আপনি কি বড়ই ঝামেলায় আছেন? কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না? যাকে ভালবাসেন তাকে না পারছেন ছেড়ে দিতে আবার না পারছেন বিয়ে করতে। এমন একটা পরিস্থিতি এখন হর হামেশাই আমাদের সমাজে ঘটে চলেছে। সাধারণত মেয়ের পরিবার থেকে মেয়ের এই সম্পর্ক মেনে নিতে চায় না তার বাবা মা। ছেলের পরিবার থেকেও এরকম ঘটতে পারে। পালিয়ে বিয়ে করে বাসায় যেয়ে যদি নিজেদের কথা বলেন তাহলে কোন বাবা মা ই এ সম্পর্ক মেনে নিতে চান না। বরং তাঁরা তাঁদের ছেলে বা মেয়েকে ত্যায্য করে দিতেও পিছপা হন না।
এই পরিস্থিতি যে কত বেদনাদায়ক তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। অনেক সন্তান আছে বাবা মায়ের উপর রাগ করে তাদের সাথে আর কথাও বলেন না। তারা ধরেই নেন যে তার বাবা মা তাদের আর মেনে নেবেন না। কিন্তু অনেকে সন্তানই হয়ত জানেন না যে এটা তার বাবা কিংবা মায়ের মনের কথা নয়।
এই লেখাতে প্রকাশ করবো কি করে আপনি আপনার বাবা মা কে মানাতে পারেন।
১। যাকে বিয়ে করেছেন তার তাকে প্রাণভরে ভালবাসুন। মনে রাখবেন শুধু আপনারই জন্য তার বাবা মা কে ছেড়ে এসেছে আপনার স্ত্রী / স্বামী। তাই নিজের দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন।
২। আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন। মনে রাখবেন পরিবার আলাদা করে দিলেও আত্মীয়রা কখনো সেটা করবে না।
৩। মাঝে মাঝে নিজের বাসায় ফোন দিয়ে খবরাখবর নিন বাবা মায়ের। তারা কথা বলতে না চাইলেও চেষ্টা করুন মায়ের সাথে কথা বলতে। কারণ একমাত্র মা ছাড়া আপনাকে এত সহজে কেউ বুঝতে পারবে না।
৪। মোবাইলের এই যুগে সেটাকে ভাল কোন কাজে লাগান। বাবার মোবাইলে এস এম এস পাঠান। নানা রকম আনন্দ, বেদনার খবর জা্নান।
৫। ভাল কোন কাজ করতে যাওয়ার আগে তাদের ফোন করে দোয়া চেয়ে নিন। যেমন - নতুন কোন চাকরিতে যাওয়ার আগে তাঁদের ফোন করে জানিয়ে যাওয়া।
৬। নিজের সন্তান হলে আপনার বাবা মাকে যেয়ে দেখানো বা তাঁদের ডেকে পাঠানো ।
৭। কথিত আছে নাতি নাতনিদের মুখের দিকে তাকালেই নাকি শত রাগ দুঃখ নিমিষেই গায়েব হয়ে যায় তাঁদের। যতটুকু সম্ভব সন্তানের দেখভাল করার দ্বায়িত্ব মুরুব্বীদের কাছে ছেড়ে দিন।
৮। নিজের সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে মানুষ করুন। সবসময় তাঁদের সামনে দাদা দাদী / নানা নানী দের সম্পর্ক এ ভাল কথা বলুন। কারণ মনে রাখবেন আপনি আপনার সন্তানকে ভাল কিছু শিখালেই সে ভালটাই শিখবে।
৯। বার বার আপনার কৃতকর্ম এর জন্য বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চান। নিজের সন্তানকেও সাথে রাখুন।
১০। নিজের নতি নাতনির কথা দাদা দাদী / নানা নানী ফেলে দেন না। তাই আপনার সন্তানকে দিয়ে বলান।
১১। নিজেকে একজন সৎ, ভদ্র কেয়ারিং স্বামী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরুন অন্যের কাছে। যাতে পরিবারের সবাই বুঝতে পারে আপনাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।
সবশেষে, প্রতিটা বাবা ম ই চায় তাঁদের সন্তান সুখে থাকুক। তাই এর কোন বিকল্প নেই।
ভাল থাকুন সবাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



