
১৯৭১ সাল। পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ তখন তুঙে। পাকসেনারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। বিদ্রোহি মুক্তিসেনারা একের পর এক চোরাগোপ্তা হামলায় পাকবাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। ইন্ডিয়া এখনও সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি, কিন্তু তারা মুক্তিকামী পুর্ব পাকিস্তানিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষন, যুদ্ধসরঞ্জাম দিয়ে সব রকমের সাহাজ্য করে যাচ্ছে। আমেরিকা ও চিন প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে। ওদিকে সোভিয়েত রাশিয়া জোট বেঁধেছে ইন্দিরা গান্ধির সাথে। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে পাক ভারত পরিস্থিতির দিকে। এখান থেকেই আমাদের গল্প শুরু।
সময়ঃ ডিসেম্বর ৪, ১৯৭১
স্থানঃ সিকিউরিটি কাউন্সিল, ইউএন
জাতিসংঘে সোভিয়েত রাশিয়ান প্রতিনিধি তার কালো স্যুটের ভেতরে ঘেমে নেয়ে গেছেন। বিশাল বড় হলঘর ভর্তি ১১৫ টি দেশের প্রতিনিধি এখন তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার পরবর্তি পদক্ষেপটির উপর নির্ভর করছে সাউথ এশিয়ান এবং সেই সাথে খুব সম্ভবত সারা পৃথিবীর পরবর্তি ১০০ বছরের ভবিষ্যৎ। রেজ্যুলুশনটি এই রকমঃ পাকিস্তানে চলমান গৃহযুদ্ধে ইন্ডিয়া তাদের সশস্ত্র অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। সেই সাথে এই রেজ্যুলুশনটি আমেরিকাকে তার সপ্তম নৌবহরের সম্পুর্ন শক্তি দিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ মেটাতে সাহাজ্য করার বৈধতা দেবে। মাত্র ৪ টি সদস্য রাষ্ট্র বাদে পৃথিবীর আর সবকটি দেশের প্রতিনিধি আজ এক ছাদের নিচে উপস্থিত হয়েছেন। এই রেজ্যুলুশনটির গুরুত্ব বুঝতে কারো বাকি নেই। কি হবে সাউথ এশিয়ার পরিনতি? কি হবে সোভিয়েত রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ? গোটা পৃথিবী রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে।
রাশিয়ান প্রতিনিধি অন্যান্য সদস্যদের দিকে তাকালেন। আমেরিকান এম্বাসেডর জর্জ ডব্লিউ বুশের ঠাণ্ডা দৃষ্টি তার নজর ছুয়ে গেল। সেই দৃষ্টিতে ছিল প্রচ্ছন্ন হুমকির নিরব ইংগিত। রাশিয়ান প্রতিনিধি লম্বা শ্বাস টানলেন।
এবং রেজ্যুলুশনটির পক্ষে ভোট দিলেন।
মোট ১০৫ টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের ভিত্তিতে রেজ্যুলুশনটি গৃহীত হল।
পাকিস্তান ও আমেরিকান সেনাবাহিনীর যৈথ প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ১৬ই মার্চ মেজর জিয়াউর রাহমানের আত্মসমর্পন ও জেড ফোর্সের পতনের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের অবসান হল। জিয়াউর রহমানের মিলিটারি আদালতে বিচার হয়। মিলিটারি আদালতের রায় অনুযায়ি ১৯৭৪ সালের ১৩ই মে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বাঙালি জাতির নেতা শেখ মুজিবের বিশেষ আইনের অধিনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারকার্য চলছিল। ১৯৭৩ সালের ২২ই নভেম্বর মাসে বিচার অসম্পন্ন অবস্থায় শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগারে তার নিজ সেলে আত্মহত্যা করেন। অবশ্য কতিপয় ব্যক্তি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু এর সপক্ষে কোন জোরালো প্রমান পাওয়া যায়নি। মুজিব পরিবারের সকল সদস্যকে আজীবন কালের জন্যে গৃহবন্দি করা হয়।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি যুদ্ধাবসানের পরপরই গা ঢাকা দিলেন। তার পরবর্তি কার্যক্রম সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তিনি ভারতে বেনামে বসবাস করছেন, বাংলাদেশের কোন এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাকসেনার গুলিতে নিহত হয়েছেন, পার্বত্য অঞ্চলে গোপনে আবার বিদ্রোহীদের একত্র করে শক্তিসঞ্চারের চেষ্টা করছেন; এমন বেশ কিছু কথা তার সম্পর্কে প্রচলিত আছে।
১৯৭৬ সালে পাকিস্তানকে নতুন করে ইউনাইটেড স্টেটস অফ পাকিস্তান নামকরন করা হয়। নব গঠিত এই পাকিস্তানি রাষ্ট্র দক্ষিন এশিয়ায় মার্কিন মদদপুষ্ট এক দুর্দমনিয় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭১ এর বেইমানীর শাস্তি স্বরূপ বাঙালি জাতির কাছ থেকে তাদের নাম পরিচয় কেড়ে নেয়া হয়। সমগ্র পুর্ব পাকিস্তানকে নতুন করে নামকরণ করা হয় ডিসট্রিক্ট ইলেভেন। ডিসট্রিক্ট ইলেভেনের বাসিন্দাদের জন্যে উচ্চপদে চাকুরি, উচ্চ শিক্ষাসহ বেশির ভাগ সরকারি সুযোগ সুবিধা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এই এলাকার অধিবাসীদের মুলত কৃষিকাজ, খনি শ্রমিক ও ফ্যক্টরিতে নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারি হিসেবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেয়া হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়ন তার পুর্ন শক্তি নিয়ে এখনও টিকে আছে। শুধু টিকেই নেই, অর্থনিতি, বিজ্ঞান ও সমরাস্ত্রে বিশ্বে আমেরিকার পাশাপাশি দ্বিতীয় সুপার পাওয়ার হিসেবে সবার উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। পৃথিবী আরেকটা বিশ্বযুদ্ধের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।
****
রুমি ম্যথমেটিক্সের ক্লাস নিচ্ছে। ক্লাসে মোট ষোলজন ছাত্র-ছাত্রি। একেক জনের একেক বয়স। সবাই মনযোগ দিয়ে রুমির কথা শুনছে। রুমির মা জাহানারা ইমাম দূর থেকে দেখছেন। তিনি প্রায়ই এমন দূর থেকে দাঁড়িয়ে ছেলের শিক্ষকতা দেখেন। তার ভীষণ ভালো লাগে। রুমি অবশ্য ব্যপারটা একদম পছন্দ করে না। সে বলে মা এভাবে তাকিয়ে থাকলে তার ক্লাস নিতে নার্ভাস লাগে। আর ওর ছাত্রেরাও ব্যপারটা নিয়ে মজা করে। রুমির খারাপ লাগলে লাগুক। জাহানারা ইমামের তাতে কিছু আসে যায় না।
ডিসট্রিক্ট ইলেভেন এ কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নেই। মাধ্যমিক শিক্ষার পরেই ছেলেদের সবাইকে কর্মক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয়ার নিয়ম। মেয়েদের তো শিক্ষার কোন ব্যবস্থাই নেই। তারা কয়েকজন মিলে খুব গোপনে একটা কলেজ চালান। ছাত্র পাওয়া খুব মুশকিল। কেউ তাদের ছেলে মেয়েকে কলেজে পাঠাতে চায় না, ধরা পড়লে শাস্তি অতি ভয়াবহ। তারপরেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জাহানারা ইমাম নিজে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে বুঝিয়েছেন। তার বুঝানোতে কাজ হচ্ছে, কিন্তু খুব ধিরে।
আজ একটা বিশেষ দিন। আজকের এই দিনে রুমির বাবা নিখোঁজ হয়ে যায়। ১৯৭২ সালে যুদ্ধ শেষ হবার পরে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে যুদ্ধাপরাধি তকমা দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। সেই একই অভিযোগে ২৩শে জুলাই রুমির বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, যদিও তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি। তার আর কোন হদিশ পাওয়া যায়নি। মানুষটা বেঁচে আছে না মরে গেছে তারা আজও জানেন না। আজকের সকালটা শুরু হয়েছে রুমির বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে দিয়ে। জাহানারা ইমাম স্বামীকে উদ্দদেশ্য করে কিছু কথা বলেছেন। রুমি কিছু বলেনি, কখনো বলে না। ও শুধু চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
ক্লাস শেষ করে রুমি এগিয়ে এল। মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসল। মা তার চুল এলোমেলো করে দিলেন। রুমি জিজ্ঞেস করল, “সিক্রেট কাউন্সিলের মিটিং শুরু হয়ে গেছে না? তুমি এখানে কি করছ?”
মা বললেন, “আমি তোর জন্যে অপেক্ষা করছি, তকে ছাড়া মিটিং শুরু হবে না।”
মা-ছেলে হাত ধরাধরি করে রওনা হয়।
****
পঞ্চম এশিয়ান সায়েন্স এক্সপো শুরু হতে যাচ্ছে করাচিতে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিজ্ঞানে তাদের বড় বড় আবিস্কারগুলো নিয়ে হাজির হবে একই ব্যনারের নিচে। চার বছর পর পর হয় এই এক্সপো। এবারের আয়োজনে সবার চোখ পাকিস্তানের দিকে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিজ্ঞানি নওশাদ ফিউশন রিএকশ্যন এনার্জির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তার তৈরি ফিউশন রিএক্টরের প্রোটোটাইপ এক্সপোতে প্প্রথম পাব্লিকের সামনে উন্মোচন করা হবে। এটাই এবারের এক্সপোর বিশেষ আকর্ষণ। তাই সিক্রেট কাউন্সিলের পরিকল্পনা হচ্ছে সায়েন্স কাউন্সিলে স্যবোটাজ করা। ইন্ডিয়া থেকে কিছু মিলিটারি গ্রেডের সিফোর এক্সপ্লোসিভ আনা হয়েছে। কাউন্সিলের ইচ্ছা নওশাদের সাধের ফিউশন রিএক্টর উরিয়ে দেয়া।
কাউন্সিলের সভাপতিত্য করছেন বেগম খালেদা জিয়া। কাউন্সিলে তাকে সম্বোধন করা হয় “এম” বলে। আন্ডারগাউন্ডে তার আরেকটা নাম প্রচলিত আছে, “দ্যা ড্রাগন লেডি”। এই মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুর পর এক বিস্ময় নারি রুপে আবির্ভুত হয়েছেন। রন কৌশল ও কূটনীতিতে তার জুরি মেলা ভার। অনেক মনে করেন, এমনকি জিবিত থাকলে জিয়াউর রহমানও তার স্ত্রীর এহেন দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হতেন। স্টাইক ফোর্সের তালিকাটা আজ এম চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছেন। তারা অপেক্ষা করছিলেন রুমি ও তার মায়ের জন্যে। এম এর ইচ্ছা রুমিই পুরো অপারেশনের দায়িত্ব নেক। রুমি ঘরে ঢুকেই দেরির করার জন্যে ক্ষমা চাইল। এম মিটিং শুরু করলেন।
অপারেশন লেআউট চূড়ান্ত করা হল। স্ট্রাইক ফোর্সের সদস্যদের একটা প্রাথমিক তালিকা আগেই করা ছিল। সেটা নিয়ে অ্যাঁরও কিছুক্ষণ কাটাছেড়া করা হল। মিশন প্ল্যান এম এর পছন্দ হচ্ছে না। সেটা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলল।
সব যখন মোটামুটি ঠিকঠাক, ঠিক তখনি ওয়াচডগ ছেলেটা দৌরে এল, “সর্বনাশ হয়েছে, পুলিস পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলেছে।”
“সেকি!! পুলিশ!!”
ঘরের মধ্যে একরকম হুটোপুটি লেগে গেল। রুমি চিৎকার করে উঠল, “তোমারা কেউ এম এর সাথে যাও। যে কোন মুল্যে এমকে বের করে নিয়ে যেতে হবে।”
তারা খুব বেশি সময় পেলেন না। কিছু বুঝার আগেই মুর্হমুর্হ গগন বিদারি শব্দে বাড়িটা কেপে উঠল। প্রায় সাথে সাথেই বাড়ির সবগুলো বাতি এক সাথে নিভে গেল। চারিদিকে ঘন অন্ধকার। কিচ্ছু দেখা যায় না। এরই মাঝে তীক্ষ্ণ মেশিনগানের গুলির আওয়াজ আর কিছু সম্মিলিত আর্তনাদ শোনা গেল। রুমির বুক শুকিয়ে গেল। পুলিশের কাছে নাইট ভীষণ গগলস আর হিট ভিসন রয়েছে। একটু পরেই ও বাতাসে একটা মিষ্টি গন্ধ পেল। সর্বনাশ, পুলিশ এয়ার ভেন্টিলেশন সিস্টেমে নার্ভ গ্যস ছেরে দিয়েছে। আজ বুঝি আর রক্ষা নেই। অন্ধকারেই সে মায়ের হাত ধরে ছুটতে লাগল।
প্রায় একঘন্টা পরে একটা কালো সিডান গাড়িকে তীব্র বেগে আশুলিয়ার পথ ধরে ছুটে যেতে দেখা গেল। গাড়ির ড্রাইভিং সাইট বসে আছে রুমি, ব্যক সিটে তার মা। রুমিএ এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না তারা বেঁচে বের হয়ে এসেছে। অন্যদের কি খবর কে জানে! এম কি নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন কিনা জানা দরকার। কিন্তু এই মুহুর্তে খবর নেয়ার উপায় নেই। এখন সেল ফোন বা ল্যন্ড লাইন ব্যবহার করা খুবই বিপদজনক।
রুমি রিয়ারভিউ মিররে চোখ রেখে বলল, “মা বোধ হয় এবারের মত বেঁচে গেলাম। আর ঘন্টা দুয়েক এভাবে যেতে পারলেই আমরা সাভার সেফ হাউজে পৌছে যাব। তারপর আর চিন্তা নেই।” জাহানারা ইমাম উত্তর দিলেন না। রুমি জিজ্ঞেস করল, “মা, সাভারে গেলে হায়াত আঙ্কেলের সাথে তুমি যোগাযোগ করতে পারবে না?”
এবার ও উত্তর পাওয়া গেল না। রুমি ঘুরে ব্যকসিটে মায়ের দিকে তাকাল। জাহানারা ইমামের অচেতন দেহটা গা এলিয়ে পরে আছে। গুলিটা লেগেছে ঠিক পেটের মাঝখানে, ব্যক সিট লাল রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
এই মুহুর্তে কোন হাসপাতালে যাওয়া মানে আত্মহত্যা করা। আর রুমির জানা মতে সবচে কাছের হাসপাতালটাও দশ মেইল দূরে। রুমি পাগলের মত গাড়ি ছোটাল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। জাহানারা ইমাম মিনিট পাচেকের জন্যে জ্ঞান ফিরে পেলেন। ক্লান্ত গলায় তিনি ছেলেকে ডেকে গাড়ি থামাতে বললেন। বললেন তার পাশে কিছুক্ষণ বসতে। ছেলে মায়ের কথা শুনল। গাড়ি থামিয়ে মায়ের পাশে গিয়ে বসল। মা ছেলের কোলে মাথা রাখলেন, শেসবারের মত ছেলের মুখটা স্পর্শ করলেন। তারপর নিজের শেষ শক্তিটুকু একত্র করে বললেন, “...... বাবা তোকে একটা কথা কখনো বলা হয়নি... গোপন করে গিয়েছি সবসময়... কিন্তু আজ তোর কথাটা জানতেই হবে... এখন তোর উপরেই সবকিছু নির্ভর করছে... তোকে পারতেই হবে...” বলতে বলতে তার মুখে রক্ত উঠে এল। কিন্তু জাহানারা ইমাম বলে চললেন। আজ তাকে বলতেই হবে। যে কথা বলা হয়নি কখনো। আরতো সময় নেই। এখন রুমির হাতেই দেশের চৌদ্দ কোটি মানুষের জীবন নির্ভর করছে। জাহানারা ইমামের শ্বাস ফুরিয়ে আসছে। কথা বলতে বলতে তার কাশি উঠে গেল। তিনি দেখলেন, ছেলে কাঁদছে, তার দু’চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় পানি পরছে। তিনি বললেন, “ভালো থাকিস খোকা।”
চোখের পানিতে রুমির দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে এসেছে। তাই মায়ের মুখে লেগে থাকা হাসিটুকু সে দেখতে পেল না।
এই পর্বটি লিখেছেনঃ আসিফ রেহমান
(চলবে)
(এই গল্পটি লেখা হয়েছে এক প্যরালাল ইউনিভার্স অথবা অল্টারনেটিভ রিয়েলিটি কে কেন্দ্র করে। পাঠক প্লিজ কনফিউজড হবেন না। গল্পটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মোট তিনজন ব্লগার মিলে গল্পটি লিখছি এবং একই পোস্ট তিনজন আলদা আলাদা পোস্ট করছি......
হারানো ছায়া
আসিফ রেহমান
নাজিম-উদ-দৌলা
আশা করি সবাইকে পাশেই পাবো। ভাল থাকবেন সবাই। )
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১২ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



