একবার ভাবলাম দুরছাই, শতকের বক্তৃতা দিতে হবেই এমনই বা কি দায় পড়েছে। নিয়ম ভেঙ্গে আমি নাহয় শতক ছাড়িয়ে যাই।
একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক কি কি লিখেছি। একশটার মধ্যে বাইশটা লেখা লিখেছি বিভিন্ন ভ্রমন কাহিনী নিয়ে। সাংবাদিকতায় সংবাদের দূরত্ব বলে একটা প্যারামিটার আছে, সংবাদ বা ঘটনা যত দূরের তার গুরুত্ব তত কমে যায়। সেই সুত্রের প্রমান স্বরূপ আমার এই লেখাগুলোর গুরুত্বও কম ছিল। শুধু মাত্র লাস ভেগাস সবার পূর্ব পরিচিত ছিল বলে বেশ লেখক টেনেছিল।
ভ্রমন ছাড়া আমেরিকার সমাজ এবং চলতি বিষয় নিয়ে লিখেছি ষোল/সতেরটার মত। ওপরের একই সুত্র মতে এগুলোও পাঠক টানেনি।
একসময় মনে করতাম আমি ভীষন সাধু-সন্ত টাইপের মানুষ। কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম আসলে আমি ভীষন রকম 'মানুষ'। তার প্রমান পাওয়া যায় আমার কিছু ছেলেমানুষী মার্কা পোস্টে। অবশ্য আমার কাছে সেমস্ত পোস্টের পক্ষে কিছু যুক্তি অবশ্যই ছিল।
নিরানব্বইটা পোস্টের হিট দেখতে পাচ্ছি 18725, গড়ে প্রতি পোস্টে 189 টা হিট। নতুন ফিচার প্রকাশ করলাম যে পোস্টে সেটাতে 208 টা মন্তব্য আসে সেইসাথে গড় হিট 130 থেকে বেড়ে যায়। ওটাই সম্ভবত অনেকের কাছে আমাকে পরিচত করে তোলে।
সামহোয়ারইন থেকে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন নিজের বেশ কিছু লেখা। নিজেকে নিংড়ে নিয়ে কখনই হয়ত প্রকাশ করা হত না এগুলো। আগে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে লিখতাম, তাই লেখার জন্য হাত চুলকাত। কিন্তু ভাল কোন প্লাটফর্ম পাচ্ছিলাম না। এই ব্লগ সেই প্লাটফর্ম যুগিয়ে দেয়। বেশ কিছু ভালো মানুষের সাথেও পরিচয় এখানে এসে।
সামহোয়াইন আমার সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করেছে তা হলো আমার মাস্টার্সের রেজালটে বেশ বড় একটা খুঁত করে দিয়েছে। আর রিসার্চে কাজে আমার মন একেবারেই বসে না এখন। অবশ্য নিজের দোষের জন্য অন্যকে দোষ দিয়ে কি লাভ?
জানিনা সামনে কি লিখব। আদৌ আর সময় দিতে পারব কিনা সে নিয়েও সংশয় আছে। কাজের চাপ বাড়ছে। সঙ্গে ক্যারিয়ারের মোড় পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা। নিজের তেষ্টা মেটানোর জন্য হলেও চালিয়ে যাবার আশা রাখি।
যারা আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন এই 100 টি পোস্টে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করে বা না করে, শুভেচ্ছা জানিয়ে বা গালি দিয়ে - সবাইকে ধন্যবাদ। একসাথে পথ চলার নামই তো জীবন...
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



