প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত (গতকালও) কিছু সুশীল ব্যক্তি "বনাম" শব্দটি নিয়ে আবহাওয়া গরম করে তুলতে চান। শিক্ষা খাত সামরিক খাত থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে সামরিক খাতে বরাদ্দ কমানোর দাবিতে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দেন তাঁরা। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এটি একটি প্যারাডক্সের মত। আসুন খাত ওয়ারী কিছু বিষয় ভেবে দেখি।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আপাত: দৃষ্টিতে অলাভজনক। তাইতো ADB/IBRD/IMF অনবরত শর্ত চাপানোর চেষ্টা করে শিক্ষায় (ভর্তুকি) অপচয় বন্ধ করার
আসা যাক সামরিক খাত নিয়ে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী পৃথিবীর স্বল্প কিছু সামরিক বাহিনীর মধ্যে এক নম্বর যা প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন (ব্যক্তিখাতে নয়) করে। আর দেশের ভৌগোলিক সীমা রক্ষায় উন্নত থেকে উন্নততর সামরিক বাহিনীর কোন বিকল্প নেই। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ বিশেষ পরিস্থিতি (অ/প্রাকৃতিক) সামাল দিতেও এ বাহিনীগুলোর কোন বিকল্প নেই। এমনকি সাম্প্রতিক নির্মাণ ত্রুটির জন্য সৃষ্ট সামান্য একটি খাদ ভরাট করতেও সেই সামরিক বাহিনীকেই SOS পাঠাতে হয়েছে
সদস্য সংখ্যা না বাড়ালেও বর্তমান সদস্যদের উন্নত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আনুষাঙ্গিক সুবিধা এবং উন্নত সমরাস্ত্র বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের জলসীমার কাছে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করলে আমাদের অন্তত ৬টি তো করতে হবে। আমাদের সামরিক ভেসেলের উপর ওদের ১০ টি বিমান মহড়া দিলে আমাদের অন্তত ৫ টি তো আকাশে থাকতে হবে। (এ অবস্থা ইতিমধ্যেই একাধিকবার হয়েছে) বড় মাপের অনুপ্রবেশ/হামলা ঠেকাতে কিছু গানশিপ বা আর্টিলারি সাপোর্ট তো থাকতে হবে। অনেকেই ভারত জুজুতে আক্রান্ত বা তা বিক্রি করছেন। গণতান্ত্রিক ভারত কি স্বৈরতান্ত্রিক বার্মার চেয়ে অনেক বড় হুমকি? বিএসএফ যুদ্ধংদেহী আর নাসাকা কি নিরীহ প্রতিবেশি! তাই হুমকি অনেক দিক থেকেই আছে। তা মোকাবিলার প্রস্তুতিও থাকতে হবে।
দেশের অগ্রগতির জন্য যেমন শিক্ষায় ক্রমোন্নতি প্রয়োজন, ঠিক তেমনি দেশের অস্তিত্ত্ব ও স্থিতিশীল অবস্থা রক্ষায় প্রয়োজন উন্নত সামরিক বাহিনী। তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে সামরিক খাতে বাড়তি বরাদ্দ না দিলেও বরাদ্দ কমানোর অবকাশ নেই। আর সংকোচন নীতি গ্রহণ করতে চাইলে শুধুমাত্র ফালতু প্রটোকলগুলো বাদ দিলেই ২/৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ ভর্তুকিতে চালনোর অর্থ সাশ্রয় হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


