somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবু১৫৪
জীবনে সহজেই কোন কিছু পাবার আশা করাটা বোকামী। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার হয়েই আসতে হয় কাংক্ষিত লক্ষে। এই পথ এত সোজা নয়। অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে সেই পথ চলায়। হয়তো আরো অনেক কোথিন হবে সামনের পথ টুকু। তারপর ও হার মেনে নেয়ার পক্ষে আমি নই। জয়ী যে আমাকে হতেই হবে।

বুঝি নি সে তুমি! :-*:-*

১৯ শে অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
সকাল ৯ টা বেজে ৫ মিনিট,
বরাবরের মতই অফিসে দেরি হয়ে গেল রফিকের। সব ব্যপারে সে ঠিক থাকলেও এই একটা ব্যপারে সে বেশ উদাসীন। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলেও ঠিক সময়মত অফিসে যেতে পারে না। এ নিয়ে বসের কাছে বার বার ঝাড়ি খেয়েও কো্ন কাজ হয় নি। আজ তার অফিসে পৌছাতে প্রায় ১০ টা বেজে গেল। রাস্তায় প্রতিদিনকার মত জ্যাম ছিল। আর এ কারণেই তার আজকে এত দেরি হল আসতে। অফিসে চুপি চুপি ঢুকে বস এর দৃষ্টি এড়িয়ে নিজের রুমে ঢুকে পড়লো রফিক। টেবিলে বসেই কাজে মনোনিবেশ করলো সে।

হঠাৎ রফিকের রুমে বসের আগমন ঘটলো। রফিক তরাক করে উঠে পড়লো স্যার কে দেখে।
স্যার; কি ব্যপার? কখন এলেন?
রফিকঃ ইয়ে মানে, মানে.........
স্যার; কি মানে?
রফিকঃ অনেকক্ষণ স্যার। তা স্যার, আপনি কষ্ট করে আসলেন কেন? আমাকে বলতেন, আমি যেতাম আপনার রুমে।
স্যার; তার দরকার নেই । শুনুন, আপনার সাথে কথা আছে।
রফিকঃ অবশ্যই স্যার, বলুন।
স্যার; এই মেয়েটা নতুন জয়েন করেছে আমাদের অফিসে। তাকে সব কাজ বুঝিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব আমি আপনাকে দিতে চাই।
এতক্ষণ রফিক খেয়ালই করে নি যে স্যার এর পিছনে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্যার এর কথাতে দৃষ্টি ফেরালো সেই নতুন জয়েন করা মেয়েটার দিকে।
রফিকঃ কিন্তু, আমি কেন স্যার?
স্যার; কোন কথা না আর। আপনাকেই দেখতে হবে।
রফিকঃ ঠিক আছে, স্যার।

দুপুর ৩ টা ২৭ মিনিট,
রফিক নিজের রুমে বসে কাজ করছে। এমন সময় সেই মেয়ের আগমন। হাল্কা পরিচয়ে আগেই জেনে নিয়েছিল মেয়েটার নাম। ওর নাম অহনা। রুমে এভাবে অনুমতি না নিয়ে ঢোকাতে অহনাকে ঝাড়ি দিল রফিক। ঝাড়ি খেয়েও মেয়েটার মধ্যে কোন লাজ লজ্জা আছে বলে মনে হল না তার। চোখে মুখে তার উচ্ছলতার ছাপ স্পষ্ঠ। রফিক তাকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে বাহিরে চলে গেল।

২।
পরের দিন সকাল ১০ টা
রফিক কাজ করছিল তার রুমে। হঠাৎ তার মোবাইলে একটা মেসেজ আসলো। অনিচ্ছা সত্তেও মেসেজ চেক করলো সে। তাতে লেখাঃ
“ভাব তো মারেন যেন মনে হয় মিনিষ্টার!”
বেশ অবাক হয়ে গেল এমন মেসেজ পেয়ে রফিক। কে পাঠাতে পারে তাকে, সেটা বোঝার চেষ্টা করলো। নম্বরটাও অপরিচিত।
সাচ পাচ ভাবতে ভাবতেই সে কল করলো সেই নম্বরে। কিন্তু নম্বরটা বন্ধ পেল সে।

৩।
২ সপ্তাহ পরে কোন এক বন্ধের দিনে,
কাজের চাপে ভুলেই গেল সেই মেসেজ়ের কথা রফিক। বসে বসে নিজের রুমে পেপার পড়ছিল সে। হটাৎ আবার মেসেজ এল তার মোবাইলে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে সেই নম্বর থেকে আবার মেসেজ এসেছে। এইবার আর দেরি না করে সরাসরি ফোন দিল রফিক।
রিং হচ্ছে
ওপাশ থেকেঃ হেল্লো (মেয়েলি কন্ঠ)
রফিকঃ কে আপনি?
ওপাশ থেকেঃ (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) আমাকে আপনি চিনবেন না আবার চিনতেও পারেন।
রফিকঃ আমার নম্বর কোথায় পেয়েছেন?
ওপাশ থেকেঃ ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় জনাব!
রফিকঃ (রাগত ভঙ্গিতে) দেখুন, আমাকে মেসেজ দিবেন না আর।
কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রফিক ফোন কেটে দিলো।

৪।
সকাল ১১ টা ০৭ মিনিট
আবার মেসেজ!!
“আপনাকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। প্লিজ না করবেন না।“
রফিক এই মেসেজ পেয়ে রাগে গজ গজ করতে লাগলো। কাজ কাম ফেলে সে এই রহস্য উৎঘাটন করার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু ব্যর্থ হল রফিক। এমন সময় রুমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলো অহনা। রফিককে দেখে সে বেশ অবাক হল।
অহনাঃ স্যার, কি হয়েছে? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
রফিকঃ (উদাসীন) হ্যা, ও নাহ! কিছু না।
অহনা এ প্রসঙ্গে আর কোন কথা না বলে কাজ বুঝে নিয়ে চলে এল রুম থেকে।

৫।
রাত ১১ টা,
রফিক অফিসের একটা অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ করছিল। হঠাৎ নিরবতা ভেঙ্গে দিয়ে মোবাইলে মেসেজ আসলো।
“আপনার সাথে দেখা করতে চাই”
দেরি না করে পাল্টা মেসেজ দিল রফিক
“আমি চাই না।“
উত্তর এলো – “না বললে হবে না”।
রফিকঃ “আপনাকে আমি চিনি না আর আমার কাছেই বা আপনি কি চান”।
উত্তর এলোঃ “বন্ধুত্ব”
অনেক ভেবে চিন্তে রফিক মেয়েটাকে আগামীদিন তার অফিসের নিচে আসতে বললো।

৬।
সকাল সাড়ে ৮ টা,
আজকে বেশ সকাল সকাল চলে এলো রফিক। সেই মেয়েকে রফিক ৯ টায় সময় দিয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে রফিকের ততই টেনশনে হচ্ছে। কে হবে? সে কি করবে এ নিয়ে তার টেনশন এর শেষ নাই।
ঘড়িতে যখন ৯ টা বেজে ১ মিনিট তখন রফিকের সামনে এসে একটা গাড়ি দাঁড়ালো। গাড়ি থেকে নামলো অহনা। রফিক তাকে দেখে –
রফিকঃ অহনা, কি খবর?
অহনাঃ ভাল। কেমন আছেন স্যার? এখানে কি করছেন? উপরে চলুন।
রফিকঃ নাহ। ও হমম। তুমি যাও। আমি আসছি।
অহনাঃ কাউকে খোঁজ করছেন স্যার আপনি?
রফিকঃ নাহ, এমনি।

অহনা কথা বলে সেখান থেকে বিদায় নিল। তার ঠিক ২ মিনিট পর রফিকের মোবাইলে মেসেজ এলো
“দেখা তো হল, চলে আসুন এখন”।

রফিকের এবার অবাক হওয়ার সীমা থাকলো না। তার মানে অহনা দিয়েছে এই মেসেজ। এতদিন কে তাকে মেসেজ দিতো সেটা রফিক বুঝতে পারলো। সিউর হওয়ার জন্য মোবাইলে কল দিল রফিক। সাথে সাথে পিছন ফিরে রফিক দেখলো অহনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে তার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×