somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেন কুয়াং ইউয়ান ও তার হাতের লেখা কোরান

১৪ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরান মুসলমানদের মূল ধর্মগ্রন্থ। এ গ্রন্থে মোট ৩ লাখেরও বেশি শব্দ রয়েছে । এই ধর্মগ্রন্থকে চীনের একজন প্রবীণ মুসলমান তার নিজ হাতে ৫২৮টি প্রস্তরে খোদাই করে লিখেছেন । তা শিগ্গীরই বিশ্বের সকল মুসলমানের জন্য প্রদর্শিত হবে । প্রস্তরে কোরান খোদাই করার আগে কাগজে হাতে লিখে নেয়ার লেখার মাধ্যমে তাকে লিখে নেয়ার পর তা প্রস্তরে খোদাই করতে হয় । এই পবিত্র ও কঠিক কাজ সম্পাদন করেছেন ছেন কুয়াং ইউয়ান নামে চীনের একজন প্রবীণ ইমাম । তার বয়স প্রায় ৭০ ।

ছেন কুয়াং ইউয়ান চীনের গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চীনের ইসলাম ধর্ম সমিতির মহাপরিচালক । হাতের লেখা কোরান ও তার ভাস্কর্য প্রসঙ্গে এই প্রবীণ ইমাম বলেন ,
একজন মুসলমান প্রস্তর ভাস্কর্য শিল্পীর ইচ্ছানুসারে ছেন কুয়াং ইউয়ান হাতের লেখা কোরানের কাজ সম্পন্ন করেছেন । তিনি এই কাজের ওপর খুব গুরুত্ব দেন । প্রথমে তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে এই কাজ সম্পন্ন করতে না পারার বিষয়টি চিন্তাও করেছিলেন । কোরানের লেখার সুগভীর তাত্পর্যসম্পন্ন কথা বারংবার বিবেচনা করে তিনি অবশেষে এই দায়িত্বকে কবর্ত্য হিসেবে মনে করে তা সম্পাদনের সিদ্ধান্ত নেন । এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের কথা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে ।

২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছেন কুয়াং ইউয়ান ৪ বছরেরও বেশি সময় নিয়ে কোরানের হাতের লেখার কাজ সম্পন্ন করেছেন । নিত্য দিনের কাজ ছাড়াও তিনি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে কোরানকে হাতে লিখে নিয়েছেন । এই বৃদ্ধ নানা বাধা-বিঘ্ন কাটিয়ে উঠে ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতি ও মনোবল সম্প্রসারণের যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন , তাতে পেইচিংয়ের তুংশি মসজিদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মান হেং ফা খুব মুগ্ধ হয়েছেন । তিনি বলেছেন ,
ছেন কুয়াং ইউয়ান কোরানকে হাতে লিখে নেয়ার কাজ সম্পন্ন করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন , তা চার বছরেরও বেশি সময় লেগেছে । উত্সব হোক, গ্রীষ্মকাল হোক বা শীতকাল হোক না কেন তার কোরানের হাতের লেখার কাজ অব্যাহত ছিল ।

ছেন কুয়াং ইউয়ান প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক একজন প্রবীণ মুসলমান । চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সকল অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে হাতে কোরান লেখার যে কাজ সম্পন্ন করেছেন , তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য । তিনি বলেন , বয়সের জন্য লিখতে লিখতে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হতেন , মাঝে মাঝে তিনি শরীরের অসুস্থতাও বোধ করতেন । কিন্তু তিনি অধ্যবসায়ের সঙ্গে লিখে গেছেন নিরলসভাবে ।

তিনি বলেছেন , পবিত্র কোরান হাতের লেখা একটি খুবই সূক্ষ্ম ও দুরূহ কাজ । এতে কোন ভুল থাকতে পারবে না । তিনি বলেছেন ,
লেখার সময় কোন সংশোধন ও শব্দের অভাব থাকতে পারবে না ।

কোরানের প্রতি ভালবাসা ও অসাধারণ অধ্যবসায়ের ওপর নির্ভর করে তিনি পাবিত্র কোরান হাতে লেখার কাজ সম্পাদন করেছেন । এর পাশাপাশি এই মুসলিম ভাস্কর্য শিল্পী ৫২৮টি প্রস্তরে তার হাতের লেখা খোদাই করেছেন । এই ধরনের প্রতিটি প্রস্তর এক মিটার লম্বা , ০.৫ মিটার চওড়া এবং ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চ । এই সব প্রস্তরের আয়তন ২৬৪ বর্গ মিটার , সেগুলির ওজন ২৬ টন ।

কোরানের হাতের লেখা এই মহা প্রকল্প সম্পাদনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বৃদ্ধ ছেন উত্ফুল্লচিত্তে বলেন যে ,
প্রস্তরে খোদাই করা কোরান প্রদর্শিত হওয়ার পর সুগভীর তাত্পর্য সৃষ্টি হয়েছে । এর আগে যেমন চীন তেমনি পৃথিবীতে প্রস্তরে খোদাই করা কোরান অদ্বিতীয় ছিল । তা ইসলাম ধর্মের বাণী সম্প্রসারণের জন্য বিরাট অবদান রেখেছে ।

ছেন কুয়াং ইউয়ান বলেছেন , বিদেশী মুসলমানরা প্রস্তরে খোদাই করা এই কোরানের ওপর ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছেন । কারণ আরব ও ইসলামী দেশগুলোতে প্রস্তরে খোদাই করা এই ধরনের কোরান কখনো দেখা যায় নি । সেজন্য চীনের মুসলমানরা গৌরব বোধ করেছেন । পেইচিংয়ের তুংশি মসজিদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মান হেং ফা সংবাদদাতাকে বলেন , প্রস্তরে খোদাই করা কোরানের একটি অংশ এখন তুংশি মসজিদে সংরক্ষিত আছে । ফলে এই মসজিদের সুখ্যাতি অনেক বেড়েছে ।

তুংশি মসজিদে প্রস্তরে খোদাই করা কোরানকে এক ধরনের অমূল্য ঐশ্বর্য বলে মনে করা হয় । তুংশি মসজিদ যেমন নামাজ পড়া ও ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান , তেমনি তা পেইচিংসহ সমগ্র চীনের ইসলাম ধর্মের বাণী প্রচারের একটি কেন্দ্র ।

ইমাম ছেন কুয়াং ইউয়ানের সঙ্গে আরেকজন প্রবীণ মুসলমান লিউ স্যু ছেনের পরিচয় হয়েছে ২০ বছরেরও বেশি সময় হল । তিনিও চীনের গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের একজন সদস্য । তিনি বলেন , ছেন কুয়াং ইউয়ান ধর্মীয় ক্ষেত্রের একজন প্রবীণ ও সুধী ব্যক্তি । ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি খুব জ্ঞানী । কোরানের হাতের লেখা একটি মহা প্রকল্প । এতে যেমন ব্যাপকভাবে কোরানের উপদেশ প্রচার করা হয়েছে , তেমনি সমাজতান্ত্রিক সুষম সমাজ গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার ব্যাপারে চীনের ধর্মীয় ক্ষেত্রকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে । তিনি বলেন ,
এতে যেমন ইসলাম ধর্মের শিক্ষা ও উপদেশ প্রচার করা হয়েছে , তেমনি তা সংখ্যালঘু জাতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির প্রতি চীন সরকারের প্রযত্নের পরিচায়ক । ইমাম ছেন কুয়াং ইউয়ান যে এমন একটি মহা প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন , তা অভিনন্দনযোগ্য । এতে চীনের ব্যাপক মুসলমানরা সরকারের যত্ন ও স্নেহ অনুভব করেছেন । চীনে সমাজতান্ত্রিক সুষম সমাজ গড়ে তোলার কর্মসূচীতে এটা সুগভীর তাত্পর্য সৃষ্টি করবে ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরব যেভাবে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২২



সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এবং দ্রুততম ঘটনা। বিশ শতকের প্রথমার্ধেও যে দেশটি ছিল মূলত যাযাবর বেদুইন, পশুপালন এবং সীমিত হজের আয়ের ওপর নির্ভরশীল একটি চরম... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানীক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×