somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারিবারিক সম্পর্ক এবং আচার আচরন কেমন হওয়া উচিত

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে খোঁচা দিয়ে বা আক্রমণাত্মক উপায়ে কথা বললে কী হয় জানেন? এমন আচরণ ভালো একটা মুহূর্তের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়। সবাই একসাথে কিছু মুহূর্ত উপভোগ করছেন। তারপর একজন হয়তো বলে উঠল— তুমি এভাবে বসে আছো কেন? তুমি অমুক কাজটা কেন করেছো? তোমার তো ওটা করার কথা ছিল, করোনি কেন? হয়তো এটা খারাপ কোনো কথাও নয়। আপনি শুধু তার ভালর জন্য ভুল ধরিয়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু আপনি জানেন না সবার সামনে বলায় সে এটাকে কিভাবে নিবে। হয়তো সে ভাল ভাবে নিবে বা মনে কষ্ট পাবে, অপমানিত বোধ করবে। হোক সে ছোট বা বড়। সবারই আত্মসম্মান আছে। এটা আমদের মাথায় রাখা উচিত। নিসঃন্দেহে আপনি তার ভাল চান বলেই ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন।কিন্তু তা বলার আগে চিন্তা করুন চারপাশের পরিবেশ। সে কেমন মুড এ আছে, ... সবচেয়ে ভাল হয় আপনি তা লিখে রাখুনএবং সময় সু্যোগ বুঝে তাকে একা ডেকে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন তাতে আরও বেশি লাভ হবে। সে আপনাকে আরও বেশি রেস্পেক্ট করবে। বিপদে আপদে আপনার পরামর্শ নিবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এই কথাটা আপনি , আপনার মা বাবা।,ভাই বোন,ছেলে মেয়ে সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।

কিন্তু আপনি যদি উল্টো আচরণ নিয়মিত করতে থাকেন একসময় কী হয়? এরফলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে দূরত্ব তৈরী হতে শুরু করে। কেউই এমন কারো আশে পাশে থাকতে চায় না, যে সবসময় শুধু সমালোচনা করে। এমন কারো সাথেও কেউ থাকতে চায় না, যে সবসময় মানুষকে উপহাস করে; অন্যদের অপমান করতে ভালোবাসে।

আপনার কোনো বন্ধুও যদি এভাবে সর্বদা ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আপনি তাকে কল করা বন্ধ করে দেন। তার সাথে আর আড্ডা দিতে চান না।
পরিবারের ভেতরে যদি এমন আচরণ চলতে থাকে, স্বামী স্ত্রী যদি সারাক্ষণ একে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়, ভাই-বোনের মাঝেও যদি এমন ব্যবহার দেখা যায়, তখন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সাথে আর সময় ব্যয় করতে চায় না।
বস্তুত, ঘরের লোকজনের সাথে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলেই একটু পর আলোচনা খুবই খারাপ দিকে মোড় নেয়। কুৎসিত আকার ধারণ করে। আমাকে আপনাকে এ জ্ঞানটা দেওয়া হয়েছে যে, আমরা বুঝতে পারি কখন আলোচনা কুৎসিত দিকে মোড় নিচ্ছে। ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেও কোনো সমস্যা আলোচনা করা যায়। কম ব্যাঙ্গাত্মক, কম আক্রমণাত্মক, কম কষ্টদায়ক, কম সমালোচক উপায়েও কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়। আমাকে আপনাকে কষ্ট করে এই অনুশীলনটুকু করতে হবে।
অনুশীলনটা কী? আমার মুখ খোলার আগে আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে— একটু ভালোভাবে কি ব্যাপারটা তোলা যায়?
]


মনে রাখবেন আপনি আজকে যে সন্তান কে যেভাবে গড়ে তুলবেন সে তার সন্তানকে অবচেতন ভাবেই সেভাবে গড়ে তুলবে। যখন একটা শিশু বা কিশোর বয়সের সন্তানকে সবার সামনে আপনি বার বার তার ভুলের জন্য বকা ঝকা করবেন , সে অপমানিত বোধ করবে এবং মনের কোনে একটু একটু করে ক্ষোভ জন্মাতে শুরু করবে । এবং এটাই সাভাবিক। আস্তে আস্তে করে সে নিজেকে গুটিয়ে নিবে আপনার কাছ থেকে। নিজেকে আস্তে আস্তে দুরে সরিয়ে নিবে। হিনমন্যতায় ভুগতে থাকবে। তার পর একদিন দেখবেন্ সে হয়ে পড়েছে অবাধ্য অথবা একদম চুপচাপ আন সোশ্যাল।অথবা অথর্ব , কনফিডেন্টলেস অথবা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে আজীবন। সবচেয়ে খারাপ দিক হল এটা আস্তে আস্তে তাকে খারাপ সংগ এবং মাদকের দিকেও নিয়ে যেতে পারে ... even suicide. এর জন্য কি সে একা দায়ী হবে? না। আপনিও হবেন এর জন্য দায়ী... মা বাবা... বড় ভাই বড় বোনরা সবাই।

তাই পারিবারিক সমস্যা নিজেরা বসে আলোচনা করে সমাধান করুন। ঠান্ডা মাথায় নরম ভাবে আলোচনা করুন । অন্যের কথা শুনুন... যদি সে ঠিক বলে তাহলে সাপোর্ট করুন ... ভুল বললে নরম ভাবে বুঝিয়ে বলুন। কিছু চাপিয়ে দিবেননা কোন প্রকারে। আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখুন। তার হাতে কিছু জিনিস ছেড়ে দিন... কখনো সমঝোতা করুন ... কখনো ছাড় দিন... কখনও শক্ত হোন... কখনো ভালবাসা দিন ।

মনে রাখবেন Allah is the best planner... He knows all and well. আপনার সন্তানকে আপনার চেয়েও বেশী ভালবাসে আল্লাহ। তাই তিনি কোরাআনে বলে দিয়েছেন কেমন হবে মা বাবার দায়িত্ব , নির্দ্বিধায় তা পালন করুন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।
"তোমরা লোকের সাথে উত্তমভাবে কথা বল।" (সূরা বাকারা, আয়াত, ৮৩)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×