আগেই বলে রাখছি, এটা কোন রিভিউ নয়। শুধুমাত্র আমার নিজের অনুভূতির বর্ণনা। কেউ বই রিভিউ ভেবে পড়ে বিরক্ত হলে আমার কোন দোষ নাই।

কাহিনি সংক্ষেপ
খুনের দায় এড়াতে প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধুর সাথে এক অজপাড়াগাঁয়ে গা ঢাকা দিতে এসে আরো বড় বিপদে পড়ে গেল শিল্পপতির ছেলে জামশেদ। একের পর এক গ্রামবাসি খুন হচ্ছে অজানা কোনোকিছুর হাতে। প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধুর মতে, এটা সেই কিংবদন্তির শ্বাপদ যা গ্রামের পাশের রহস্যময় জঙ্গলে বাস করছে শত বছর ধরে। সত্যিই কি তাই? নাকি সবছিুর ব্যাখ্যা আরো জটিল? জঙ্গলের ভেতরের পুরনো মন্দিরে অবশেষে কার মুখোমুখি হতে হল? অপার্থিব শ্বাপদের, নাকি সেই অসীম ক্ষমতাধরের, যে অন্ধকার জগতের রাজপুত্র, অমরত্বের চাবি যার হাতের মুঠোয়, লৌকিক পৃথিবীর অলৌকিক অধিশ্বর হয়ে উঠতে যার দরকার আর মাত্র একটা...
এই রহস্য উদঘাটন করতে হলে ডুব দিতে হবে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ফেরা একজনের অবিশ্বাস্য জবানবন্দীর গভীরে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
আধিভৌতিক আর হরর, আমার সবচেয়ে প্রিয় জনরা। হররের সাথে যদি থ্রিল যুক্ত হয়, তাহলে যে সেটা অন্য একটা মাত্রা পায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কাহিনি, প্লট, লেখনি - তিনটাই চমৎকার। হরর গল্প পড়ে শেষ কবে ভয় পেয়েছি, মনে পড়ে না। কিন্তু শ্বাপদ সনে'র শিপলুর কেস স্টাডিগুলি পড়ার সময় সত্যিই আমার ভয়ের অনুভূতি হয়েছে। বর্ণনাটা এত নিখুঁত আর প্রাণবন্ত যে আমার মনে হচ্ছিল আমি ঘটনাস্থলেই পৌঁছে গেছি। সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছি রিগর মর্টিস আর চার নম্বর বনবিহারীলাল সেন পড়ে। এমনকি শেষের টুইস্টটাও খুব ভালো লাগছে। সত্যি বলতে কী, ভাবনাতেও আসেনি শেষটা এমন হবে।
তবে কিছু কিছু ব্যাপারে খটকাও আছে। প্রত্যেকটা কেস স্টাডির শুরুতে ব্র্যাকেটে বলা আছে, 'মূল ঘটনার পরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া ছিল'। মূল ঘটনা এক্সেক্টলি যেটা ঘটেছে, সেটার ব্যাখ্যা দেওয়া থাকলে তো মাসিক হালচালের পাঠকেরা কাহিনিতে মুগ্ধ হবে না। কিসের ব্যাখ্যার কথা বলা হয়েছে ওখানে? আর আমার মনে হয়েছে কেস স্টাডিগুলি আলাদা পেজে শুরু হলে পড়তে ভালো লাগতো। তাছাড়া আরো অনেক জায়গাতেই দেখেছি, পেজের মাঝখানে কোন স্পেস বা প্যারা ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্য টপিক শুরু হয়ে গেছে। ওসব জায়গায় স্পেস জরুরী ছিল।
যে ব্যাপারটায় আমার একান্ত নিজস্ব আপত্তি, সেটা হল প্রচুর বাংরেজি শব্দের ব্যবহার। বাংলা সাহিত্যে ইংরেজি শব্দের আধিক্য আমার খুব অপছন্দ। তবে এই ব্যাপারটা মাফ করা যায় এই ভেবে যে, বইটা তো একজনের জবানবন্দির ভিত্তিতে লেখা। সে যেভাবে ভাববে, লেখাটা তো সেভাবেই এগোবে। তবে, "ট্রিভিয়া ম্যান শিপলু" - লাইনটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ।
চন্দ্রবিন্দুজনিত কিছু ভুল ছাড়া আর কোন বানান ভুল চোখে পড়েনি।
এতক্ষণ যেসব ত্রুটির কথা বলেছি, এগুলি আসলে পাঠকের চোখেই পড়বে না। কারণ বইটা এত টেনে পড়তে হবে যে এসব খুঁটিনাটি দেখার সুযোগই হবে না। আমি একটু খুঁতখুঁতে পাঠক বলে এসব দেখার সুযোগ পেয়েছি।
এসব ছাড়িয়ে খুব চমৎকার ব্যাপারটা হল থ্রিলারের মত হররের জন্যও এখন আর বাইরের লেখকের উপর নির্ভর করতে হবে না। প্রথম উপন্যাসেই নাবিল মুহতাসিম ভাইয়া সেটা খুব ভাল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
বই পরিচিতি
বইঃ শ্বাপদ সনে
লেখকঃ নাবিল মুহতাসিম
প্রচ্ছদ: ডিলান
পৃষ্ঠা: ২০৮
মূল্য: ২০০
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ বইমেলা-১৬
রেটিংঃ ৪.৭৫/৫
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



