
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:
এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক থ্রিলার। বাস্তব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে কাহিনির প্রয়োজনে ও থ্রিলারের নান্দনিকতা রক্ষার্থে কল্পনার রঙে রূপান্তর করা হয়েছে।
প্যারিসের আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে ‘পিতিয়ে-সালপেত্রিয়ের’ হাসপাতালের করিডোরটা তখন প্রায় নীরব। রাত ৩টা ৪৫ মিনিট। জরুরি বিভাগের স্ট্রেচারে করে আনা রক্তে ভেজা দেহটা দেখে ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিএসই’-এর সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর মার্ক বোনেটের হাত থেকে নোটবুকটা মাটিতে পড়ে গেল।
প্রিন্সেস অব ওয়েলস!
অপারেটিং থিয়েটারের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল ফরাসি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী—জাভিয়ের। মার্ক তার কাঁধে হাত রাখতেই জাভিয়ের কেঁপে উঠল। নিচু স্বরে, রুদ্ধশ্বাসে সে বলল, "মার্ক, আমি যখন ওনাকে গাড়ি থেকে বের করি, উনি কথা বলছিলেন। বলছিলেন, 'হায় ঈশ্বর, কী হয়ে গেল!' উনি পুরোপুরি সজ্ঞান ছিলেন, মার্ক। কিন্তু হাসপাতালে আনার মাঝের সময়টায়..."
"মাঝের সময়টায় কী, জাভিয়ের?" মার্কের স্বর নেমে এল এক অদ্ভুত গাম্ভীর্যে।
জাভিয়ের কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। করিডোরের শেষ প্রান্ত থেকে সাধারণ স্যুটে দুজন লোক শান্ত পায়ে এগিয়ে আসছে। তাদের চালচলনে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কিন্তু চোখ দুটো বরফের মতো শীতল। লোক দুটি জাভিয়েরের পাশে এসে দাঁড়াল। তাদের একজন বলল, "মঁসিয়ে জাভিয়ের, আপনার নাইট-শিফটের ডিউটি শেষ। অফিশিয়াল ডিক্লেয়ারেশনের জন্য আপনাকে হেডকোয়ার্টারে যেতে হবে।"
জাভিয়ের মার্কের দিকে এক পলক তাকাল। সেই দৃষ্টিতে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। সে আর কোনো কথা না বলে লোক দুটির সঙ্গে হাঁটতে শুরু করল এবং হাসপাতালের দীর্ঘ অন্ধকার করিডোরে মিলিয়ে গেল।
মার্কের মনের ভেতর একটা খটকা তৈরি হলো।
ঘড়িতে তখন ভোর ৪টা। ডায়ানাকে মৃত ঘোষণা করা হলো। আর ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে এক সংবাদ সম্মেলনে অফিশিয়াল ন্যারেটিভ প্রকাশ পেল—মদ্যপ ড্রাইভারের বেপরোয়া গতি এবং পাপারাজ্জিদের তাড়া করার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিছক একটা পথদুর্ঘটনা হলে, ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মী এত দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায় কীভাবে?
লন্ডন। ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭।
এমআই৬ (MI6)-এর আন্ডারগ্রাউন্ড আর্কাইভ সেকশনে কাজ করছিল তরুণ অ্যানালিস্ট ড্যানিয়েল। পঁ দ্য ল’আলমা আন্ডারপাসের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ফুটেজের এনক্রিপ্টেড ফ্রেমগুলো সে একের পর এক ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণ করছিল।
মার্সিডিজ গাড়িটি পিলারে ধাক্কা খাওয়ার ঠিক ১.৫ সেকেন্ড আগের একটি ফ্রেমে এসে ড্যানিয়েল থমকে গেল।
মার্সিডিজের পেছনের সাদা রঙের একটি ফিয়াট ইউনো গাড়ির ছাদ থেকে বিকিরণ হওয়া একবিন্দু তীব্র আলো দেখা যাচ্ছে। এটা পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার স্বাভাবিক ফ্লাশ নয়। ফ্লাশের আলোর বিন্যাস ছড়ায় গোলাকার হয়ে, কিন্তু এই আলোটি একমুখী, সরলরেখায় চালকের উইন্ডস্ক্রিনে আঘাত করছে।
ড্যানিয়েল আলোটির ওয়েভলেংথ ও পিক্সেল স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করতে পাঠাল তাদের টেকনিক্যাল ল্যাবে।
কয়েক ঘণ্টা পর ল্যাবের রিপোর্ট ড্যানিয়েলের কম্পিউটারে এল। রিপোর্টে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, শুধু একটি ক্লাসিফাইড ডিফেন্স ম্যানুয়ালের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে: 'Project Flash-Disorientation: A Non-Lethal Tactical Asset for Motorcade Interception.'
ড্যানিয়েল সোজা চলে গেল তার সিনিয়র অফিসার স্যালমনের রুমে।
"স্যালমন স্যার," ড্যানিয়েল ফাইলটা টেবিলে রাখল। "অঁরি পলের রক্তে অ্যালকোহল পাওয়া গেছে, সত্যি। কিন্তু ধাক্কা লাগার মুহূর্তটিতে তার দৃষ্টিশক্তি সাময়িকভাবে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আলোটার spectrum স্বাভাবিক camera flash-এর সঙ্গে মিলছে না। সাধারণ পাপারাজ্জির পক্ষে এই ডিভাইস বহন করা অসম্ভব।"
স্যালমন কফি মগে চুমুক দিলেন। তার চেহারায় কোনো বিরক্তি বা চমক দেখা গেল না। তিনি শান্ত কণ্ঠে বললেন, "ড্যানিয়েল, অ্যানালিস্টদের কাজ ডেটা সাজানো, সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। যে তথ্য দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, সে তথ্য কেবল ডেটাবেসের একটা এরর ফাইল মাত্র। ফাইলটি ড্রপ করো।"
স্যালমন কিন্তু হুমকি দিলেন না, চেঁচামেচিও করলেন না। আর এই অতি-সাধারণ ও শীতল আচরণই ড্যানিয়েলকে বুঝিয়ে দিল—বিষয়টি কোনো ব্যক্তির অপকর্ম নয়; এর পেছনে স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্রের নীরব মৌনতা রয়েছে।
প্যারিসের এক নিভৃত লাইব্রেরি।
লন্ডন থেকে অফ-ডিউটি ছুটি নিয়ে গোপনে প্যারিসে এসেছে ড্যানিয়েল। সেখানে তার সাথে দেখা ডিজিএসই-এর মার্ক বোনেটের।
মার্ক একটা ট্রান্সফার স্লিপ ড্যানিয়েলের সামনে ধরল। "অঁরি পলের সুইস অ্যাকাউন্টে মৃত্যুর তিন দিন আগে ৫০ হাজার ফ্রাঁ জমা পড়েছে। উৎস? জুরিখের একটি শেল কোম্পানি—'আলফা ট্রেডিং'।"
"আলফা ট্রেডিং?" ড্যানিয়েল পকেট থেকে পিডিএ বের করে ডেটা মেলাতে লাগল। "আমি রাজপরিবারের লজিস্টিকস ডিপার্টমেন্টের পুরনো একটা কনট্রাক্ট ট্র্যাকিং ফাইল চেক করেছিলাম। এই 'আলফা ট্রেডিং'-এর প্যারেন্ট কোম্পানির রেজিস্টার্ড অ্যাড্রেস এবং ব্রিটিশ মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্সের একটা সাব-কনট্রাক্টরের অ্যাড্রেস হুবহু এক।"
ড্যানিয়েল ও মার্ক একে অপরের দিকে তাকাল। কোনো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া নেই, কোনো গুলির শব্দ নেই; কিন্তু ঘরের আবহাওয়ায় এক অদৃশ্য থমথমে পরিবেশ তৈরি হলো।
"আরেকটি তথ্য আছে, ড্যানিয়েল," মার্ক নিচু স্বরে বলল। "অ্যাম্বুলেন্সটি ডায়ানাকে নিয়ে হাসপাতাল পৌঁছাতে সময় নিয়েছে ৩ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ৪০ মিনিট। কেন?"
ড্যানিয়েল একটু থেমে বলল, "তিন কিলোমিটার... ৪০ মিনিট? ফরাসি মেডিকেল প্রটোকল অনুযায়ী তো ট্রমা পেশেন্টকে দ্রুততম সময়ে রিট্রিভ করার কথা।"
"হ্যাঁ। কিন্তু ওই ৪০ মিনিটের রোড ট্রাফিক ডাইভারশনের অফিশিয়াল অর্ডার সাইন করেছিলেন ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আমি সেই ক্লিয়ারেন্স ফাইলে একটা নোট দেখেছি—'Wait for Senior Clearance'."
ড্যানিয়েল শিউরে উঠল। তার মানে, এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার একক কাজ নয়। দুই দেশের কিছু নির্দিষ্ট প্রভাবশালী ক্ষমতার মধ্যে এক নীরব ও অলিখিত সমঝোতা (Collusion) হয়েছিল।
তারা যখন লাইব্রেরি থেকে বের হচ্ছিল, ড্যানিয়েল লক্ষ্য করল রাস্তার ওপারে দুটি ধূসর রঙের সেডান দাঁড়িয়ে। কোনো লোগো নেই, কোনো দৃশ্যমান অস্ত্র নেই। গাড়িগুলো তাদের পিছু নিল না, কিন্তু তারা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কেবল ওপর থেকে নজরদারি চালাচ্ছে।
প্রতিপক্ষ তাদের মারতে চায় না; প্রতিপক্ষ দেখতে চায় তারা কতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপটাই কোনো গুলির চেয়ে বেশি ভয়ংকর।
ডায়ানার শেষকৃত্যের আগের রাত। নর্থ্যাম্পটনশায়ারের এক পুরনো ক্যাথিড্রালের কাছে ড্যানিয়েল ও মার্কের সাথে দেখা হলো রাজপরিবারের এক প্রাক্তন ট্রাস্টি ডোনাল্ডের।
ডোনাল্ড তাদের হাতে ডায়ানার ব্যক্তিগত নথিপত্রের একটি সীলমোহর করা এনভেলপ তুলে দিলেন।
ড্যানিয়েল খামটি খুলল। ভেতরে ডায়ানার নিজ হাতের লেখা একটি চিঠি। চিঠিতে স্পষ্টভাবে নিজের জীবনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সাথে রয়েছে একটি এনক্রিপ্টেড ড্রাইভ—যাতে কিছু ফোন কল রেকর্ডিং ও ফিয়াট ইউনো গাড়িটির ভুয়া নম্বর প্লেট বিক্রির একটা ইনভয়েস রয়েছে।
প্রমাণগুলো এতই পরিচ্ছন্ন, এতই নিখুঁত এবং এত সহজেই হাতে চলে এল যে ড্যানিয়েলের মনের ভেতর একটা নতুন সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করল।
মার্ক উৎফুল্ল হয়ে বলল, "ড্যানিয়েল, আমাদের কাজ শেষ! ডায়েরি, ট্রান্সফার স্লিপ, লেজার ফাইলের ক্লাসিফাইড কোড—সব মিলিয়ে এই প্রমাণ কাল সকালে আন্তর্জাতিক প্রেসের কাছে পাঠালে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পর্দাফাঁস ঘটবে!"
ড্যানিয়েল চিঠিটির দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। সে বিড়বিড় করে বলল, "মার্ক... একটা জিনিস চিন্তা করো। আমরা মাত্র চার দিনে এতগুলো গোপন প্রমাণ পেয়ে গেলাম? যে এমআই৬ বা ডিজিএসই বিশ্বজুড়ে নিজেদের অস্তিত্ব গোপন রাখতে পারে, তারা এতগুলো ক্লু পেছনে ফেলে যাবে?"
মার্ক থামল। "তুমি কী বলতে চাইছ?"
"আমি বলতে চাইছি... এই প্রমাণগুলো কি সত্যি আমরা খুঁজে পেয়েছি, নাকি কেউ খুব সূক্ষ্মভাবে এগুলো আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে? ডায়ানার মৃত্যুর পর যে তীব্র জনরোষ আর রাজপরিবার বিরোধী হাওয়া বইছে, তা সামাল দিতে হয়তো অন্য কোনো একটি শক্তিশালী পক্ষ চায় এই ষড়যন্ত্রের দায়ভার অন্য আরেক পক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে। আমরা কি সত্যান্বেষী, নাকি অন্য কোনো বড় দাবা খেলার ঘুঁটি?"
ঘরের মধ্যে এক গভীর ও ভারী নীরবতা নেমে এল। সত্যটা এখন আর সরলরেখায় নেই; তা এক জটিল ও কুয়াশাচ্ছন্ন ল্যাবিরিন্থে পরিণত হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭। লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে।
সারা বিশ্ব টিভিতে সরাসরি দেখছে প্রিন্সেস ডায়ানার শেষকৃত্য। রাস্তার দুপাশে লাখ লাখ মানুষের স্তব্ধ উপস্থিতি। কফিনের পেছনে নিচু মাথায় হেঁটে চলেছে ডায়ানার দুই নাবালক সন্তান—১৫ বছরের উইলিয়াম আর ১২ বছরের হ্যারি।
ভিড়ের খানিকটা পেছনে, একটি পাইন গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে ড্যানিয়েল ও মার্ক।
মার্ক ড্যানিয়েলের দিকে তাকাল। ড্যানিয়েলের কোটের পকেটে রয়েছে সেই এনক্রিপ্টেড ড্রাইভ ও নথিপত্র।
"তাহলে?" মার্ক অনুচ্চ স্বরে প্রশ্ন করল। "আজ মিডিয়া সেন্টারে এই ফাইলগুলো ড্রপ করলে সত্যিটা সামনে আসবে। কিন্তু কাল থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, ফরাসি সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি নড়ে উঠবে। আর এই দুটি বাচ্চা ছেলে... সারাজীবনের জন্য একটা নরকের মধ্যে পড়ে যাবে। কিন্তু এটাই কি ন্যায়বিচার নয়?"
ড্যানিয়েল পকেটে হাত দিল। আঙুলের স্পর্শে ঠান্ডা ধাতব ড্রাইভটি অনুভব করল।
সে ভাবল—সত্য জানা আর সত্য প্রকাশ করা, দুটি কি আসলেই এক জিনিস? যে সত্য সমাজকে ভাঙনে ঠেলে দেয়, যে সত্য দুটি অনাথ শিশুর শৈশবকে চিরতরে বিষাক্ত করে দেয়, আর যে সত্য একটি বড় রাজনৈতিক চালের অংশ হতে পারে—সেই সত্য প্রকাশ করার নৈতিক দায়িত্ব কার?
ড্যানিয়েল ড্রাইভটি বের করল। এক মুহূর্ত সেটির দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে ড্রাইভটি নিজের পকেটে ফিরিয়ে নিল।
মার্ক কিছু বলল না। শুধু ড্যানিয়েলের চোখের দিকে তাকাল।
"তাহলে?" মার্ক আবার শুধাল।
ড্যানিয়েল উত্তর দিল না। বহু দূরে ডায়ানার কফিনের ওপর রাখা সাদা ফুলের তোড়াটার দিকে তাকিয়ে সে শুধু নিচু কণ্ঠে বলল—
"Not today."
ড্যানিয়েল ঘুরে দাঁড়াল। কলারটা তুলে দিয়ে সে লন্ডনের কুয়াশাচ্ছন্ন শোকার্ত জনসমুদ্রের ভেতরে ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় থেকে গেল কেবল একটি মর্মান্তিক 'সড়ক দুর্ঘটনা' হিসেবেই। অফিশিয়াল রিপোর্ট প্রস্তুত হলো, তদন্ত শেষ হলো। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে আর নীরবতার গভীরে এই সত্য চিরকালের জন্য বন্দি হয়ে রইল—যা হয়তো কোনোদিন আলোর মুখ দেখবে না, কিন্তু ইতিহাসকে নীরব অপরাধবোধে তাড়া করে ফিরবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

