মা এলো হাফাতে হাফাতে। এতগুলো বাজার একা টেনে এনে আর দম পাচ্ছিল না। এর মধ্যে মা আসতেই দাদী তিতলির দানশীলতার গল্প শোনালো। আর যায় কোথায়। মা ধরে ঠাস করে চড় মারলো একটা।
- তুমি হাতেম তাইয়ের বাচ্চা হয়েছো না? তোমার আব্বা রক্ত পানি করে টাকা রোজগার করছে। আর তুমি সব বিলাচ্ছো! নিজে কামাই করলে এইসব করো, এখন এতো দানশীল হওয়ার দরকার নাই।
চড় টা যত না লেগেছিল, অপমান হয়েছিল তার চেয়ে বেশী। তিতলি অনেকক্ষন ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল। পরে অবশ্য মায়ের মায়া হলো ওর জন্য, ওকে আদর করতে করতে মা বলেছিল -
- মানুষকে দিতে তো আমারও ইচ্ছা করে মা। কিনতু আমাদের সামর্থ্যের দিকে দেখতে হবে না?
- হুমম..
- তোমার আব্বার অবস্থাটা দেখ। সারাদিন একটুও অবসর পায় না। ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়ে এসে খাওয়ার সময়ও পায় না মানুষটা। আবার ছোটে প্ল্যানিং কমিশানের কাজে। সেখান থেকে যেতে হয় টেমপোরারী প্রজেক্ট ওয়ার্ক করতে। তার সাথের সব প্রফেসররা ইউনিভার্সিটির ক্লাবে বসে তখন আড্ডা দেয়।
- আব্বা তো ওদের সাথে গেলেই পারে।
- তোমার আব্বাও সেখানে গেলে আমাদেরকে কে দেখবে? তারপর তোমার বড় চাচাদেরকে কে সামলাবে? তোমার রেজামামাকেই বা কে লেখাপড়া শেখাবে?
- আচ্ছা মা, তুমি রাগ করো না। আমি আর এমন করবো না।
সেই থেকে কথা রেখেছিল তিতলি। কোনদিন মাকে না বলে কাউকে কিছু দিয়ে দেয়নি। শুধু একবার ওদের স্কুলের সামনে যখন টিফিন কিনছিল তিতলি আর একটা বাচ্চা মেয়ে খুব আশা করে খাবারগুলির দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন টিফিনটা ওকেই দিয়ে দিয়েছিল সে। কিন্তু এতে তো মায়ের রাগ করার কথা না। সে তো নিজের অংশটুকুই দিয়েছে মেয়েটাকে।
কিন্তু আজ সকালে মা'র শাড়ী খুঁজে না পেয়ে মা প্রথমে তিতলিকেই বকা শুরু করলো। যেন ওর আর কোন কাজ নেই, সারাদিন কাপড় বিলি করে বেড়ায়। কিছুক্ষন পর মা ঠিকই শাড়ীটা পেল...তিতলি তখন অভিমানে স্কুলে চলে গেল। মার সাথে একটাও কথা বলেনি। জড়িয়ে ধরে চুমুও খায়নি। দেখবে মজা এবার।
(চলবে)
প্রকাশ: পরবাস
ছবি: সাহিদুর রহমান
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




