দুটোই বৃদ্ধি পায়!

২। ২০০০ সালে শান্তিতে ইগ নোবেল দেওয়া হয় The British Royal Navy কে। ঐ বছর ব্রিটিশ সরকার সামরিক বাজেট হ্রাস করে। অনেকটা এর নীরব প্রতিবাদস্বরূপ ব্রিটিশ নেভি শিক্ষানবিসদের কামানের গোলা কিভাবে ছুঁড়তে হয় সেটা শেখানোর সময় সত্যিকারের গোলা ব্যবহার না করে গোলা ছোঁড়ার সময় বাচ্চাদের মত খেলার ছলে মুখে "ব্যাং" বলে শব্দ করে! এ নিয়ে গণমাধ্যমে ঐ সময় বেশ তোলপাড় হয়।

৩। ২০০৯ সালে গণস্বাস্থ্য বিভাগে ইগ নোবেল দেওয়া হয় Elena Bodnar, Raphael Lee, and Sandra Marijan কে। এই দলটি এমন এক ধরনের ব্রা আবিস্কার করেন যেটি একই সাথে ব্রা এবং ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়! যদিও জিনিসটা প্রাথমিকভাবে খুব হাস্যকর শোনায় তথাপি আবিস্কারকদের দাবি এতে করে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা জরুরি অবস্থায় ব্রা পরিধানকারী খুব সহজেই তার ব্রাটিকে দুটি ফেস মাস্কে রূপান্তর করে ফেলতে পারবেন এবং একটি তিনি তার নিজের জন্যে রেখে অন্যটি তার সঙ্গীকে দিতে পারবেন!
ইগ নোবেল প্রাইজ প্রদান অনুষ্ঠানে এলেনা ও তার টিম এর কথা শুনতে নিচের ভিডিওটি দেখুনঃ

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×