ধরুন,মখলেছ মিয়া একজন বিরাট বড় মাপের ব্লগার॥ শুধু তাই নয় ফেসবুকেও তিনি খুব হিট। তার প্রচুর ফলোয়ার আর প্রতি পোস্টে তিনি হাজারের উপর লাইক পান। তো মখলেছ মিয়া লেখালেখি করেন নানা বিষয় নিয়ে। তিনি তার লেখা দিয়ে প্রমান করতে চান এই পৃথিবীতে আল্লাহ, গড, ভগবান বলে কিছুই নেই, মোট কথা সৃষ্টিকর্তা বলেই কিছুই নেই। এবং তিনি তার লেখা দিয়ে প্রমান করতে চান ধর্মগ্রন্থ গুলো সব মিথ্যা - সবই বিজ্ঞানের খেলা।
এখন মখলেছ মিয়াকে যদি বলা হয় কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? এর উত্তরে মখলেছ মিয়া অবশ্যই 'না' বলবে এবং নানান রকমের যুক্তি তর্ক দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্ঠা করবে, কুরআন আল্লাহর কোনো বাণী না।
এখন যদি আকাশ থেকে আলোর তৈরি কোনো ফেরেস্তা বা অন্য কিছু এসে মখলেছ মিয়াকে বলে, 'হ্যা, কুরআন সত্যিই আল্লাহর বাণী, কোনো সন্দেহ নেই। তোমাকে এর পুরোটাই মানতে হবে।'
এই কথা শোনার পরে কি মখলেছ মিয়া একদম পুরোপুরি ঈমানদার বা মুসলমান হয়ে যাব??
আসলে হবেনা। মখলেছ মিয়া তখন নানান রকম যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইবে, ঐ আসলে ফেরেস্তা টেরেস্তা কিছুই না - ঐ টা আসলে হ্যালুসিলেশন ছিল কিংবা দেখার ভুল ছিল॥
আবার যদি, মখলেস মিয়ারে প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ আছে এই কথা আপনি বিশ্বাস করেন না কেনো??
স্বাভাবিকভাবেই, অন্য আর দশজন নাস্তিকের মতই মখলেছ মিয়া উত্তর দেবে - "যেহেতু আল্লাহকে কোনোদিন দেখিনি এবং কেউ দেখেনি তাই বিশ্বাস করিনা।"
স্বাভাবিক ভাবে এই দ্বন্দটা হাজার হাজার বছর থেকে হয়ে আসছে। হাজার বছর পূর্বে থেকেই কিছু মানুষ এই একই প্রশ্ন করে যাচ্ছে। যেমন মুসা আঃ এর সময় তার সম্প্রদায়ের কিছু লোক বলেছিলেন - আল্লাহকে না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবো না যে মুসা আল্লাহর প্রেরিত নবী এবং আল্লাহ বলে কেউ আছেন। সুরা বাকারায় আছে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। (আল বাকারা - ৫৫)
এই একই প্রশ্ন হাজার বছর থেকে চলে আসছে, তবে তার সাথে মখলেছ মিয়ার মতো মানুষ আরো কিছু প্রশ্ন যোগ করেছে।
বিজ্ঞান মনষ্ক উঠতি নাস্তিক : আল্লাহ যদি সবকিছুই সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে তাকে সৃষ্টি করলো কে?
হতাশাগ্রস্থ নাস্তিক : সত্যিই যদি আল্লাহ থাকে, তাহলে পৃথিবীতে এত দুঃখ, কষ্ট কেনো? সারা পৃথিবীতে মুসলিমরা এতো মারা যাচ্ছে কেনো?
দার্শনিক নাস্তিক : আল্লাহ বলে কেউ আছে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। যেহেতু আল্লাহকে কেউ দেখেনি এবং এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি তাই আল্লাহ বলে কিছুই নাই॥
উগ্রবাদি নাস্তিক : ধর্মটাই একটা ভাওতাবাজি তাই আল্লা থাকা না থাকার কথা উঠছে কেন?? স্রষ্টা একটা কাল্পনিক বিষয় সব মৌলবাদীদের ধান্দা।
উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর অনেক যুক্তি সম্পন্ন উত্তর আছে কিন্তু তারপরও মখলেছ মিয়ার মতো মানুষরা বিশ্বাস করবেনা যে সত্যিই স্রষ্ঠা বলে কেউ আছেন!!! এর কারণ নাস্তিকতার মুল ভিত্তি হলো অবিশ্বাস। নাস্তিকতার সংগা বিষয়ে উইকিপিডিয়া বলছে, নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যার ২.৩% মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় এবং ১১.৯% মানুষ কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না।
মানে নাস্তিকদের সংখ্যাটা খুব কম। আর নাস্তিক মাত্রই ধরে নেবে যে আল্লাহ নেই॥
কারণটা হাজার বছরের পুরনো - যেহেতু আল্লাহকে তারা দেখেনি তাই বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসেনা। 'বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আল্লাহকে নিজের চোখে দেখছি '- এটাই তাদের বড় যুক্তি!
মানুষ এখন পর্যন্ত সৃষ্টি জগতের ৫% ও বৈজ্ঞানিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি। তাই কেবল মাত্র একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষের পক্ষেই বলা সম্ভব যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই। মানুষ আল্লাহকে তখনি বিশ্বাস করে, যখন সে নিজে থেকে 'উপলব্ধি' করতে পারে যে, তিনি সত্যিই আছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


